অস্ট্রেলিয়ার মানুষ জলপ্রপাত ভালোবাসে—হয়তো এ কারণেই যে তারা পৃথিবীর সবচেয়ে শুষ্ক জনবসতিপূর্ণ মহাদেশে বাস করে। কিন্তু জলপ্রপাত শুধু পাহাড় থেকে নেমে আসা পানির ধারা নয়; গরমের দিনে এটি শীতল হওয়ার জায়গা, আবার প্রকৃতির নাটকীয় রূপেরও এক অনন্য প্রকাশ। অস্ট্রেলিয়ার কিছু জলপ্রপাত আবার প্রচলিত সংজ্ঞার বাইরেও গিয়ে বিস্ময় তৈরি করে, যেখানে পানি বা কুয়াশা এমনভাবে নড়ে যে তা সত্যিই অবাক করার মতো।
দেশটির সবচেয়ে পরিচিত উদাহরণগুলোর একটি কুইন্সল্যান্ডের ইনঘামের কাছে ওয়ালাম্যান ফলস, যা ২৬৮ মিটার উচ্চতার একক পতনের স্থায়ী জলপ্রপাত। তবে অস্ট্রেলিয়ায় এমন কিছু প্রাকৃতিক দৃশ্যও আছে, যেগুলো ঠিক প্রচলিত জলপ্রপাত না হলেও নাটকীয়তায় কোনো অংশে কম নয়।

আড়াআড়ি, উল্টো আর কুয়াশার জলপ্রপাত
কিম্বারলির ট্যালবট বেতে থাকা হরাইজন্টাল ফলস বা আড়াআড়ি জলপ্রপাত এ ধরনের এক বিস্ময়কর উদাহরণ। এখানে ম্যাকলার্টি রেঞ্জের দুটি সরু গিরিখাত দিয়ে প্রতি সেকেন্ডে বিপুল পরিমাণ পানি প্রবল জোয়ারের চাপে সঙ্কুচিত হয়ে প্রবাহিত হয়। জোয়ার-ভাটার পার্থক্য ১০ মিটারেরও বেশি হলে এক পাশে পানি দ্রুত জমে গিয়ে প্রায় ৪ মিটার উচ্চতার জলপ্রপাতসদৃশ প্রভাব তৈরি করে। এটি বিশেষ করে মে থেকে অক্টোবরের শুষ্ক মৌসুমে, নতুন চাঁদ ও পূর্ণিমার সময়কার স্প্রিং টাইডে সবচেয়ে ভালো দেখা যায়।
আরেক বিস্ময় ‘রিভার্স ফলস’ বা উল্টো জলপ্রপাত। যখন প্রবল বাতাস জলপ্রপাতের গায়ে এমনভাবে আঘাত করে যে নিচে পড়ার বদলে পানি উল্টো দিকের বাতাসে ভেসে ওপরে উঠে যায়, তখন এই দৃশ্য তৈরি হয়। সিডনির দক্ষিণে রয়্যাল ন্যাশনাল পার্কের দুর্গম উপকূলে ভারী বৃষ্টি ও শক্তিশালী অনশোর বাতাসের সময় অস্থায়ী ক্লিফটপ জলপ্রপাতগুলোকে এমন উল্টো প্রবাহে দেখা যেতে পারে।
কুয়াশার জলপ্রপাতও আছে
অস্ট্রেলিয়ার আরেক অদ্ভুত দৃশ্য ‘ফ্যান্টম ফলস’, যা আসলে ঘন কুয়াশার স্রোত। পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার স্টার্লিং রেঞ্জ ন্যাশনাল পার্কের ব্লাফ নল কিংবা সিডনির কাছে ব্লু মাউন্টেইনসের ন্যারো নেক প্লেটুতে এ দৃশ্য দেখা যেতে পারে। এখানে এক উপত্যকার ঘন, শীতল কুয়াশা ক্লিফ বা রিজলাইন পেরিয়ে নিচের উপত্যকায় গড়িয়ে পড়ে, ফলে দূর থেকে দেখতে ঠিক জলপ্রপাতের মতো লাগে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, মেগালং ভ্যালিতে কুয়াশার স্তর রিজের চূড়ার ওপরে উঠলে তা ঠান্ডা ঘন বায়ুর সঙ্গে জেমিসন ভ্যালির দিকে গড়িয়ে পড়ে। অনেকটা উপচে পড়া গ্লাসের পানির মতো। কখনো কখনো এই কুয়াশার পর্দা ৮০০ মিটার পর্যন্ত চওড়া, ৫০ মিটার গভীর এবং প্রতি সেকেন্ডে ১০ থেকে ২০ মিটার গতিতে চলতে পারে। সাধারণত শরৎ থেকে শীতের শুরুর দিকে এটি বেশি দেখা যায়, বিশেষ করে সাম্প্রতিক বৃষ্টি হলে সম্ভাবনা বাড়ে।
অস্ট্রেলিয়ার এসব অদ্ভুত জলপ্রপাত মনে করিয়ে দেয়, পৃথিবীর সবচেয়ে শুষ্ক মহাদেশেও পানি বা আর্দ্রতা প্রকৃতিতে চলাচলের বিস্ময়কর নতুন রূপ খুঁজে নেয়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















