সুইজারল্যান্ডের ঘড়ি শিল্প যখন নানা চাপে ধীরগতির মুখে, তখন এক ভিন্ন গল্প লিখছে একটি পারিবারিক ব্র্যান্ড। রেমন্ড ওয়েইল তাদের দীর্ঘদিনের ‘সাশ্রয়ী বিলাসিতা’ ধারণাকে ধরে রেখে ক্রমেই বাড়াচ্ছে বাজারে নিজেদের উপস্থিতি। কোম্পানির প্রধান নির্বাহী এলি বার্নহাইম মনে করছেন, এই মডেলই ভবিষ্যতের পথ দেখাচ্ছে।
পরিবারের ঐতিহ্য, নতুন ভাবনা
১৯৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠান শুরু থেকেই এমন ঘড়ি তৈরি করে আসছে, যা বিলাসবহুল হলেও তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যায়। বার্নহাইম বলছেন, তাদের লক্ষ্য সবসময়ই ছিল এমন পণ্য তৈরি করা, যা সাধারণ ক্রেতার নাগালের মধ্যে থাকে। এই ধারণাই এখন তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে কাজ করছে।
বিক্রিতে উত্থান, বাজারে বিস্তার
সাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী, কোম্পানির বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বছরে প্রায় ৮০ হাজার ঘড়ি বিক্রি হচ্ছে, এবং গড় দামও কিছুটা বেড়েছে। তবে দাম এখনও এমন স্তরে রাখা হয়েছে, যাতে ক্রেতারা সহজেই কিনতে পারেন। এই কৌশলই বাজারে তাদের জনপ্রিয়তা বাড়িয়েছে।
জাপান ও হংকংয়ের মতো নতুন বাজারেও দ্রুত সম্প্রসারণ ঘটিয়েছে ব্র্যান্ডটি। আগে যেখানে এসব জায়গায় তাদের উপস্থিতি ছিল না বললেই চলে, এখন সেখানে একাধিক বিক্রয়কেন্দ্র তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে অনলাইন বিক্রিও বাড়ছে, যা মোট বিক্রির একটি বড় অংশ হয়ে উঠেছে।

নতুন ডিজাইন ও তরুণদের আকর্ষণ
মিলেসিম এবং টোকাটা হেরিটেজ—এই দুটি নতুন সংগ্রহ কোম্পানির বিক্রিতে বড় ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ করে পুরনো ধাঁচের নকশাকে আধুনিকভাবে উপস্থাপন করায় তরুণ ক্রেতাদের আগ্রহ বেড়েছে। এছাড়া জনপ্রিয় সঙ্গীত ব্যান্ড ও শিল্পীদের সঙ্গে যুক্ত বিশেষ সংস্করণের ঘড়ি তৈরি করে তারা নতুন প্রজন্মকে আকৃষ্ট করতে পেরেছে।
সংকটের মাঝেও দৃঢ় অবস্থান
করোনা মহামারির সময় কোম্পানিটি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। সেই সময়ই বার্নহাইম গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেন—ডিজাইন ও পণ্যের দিকনির্দেশনায় সরাসরি নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার। এই পরিবর্তনের ফল খুব দ্রুতই দেখা যায় এবং নতুন সংগ্রহগুলো বাজারে সাড়া ফেলে।
বর্তমান সময়ে যুদ্ধ, মূল্যস্ফীতি এবং কাঁচামালের দাম বৃদ্ধির মতো নানা বৈশ্বিক সমস্যার মাঝেও প্রতিষ্ঠানটি নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে। স্বাধীন কোম্পানি হওয়ায় দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুবিধাই তাদের এগিয়ে রাখছে।
দামই সাফল্যের চাবিকাঠি
বার্নহাইম স্পষ্ট করে বলেছেন, তাদের সাফল্যের বড় কারণ হলো দাম। অনেক ব্র্যান্ড যখন দাম বাড়িয়ে ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে, তখন রেমন্ড ওয়েইল তুলনামূলক কম দামে মানসম্মত পণ্য দিয়ে ক্রেতাদের আস্থা অর্জন করেছে।
ভবিষ্যতের লক্ষ্য
কোম্পানির সামনে এখন বড় লক্ষ্য—পরিবারের চতুর্থ প্রজন্মের হাতে ব্যবসার দায়িত্ব তুলে দেওয়া। বার্নহাইম বিশ্বাস করেন, ঐতিহ্য আর সঠিক কৌশল মিলিয়েই এই যাত্রা দীর্ঘ হবে।
সাশ্রয়ী দামে বিলাসিতার স্বাদ দেওয়ার এই দর্শনই রেমন্ড ওয়েইলকে আলাদা করে তুলেছে, আর ভবিষ্যতেও এই পথেই এগোতে চায় প্রতিষ্ঠানটি।
রেমন্ড ওয়েইলের সাশ্রয়ী বিলাসিতা কৌশল বিশ্ববাজারে সাফল্য পাচ্ছে, নতুন ডিজাইন ও কম দামেই বাড়ছে জনপ্রিয়তা
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















