দেশে স্বাধীন বিচারব্যবস্থা বিদ্যমান থাকলেও বিগত সরকারের সময় সুপ্রিম কোর্ট তার নিজস্ব অবস্থান ও স্বকীয়তা বজায় রাখতে পারেনি বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তাঁর মতে, সে সময় সর্বোচ্চ আদালত কার্যত রাজনৈতিক প্রভাবের মধ্যে পরিচালিত হয়েছে।
শুক্রবার যশোর জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্যদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। জেলা আইনজীবী সমিতি ভবনে অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন সমিতির সভাপতি ও জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু।
বিচারব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন
আইনমন্ত্রী বলেন, পৃথক বিচার বিভাগ সচিবালয় আইন, মানবাধিকার কমিশন আইন, গুম কমিশন আইন এবং জুলাই সনদ আইন সংসদে উপস্থাপনের আগে যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই করা হবে। তিনি জানান, এই পর্যালোচনার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে, কারণ অতীতে বিচারব্যবস্থা স্বাধীন হলেও তার কার্যকারিতা ও নিরপেক্ষতা প্রশ্নের মুখে পড়েছিল।
তিনি আরও বলেন, জনগণ এমন কোনো বিচারব্যবস্থা প্রত্যাশা করে না যেখানে অনৈতিকতা প্রভাব বিস্তার করে। সরকার বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্নীতির পথ বন্ধ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

মানবাধিকার ও গুম কমিশন নিয়ে বিতর্ক
মানবাধিকার কমিশন ও গুম কমিশনকে ঘিরে বিভিন্ন প্রশ্নের কথা উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, জুলাই সনদের কিছু অংশে প্রতারণার আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দল তাদের অঙ্গীকার অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বিভক্তির রাজনীতি পরিহারের আহ্বান
দেশে আবারও বিভক্তির রাজনীতি চর্চার চেষ্টা চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধ বা সাম্প্রতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোনো বিভাজন কাম্য নয়। তিনি সবাইকে বিভক্তির রাজনীতি থেকে সরে এসে বাংলাদেশি চেতনায় বিশ্বাসী হওয়ার আহ্বান জানান।
আইনমন্ত্রী আরও বলেন, দেশে ক্রসফায়ার, গুম ও মিথ্যা মামলার ঘটনা শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। সরকার দায়িত্বশীলভাবে জনকল্যাণে কাজ করছে এবং এই বাস্তবতা জনগণের সামনে তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।

যশোর আদালত উন্নয়নে আশ্বাস
সভায় আইনমন্ত্রী ঐতিহ্যবাহী যশোর কোর্টকে তার আগের অবস্থানে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান। পাশাপাশি বিচার বিভাগের জন্য বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং আইনজীবীদের কল্যাণে পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেন, বার কাউন্সিলের মাধ্যমে আইনজীবীদের মৃত্যুর পর এক কোটি টাকা প্রদানের বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম, যশোর-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট গাজী এনামুল হক, জেলা জজ মাহমুদা খানম এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















