ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে ইরাকে যৌথভাবে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব। সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন ও সৌদি স্বার্থে একের পর এক ড্রোন হামলার পর মঙ্গলবার এই পাল্টা অভিযান চালানো হয়।
ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো গত কয়েক দিনে দুই ডজনের বেশি ড্রোন হামলা চালানোর পর ইরাকের বিভিন্ন স্থানে হামলার লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব গোষ্ঠী ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর নির্দেশনায় মার্কিন সেনা ও সৌদি জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা চালাচ্ছিল।
ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোকে কড়া হুঁশিয়ারি
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী এবং তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে হামলা বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় আরও সামরিক জবাব দেওয়া হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

ওয়াশিংটনের অভিযোগ, ইরাকের মাটিতে থাকা এসব গোষ্ঠীর মাধ্যমে মার্কিন সেনাদের পাশাপাশি সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনাও হামলার ঝুঁকিতে পড়েছে।
সৌদি আরবেরও পাল্টা হামলা
সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরাকের ভূখণ্ডে থাকা এমন কয়েকটি গোষ্ঠীর অবস্থান লক্ষ্য করে সৌদি বাহিনী হামলা চালিয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের তেল স্থাপনায় হামলার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
এর আগে সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলের তেল স্থাপনা লক্ষ্য করে ছোড়া কয়েকটি ড্রোন প্রতিহত করার কথা জানানো হয়। রিয়াদ এসব হামলার জন্য ইরান-সমর্থিত ইরাকি গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করে।
পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়ার পর সৌদি আরব ইরাক সরকারকে তাদের ভূখণ্ড থেকে সৌদি আরবে হামলা ঠেকানোর আহ্বান জানায়। এর পর ইরাক সরকার ঘটনাটি তদন্তের নির্দেশ দেয়।

মধ্যপ্রাচ্যে আবারও বাড়ছে উত্তেজনা
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, মঙ্গলবার ইরান মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীর ওপর আকস্মিক হামলার চেষ্টা চালিয়ে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। তবে সবগুলো ক্ষেপণাস্ত্রই প্রতিহত করা হয়েছে বলে জানায় মার্কিন সামরিক কর্তৃপক্ষ।
এর আগে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন স্থানে নিয়মিত হামলা চালায়। জবাবে ইরানও উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। সপ্তাহান্তে দুই পক্ষের হামলা সাময়িকভাবে থেমে গেলেও ইরাকে নতুন করে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি হামলা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আবারও অস্থির করে তুলেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে এই নতুন সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে ইরাকের নিরাপত্তা পরিস্থিতির পাশাপাশি উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামোও বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।




















