০৫:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
সার্ক কি আদৌ কার্যকর করা সম্ভব হরমুজে ইরানের হাতে আটক দুটি জাহাজ, ১৫ ফিলিপিনো নাবিক জিম্মি — জ্বালানি বাজারে নতুন ধাক্কা ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি: ‘ইরানের সময় ফুরিয়ে আসছে’; লেবাননে যুদ্ধবিরতি তিন সপ্তাহ বাড়াল তীব্র তাপপ্রবাহে মে পর্যন্ত জ্বলবে করাচি, জরুরি প্রস্তুতির নির্দেশ—আগাম সতর্কতা ব্যবস্থায় গাফিলতি নিয়ে তদন্ত জাতিসংঘে বাংলাদেশ: এলডিসি থেকে উত্তরণে ন্যায্য সহায়তা চাই, উন্নয়নশীল বিশ্বের স্বার্থ রক্ষার আহ্বান পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষার ছায়া কি রাতের আকাশেও পড়েছিল? পুরোনো আকাশচিত্রে মিলল বিস্ময়কর ইঙ্গিত বান্দরবানের পরাবন বনে অবৈধ লগিং: পাহাড় কেটে চলছে কাঠের গোপন বাণিজ্য নিউইয়র্কের স্মৃতি আর বয়সের গল্পে ফিরে দেখা: ৭১ বছরে জে ম্যাকইনার্নির নতুন উপন্যাসে শহরের বদলে যাওয়া জীবন ইরানে জরুরি চিকিৎসাসামগ্রী পাঠাল বাংলাদেশ, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বিশেষ উদ্যোগ সংসদে জামায়াত সংসদ সদস্যের অভিযোগ: ওয়াসার পানিতে পোকা, দুর্গন্ধ — পান অযোগ্য

পশ্চিমবঙ্গে ‘সংবিধানিক যন্ত্র ভেঙে পড়েছে’ কি- ইডির দাবিতে প্রশ্ন তুলল সুপ্রিম কোর্ট

পশ্চিমবঙ্গে আইনশৃঙ্খলা ও শাসনব্যবস্থা নিয়ে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা ইডির গুরুতর অভিযোগের প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছে—এই বিতর্ক কি সংবিধানিক যন্ত্র ভেঙে পড়ার দিকে ইঙ্গিত করছে? আদালতের এই পর্যবেক্ষণ নতুন করে আলোচনায় এনেছে কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্ক, আইনশৃঙ্খলা ও তদন্ত সংস্থার ভূমিকা।

ইডির পক্ষ থেকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী, শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তা এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয় যে, কলকাতায় একটি অভিযানের সময় তারা আইনশৃঙ্খলা লঙ্ঘন করেছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, কয়লা পাচার মামলার তদন্তে আইপিএসি কার্যালয়ে অভিযান চালাতে গিয়ে ইডির কর্মকর্তারা বাধার মুখে পড়েন এবং ঘটনাটি ‘আইনের শাসনের লঙ্ঘন’ হিসেবে তুলে ধরা হয়।

আদালতের প্রশ্ন ও প্রেক্ষাপট

বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্রের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে বিচারপতি এন. ভি. আঞ্জারিয়া প্রশ্ন তোলেন, ইডি কি এই ঘটনায় সংবিধানিক যন্ত্র ভেঙে পড়ার যুক্তি দাঁড় করাতে চাইছে? আদালত স্পষ্ট করে জানতে চায়, এই ধরনের দাবি কতটা প্রাসঙ্গিক।

Not Arguing That There's Breakdown Of Constitutional Machinery In West  Bengal : ED Tells Supreme Court

ইডির পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান, তাদের উদ্দেশ্য সংবিধানিক সংকট তুলে ধরা নয়, বরং ‘আইনের শাসন’ প্রতিষ্ঠার বিষয়টি তুলে ধরা। তিনি বলেন, সংবিধানের ১৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আইনের দৃষ্টিতে সমতা একটি মৌলিক অধিকার, এবং ইডির কর্মকর্তারাও সেই সুরক্ষা পাওয়ার অধিকার রাখেন।

পুরনো ঘটনার উল্লেখ

ইডির পক্ষ থেকে আদালতে বেশ কিছু পুরনো ঘটনার উদাহরণ তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে ২০১৯ সালে সিবিআই কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তার, তাদের বাসভবন ঘেরাও, এবং আদালতকক্ষে আইনজীবী ও রাজনৈতিক কর্মীদের উপস্থিতি। এসব ঘটনার মাধ্যমে ইডি দাবি করে, পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে আইনের শাসনের অবক্ষয় ঘটছে।

আইনি বিতর্কের দিক

রাজ্যের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী কপিল সিবাল যুক্তি দেন, এই ধরনের বিরোধ হলে কেন্দ্র সরকারের উচিত ছিল সংবিধানের ১৩১ অনুচ্ছেদের অধীনে সরাসরি মামলা করা। এর জবাবে তুষার মেহতা বলেন, এটি কেন্দ্র-রাজ্য বিরোধ নয়, বরং আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক সমস্যা। তাই ৩২ অনুচ্ছেদের অধীনে আদালতে আসা যুক্তিসঙ্গত।

CBI will teach Bangladesh anti corruption department, MOU signed between  two countries - Anandabazar

তিনি আরও জানান, ইডি তাদের কর্মকর্তাদের মৌলিক অধিকার রক্ষার জন্য আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে। পুলিশের দায়ের করা এফআইআরগুলোকে তিনি ‘পরিকল্পিত’ বলে উল্লেখ করেন এবং বলেন, এগুলো কর্মকর্তাদের স্বাধীনতা ও মর্যাদার ওপর আঘাত।

সিবিআই তদন্তের দাবি

এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য ইডি এবং তাদের ডেপুটি ডিরেক্টর রবিন বনসল সিবিআই তদন্তের আবেদন করেছেন। বিষয়টি এখন আদালতের বিবেচনায় রয়েছে, এবং পরবর্তী শুনানিতে এ নিয়ে আরও বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে।

পশ্চিমবঙ্গের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, কেন্দ্রীয় সংস্থার ভূমিকা এবং সংবিধানিক কাঠামোর প্রশ্ন—সব মিলিয়ে এই মামলাটি এখন জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ আইনি বিতর্কে পরিণত হয়েছে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

সার্ক কি আদৌ কার্যকর করা সম্ভব

পশ্চিমবঙ্গে ‘সংবিধানিক যন্ত্র ভেঙে পড়েছে’ কি- ইডির দাবিতে প্রশ্ন তুলল সুপ্রিম কোর্ট

০৩:৪৩:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গে আইনশৃঙ্খলা ও শাসনব্যবস্থা নিয়ে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা ইডির গুরুতর অভিযোগের প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছে—এই বিতর্ক কি সংবিধানিক যন্ত্র ভেঙে পড়ার দিকে ইঙ্গিত করছে? আদালতের এই পর্যবেক্ষণ নতুন করে আলোচনায় এনেছে কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্ক, আইনশৃঙ্খলা ও তদন্ত সংস্থার ভূমিকা।

ইডির পক্ষ থেকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী, শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তা এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয় যে, কলকাতায় একটি অভিযানের সময় তারা আইনশৃঙ্খলা লঙ্ঘন করেছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, কয়লা পাচার মামলার তদন্তে আইপিএসি কার্যালয়ে অভিযান চালাতে গিয়ে ইডির কর্মকর্তারা বাধার মুখে পড়েন এবং ঘটনাটি ‘আইনের শাসনের লঙ্ঘন’ হিসেবে তুলে ধরা হয়।

আদালতের প্রশ্ন ও প্রেক্ষাপট

বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্রের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে বিচারপতি এন. ভি. আঞ্জারিয়া প্রশ্ন তোলেন, ইডি কি এই ঘটনায় সংবিধানিক যন্ত্র ভেঙে পড়ার যুক্তি দাঁড় করাতে চাইছে? আদালত স্পষ্ট করে জানতে চায়, এই ধরনের দাবি কতটা প্রাসঙ্গিক।

Not Arguing That There's Breakdown Of Constitutional Machinery In West  Bengal : ED Tells Supreme Court

ইডির পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান, তাদের উদ্দেশ্য সংবিধানিক সংকট তুলে ধরা নয়, বরং ‘আইনের শাসন’ প্রতিষ্ঠার বিষয়টি তুলে ধরা। তিনি বলেন, সংবিধানের ১৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আইনের দৃষ্টিতে সমতা একটি মৌলিক অধিকার, এবং ইডির কর্মকর্তারাও সেই সুরক্ষা পাওয়ার অধিকার রাখেন।

পুরনো ঘটনার উল্লেখ

ইডির পক্ষ থেকে আদালতে বেশ কিছু পুরনো ঘটনার উদাহরণ তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে ২০১৯ সালে সিবিআই কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তার, তাদের বাসভবন ঘেরাও, এবং আদালতকক্ষে আইনজীবী ও রাজনৈতিক কর্মীদের উপস্থিতি। এসব ঘটনার মাধ্যমে ইডি দাবি করে, পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে আইনের শাসনের অবক্ষয় ঘটছে।

আইনি বিতর্কের দিক

রাজ্যের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী কপিল সিবাল যুক্তি দেন, এই ধরনের বিরোধ হলে কেন্দ্র সরকারের উচিত ছিল সংবিধানের ১৩১ অনুচ্ছেদের অধীনে সরাসরি মামলা করা। এর জবাবে তুষার মেহতা বলেন, এটি কেন্দ্র-রাজ্য বিরোধ নয়, বরং আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক সমস্যা। তাই ৩২ অনুচ্ছেদের অধীনে আদালতে আসা যুক্তিসঙ্গত।

CBI will teach Bangladesh anti corruption department, MOU signed between  two countries - Anandabazar

তিনি আরও জানান, ইডি তাদের কর্মকর্তাদের মৌলিক অধিকার রক্ষার জন্য আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে। পুলিশের দায়ের করা এফআইআরগুলোকে তিনি ‘পরিকল্পিত’ বলে উল্লেখ করেন এবং বলেন, এগুলো কর্মকর্তাদের স্বাধীনতা ও মর্যাদার ওপর আঘাত।

সিবিআই তদন্তের দাবি

এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য ইডি এবং তাদের ডেপুটি ডিরেক্টর রবিন বনসল সিবিআই তদন্তের আবেদন করেছেন। বিষয়টি এখন আদালতের বিবেচনায় রয়েছে, এবং পরবর্তী শুনানিতে এ নিয়ে আরও বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে।

পশ্চিমবঙ্গের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, কেন্দ্রীয় সংস্থার ভূমিকা এবং সংবিধানিক কাঠামোর প্রশ্ন—সব মিলিয়ে এই মামলাটি এখন জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ আইনি বিতর্কে পরিণত হয়েছে।