০৩:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
ঝালমুড়ি ঘিরে নির্বাচনী উত্তাপ, মোদি–মমতার পাল্টাপাল্টি মন্তব্য পশ্চিমবঙ্গে ‘সংবিধানিক যন্ত্র ভেঙে পড়েছে’ কি- ইডির দাবিতে প্রশ্ন তুলল সুপ্রিম কোর্ট বাম ঐক্য ছাড়া ফেরার পথ নেই, বাংলায় ‘সমালোচনামূলক শক্তি’ গড়ার লক্ষ্য: দীপঙ্কর ভট্টাচার্য পশ্চিমবঙ্গে শান্তিপূর্ণ ভোট, বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষের খবর ইসরায়েল কি নিজেকে সৌদি আরবের মতো করে তুলতে চায়? অবরোধ এভাবে কাজ করে না নিউ ইয়র্ক টাইমসের রিপোর্ট:  পাকিস্তানে শিয়া ক্ষোভ বিগত সরকারের সময় সুপ্রিম কোর্ট রাজনৈতিক প্রভাবে স্বকীয়তা হারিয়েছিল: আইনমন্ত্রী ইউটিউবের সংবাদ বিশ্লেষণকে এপিএসসি-ইউপিএসসি প্রস্তুতির ফর্মুলায় পরিণত করা এক প্রতিষ্ঠানের গল্প ধামরাইয়ে ঘরে ঢুকে এসএসসি পরীক্ষার্থী নাহিদাকে কুপিয়ে হত্যা

বাংলাদেশে হাম সংক্রমণ ৫৮ জেলায়, জাতীয় ঝুঁকি ‘উচ্চ’—বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সতর্কতা

বাংলাদেশে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে হাম সংক্রমণ, যা এখন জাতীয় পর্যায়ে ‘উচ্চ’ ঝুঁকিতে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সংস্থাটির ২৩ এপ্রিল প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের আট বিভাগের ৬৪ জেলার মধ্যে ৫৮ জেলাতেই ইতোমধ্যে হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে, যা সংক্রমণের ব্যাপক বিস্তারকে নির্দেশ করে।

সংক্রমণের চিত্র ও পরিসংখ্যান
২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে দেশে হাম রোগীর সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। ১৫ মার্চ থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে ১৯ হাজার ১৬১ জন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে পরীক্ষাগারে নিশ্চিত রোগীর সংখ্যা প্রায় ২ হাজার ৯০০-এর কাছাকাছি। এ সময়ে হাম-সংশ্লিষ্ট সন্দেহভাজন মৃত্যু হয়েছে ১৬৬ জনের, যার মধ্যে নিশ্চিত মৃত্যু ৩০টি। মৃত্যুহার প্রায় ১ শতাংশের কাছাকাছি।

এই সময়ের মধ্যে ১২ হাজারের বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, আর প্রায় ৯ হাজার ৮০০ জন চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র পেয়েছেন।

দেশের ৫৮ জেলায় ছড়িয়েছে হাম, ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে টিকার আওতায় আনার  সুপারিশ

ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ চাপ
হাম সংক্রমণের সবচেয়ে বেশি চাপ দেখা যাচ্ছে ঢাকা বিভাগে, যেখানে সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা ৮ হাজারের বেশি। এর মধ্যে ঘনবসতিপূর্ণ বস্তি ও অনানুষ্ঠানিক বসতিগুলোতে সংক্রমণ বেশি। ডেমরা, যাত্রাবাড়ী, কামরাঙ্গীরচর, কড়াইল, মিরপুর ও তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল বিশেষভাবে ঝুঁকিতে রয়েছে।
ঢাকার পর রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও খুলনা বিভাগেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রোগী পাওয়া গেছে।

শিশুরাই সবচেয়ে ঝুঁকিতে
রিপোর্ট অনুযায়ী, আক্রান্তদের বড় অংশই শিশু। মোট রোগীর ৭৯ শতাংশের বয়স পাঁচ বছরের কম। এর মধ্যে দুই বছরের কম বয়সী শিশু ৬৬ শতাংশ এবং নয় মাসের কম বয়সী ৩৩ শতাংশ।
অধিকাংশ মৃত্যুও ঘটেছে টিকা না পাওয়া বা আংশিক টিকাপ্রাপ্ত শিশুদের মধ্যে। ১ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে ৯১ শতাংশ রোগী শনাক্ত হওয়ায় এই বয়সসীমায় রোগপ্রতিরোধের ঘাটতির ইঙ্গিত মিলছে।

৫৮ জেলায় ছড়িয়েছে হাম, ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে টিকার আওতায় আনার সুপারিশ –  খুলনা গেজেট | সবার আগে সঠিক খবর

হাম: সংক্রমণ ও জটিলতা
হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা বাতাস ও ড্রপলেটের মাধ্যমে ছড়ায়। সংক্রমণের ৭ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে জ্বর, কাশি, চোখ লাল হওয়া এবং মুখে সাদা দাগ দেখা দেয়। পরে শরীরে ফুসকুড়ি ওঠে।
রোগটি সাধারণত ২-৩ সপ্তাহে সেরে গেলেও নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, এনসেফালাইটিস, অন্ধত্বসহ গুরুতর জটিলতা তৈরি করতে পারে। প্রতি হাজার রোগীর মধ্যে ২-৩ জনের মৃত্যু হতে পারে।

টিকাদানে ঘাটতি ও প্রাদুর্ভাবের কারণ
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, অতীতে বাংলাদেশ হাম নির্মূলে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছিল। তবে ২০২৪-২৫ সালে এমআর টিকার ঘাটতি, নিয়মিত টিকাদানে ফাঁক এবং সম্পূরক টিকাদান কর্মসূচির অভাবে পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। এর ফলে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুর সংখ্যা বেড়ে গিয়ে বর্তমান প্রাদুর্ভাব তৈরি হয়েছে।

জেলায় জেলায় চলছে হাম-রুবেলার টিকাদান কর্মসূচি

সরকারি পদক্ষেপ ও টিকাদান অভিযান
পরিস্থিতি মোকাবিলায় জাতীয় পর্যায়ে এমআর টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের লক্ষ্য করে ৫ এপ্রিল আংশিকভাবে এবং ২০ এপ্রিল দেশব্যাপী এই কার্যক্রম শুরু হয়।
এর পাশাপাশি ভিটামিন এ সরবরাহ, দ্রুত প্রতিক্রিয়া দল সক্রিয়করণ, হাসপাতালের প্রস্তুতি বৃদ্ধি এবং নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

সীমান্ত ঝুঁকি ও আঞ্চলিক প্রভাব
সীমান্তবর্তী এলাকায় মানুষের চলাচল এবং ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে সংযোগের কারণে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়ছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলেও হাম সংক্রমণ বিদ্যমান থাকায় আঞ্চলিক ঝুঁকি ‘উচ্চ’ হিসেবে বিবেচিত।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ
সংস্থাটি সব এলাকায় হাম টিকার দুই ডোজে অন্তত ৯৫ শতাংশ কভারেজ নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছে। পাশাপাশি দ্রুত শনাক্তকরণ, রোগী আলাদা রাখা, সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়ানো এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে টিকাদানের সুপারিশ করা হয়েছে।
তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে ভ্রমণ বা বাণিজ্যে কোনো নিষেধাজ্ঞার সুপারিশ করা হয়নি।

বাংলাদেশে হাম সংক্রমণ বেড়ে জাতীয় ঝুঁকি উচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে

জনপ্রিয় সংবাদ

ঝালমুড়ি ঘিরে নির্বাচনী উত্তাপ, মোদি–মমতার পাল্টাপাল্টি মন্তব্য

বাংলাদেশে হাম সংক্রমণ ৫৮ জেলায়, জাতীয় ঝুঁকি ‘উচ্চ’—বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সতর্কতা

০২:১৬:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

বাংলাদেশে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে হাম সংক্রমণ, যা এখন জাতীয় পর্যায়ে ‘উচ্চ’ ঝুঁকিতে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সংস্থাটির ২৩ এপ্রিল প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের আট বিভাগের ৬৪ জেলার মধ্যে ৫৮ জেলাতেই ইতোমধ্যে হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে, যা সংক্রমণের ব্যাপক বিস্তারকে নির্দেশ করে।

সংক্রমণের চিত্র ও পরিসংখ্যান
২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে দেশে হাম রোগীর সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। ১৫ মার্চ থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে ১৯ হাজার ১৬১ জন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে পরীক্ষাগারে নিশ্চিত রোগীর সংখ্যা প্রায় ২ হাজার ৯০০-এর কাছাকাছি। এ সময়ে হাম-সংশ্লিষ্ট সন্দেহভাজন মৃত্যু হয়েছে ১৬৬ জনের, যার মধ্যে নিশ্চিত মৃত্যু ৩০টি। মৃত্যুহার প্রায় ১ শতাংশের কাছাকাছি।

এই সময়ের মধ্যে ১২ হাজারের বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, আর প্রায় ৯ হাজার ৮০০ জন চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র পেয়েছেন।

দেশের ৫৮ জেলায় ছড়িয়েছে হাম, ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে টিকার আওতায় আনার  সুপারিশ

ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ চাপ
হাম সংক্রমণের সবচেয়ে বেশি চাপ দেখা যাচ্ছে ঢাকা বিভাগে, যেখানে সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা ৮ হাজারের বেশি। এর মধ্যে ঘনবসতিপূর্ণ বস্তি ও অনানুষ্ঠানিক বসতিগুলোতে সংক্রমণ বেশি। ডেমরা, যাত্রাবাড়ী, কামরাঙ্গীরচর, কড়াইল, মিরপুর ও তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল বিশেষভাবে ঝুঁকিতে রয়েছে।
ঢাকার পর রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও খুলনা বিভাগেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রোগী পাওয়া গেছে।

শিশুরাই সবচেয়ে ঝুঁকিতে
রিপোর্ট অনুযায়ী, আক্রান্তদের বড় অংশই শিশু। মোট রোগীর ৭৯ শতাংশের বয়স পাঁচ বছরের কম। এর মধ্যে দুই বছরের কম বয়সী শিশু ৬৬ শতাংশ এবং নয় মাসের কম বয়সী ৩৩ শতাংশ।
অধিকাংশ মৃত্যুও ঘটেছে টিকা না পাওয়া বা আংশিক টিকাপ্রাপ্ত শিশুদের মধ্যে। ১ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে ৯১ শতাংশ রোগী শনাক্ত হওয়ায় এই বয়সসীমায় রোগপ্রতিরোধের ঘাটতির ইঙ্গিত মিলছে।

৫৮ জেলায় ছড়িয়েছে হাম, ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে টিকার আওতায় আনার সুপারিশ –  খুলনা গেজেট | সবার আগে সঠিক খবর

হাম: সংক্রমণ ও জটিলতা
হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা বাতাস ও ড্রপলেটের মাধ্যমে ছড়ায়। সংক্রমণের ৭ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে জ্বর, কাশি, চোখ লাল হওয়া এবং মুখে সাদা দাগ দেখা দেয়। পরে শরীরে ফুসকুড়ি ওঠে।
রোগটি সাধারণত ২-৩ সপ্তাহে সেরে গেলেও নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, এনসেফালাইটিস, অন্ধত্বসহ গুরুতর জটিলতা তৈরি করতে পারে। প্রতি হাজার রোগীর মধ্যে ২-৩ জনের মৃত্যু হতে পারে।

টিকাদানে ঘাটতি ও প্রাদুর্ভাবের কারণ
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, অতীতে বাংলাদেশ হাম নির্মূলে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছিল। তবে ২০২৪-২৫ সালে এমআর টিকার ঘাটতি, নিয়মিত টিকাদানে ফাঁক এবং সম্পূরক টিকাদান কর্মসূচির অভাবে পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। এর ফলে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুর সংখ্যা বেড়ে গিয়ে বর্তমান প্রাদুর্ভাব তৈরি হয়েছে।

জেলায় জেলায় চলছে হাম-রুবেলার টিকাদান কর্মসূচি

সরকারি পদক্ষেপ ও টিকাদান অভিযান
পরিস্থিতি মোকাবিলায় জাতীয় পর্যায়ে এমআর টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের লক্ষ্য করে ৫ এপ্রিল আংশিকভাবে এবং ২০ এপ্রিল দেশব্যাপী এই কার্যক্রম শুরু হয়।
এর পাশাপাশি ভিটামিন এ সরবরাহ, দ্রুত প্রতিক্রিয়া দল সক্রিয়করণ, হাসপাতালের প্রস্তুতি বৃদ্ধি এবং নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

সীমান্ত ঝুঁকি ও আঞ্চলিক প্রভাব
সীমান্তবর্তী এলাকায় মানুষের চলাচল এবং ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে সংযোগের কারণে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়ছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলেও হাম সংক্রমণ বিদ্যমান থাকায় আঞ্চলিক ঝুঁকি ‘উচ্চ’ হিসেবে বিবেচিত।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ
সংস্থাটি সব এলাকায় হাম টিকার দুই ডোজে অন্তত ৯৫ শতাংশ কভারেজ নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছে। পাশাপাশি দ্রুত শনাক্তকরণ, রোগী আলাদা রাখা, সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়ানো এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে টিকাদানের সুপারিশ করা হয়েছে।
তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে ভ্রমণ বা বাণিজ্যে কোনো নিষেধাজ্ঞার সুপারিশ করা হয়নি।

বাংলাদেশে হাম সংক্রমণ বেড়ে জাতীয় ঝুঁকি উচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে