০৮:৫৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৪ মে ২০২৬

ইরান যুদ্ধের ধাক্কায় আকাশপথে বড় সংকট, জ্বালানির দাম বাড়ায় বিপাকে বিশ্ব বিমান সংস্থাগুলো

ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের সরাসরি প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক বিমান শিল্পে। জেট জ্বালানির দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় এবং সরবরাহ সংকটে পড়ায় বিশ্বের বড় বড় বিমান সংস্থাগুলো এখন কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি। ভাড়া বৃদ্ধি, রুট কমানো এবং খরচ কমানোর নানা পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হচ্ছে তারা।

জ্বালানির দাম দ্বিগুণ, বাড়ছে খরচের চাপ

সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই জেট জ্বালানির দাম দ্রুত বেড়েছে, যা ইতিমধ্যে দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে। সাধারণত বিমান সংস্থাগুলোর মোট পরিচালন ব্যয়ের বড় একটি অংশই জ্বালানি খাতে যায়। এখন এই খরচ হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় সংস্থাগুলোর আর্থিক চাপ অনেক বেড়ে গেছে।

এই পরিস্থিতি সামাল দিতে অনেক সংস্থা টিকিটের দাম বাড়াচ্ছে এবং অতিরিক্ত জ্বালানি চার্জ আরোপ করছে। একই সঙ্গে কম লাভজনক রুটগুলো বন্ধ করে দিচ্ছে তারা।

রুট পরিবর্তন ও ফ্লাইট কমানোর সিদ্ধান্ত

FILE PHOTO: A Qantas logo is visible on the tail of an aeroplane at an airport in Sydney

মধ্যপ্রাচ্যকে কেন্দ্র করে এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে যেসব গুরুত্বপূর্ণ আকাশপথ ছিল, সেগুলো এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে অনেক সংস্থা তাদের রুট পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছে। এতে সময় ও খরচ দুটোই বেড়েছে।

কিছু সংস্থা আবার সরাসরি ফ্লাইট কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এমনকি কিছু পুরনো ও বেশি জ্বালানি খরচ হয় এমন বিমান মাটিতে নামিয়ে রাখার পরিকল্পনাও করছে।

জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা

সংঘাতের কারণে গুরুত্বপূর্ণ তেল সরবরাহ পথগুলো ব্যাহত হয়েছে, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় ধাক্কা লেগেছে। এতে জ্বালানি সরবরাহ আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

কিছু বিমান সংস্থা জানিয়েছে, তাদের হাতে মাত্র কয়েক সপ্তাহের জ্বালানি মজুত রয়েছে। পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে।

কর্মী ছাঁটাই ও খরচ কমানোর উদ্যোগ

Jet Fuel Crunch Is Getting Severe With No Reprieve in Sight for Airlines -  WSJ

বাড়তি খরচ সামাল দিতে কিছু সংস্থা কর্মী কমানো বা সাময়িক ছুটিতে পাঠানোর মতো সিদ্ধান্তও নিচ্ছে। পাশাপাশি নতুন বিনিয়োগ বা শেয়ার পুনঃক্রয় কর্মসূচিও স্থগিত রাখা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে ছোট ও দুর্বল সংস্থাগুলো টিকে থাকতে পারবে না। ফলে ভবিষ্যতে বড় সংস্থাগুলোর মধ্যে একীভূত হওয়ার প্রবণতা বাড়তে পারে।

ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা

যদিও সাময়িকভাবে সংঘাতে বিরতি এসেছে, তবুও জ্বালানির দাম এবং সরবরাহ পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক হয়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বছরের বাকি সময়জুড়েই এই চাপ অব্যাহত থাকতে পারে।

সব মিলিয়ে, ইরানকে ঘিরে সংঘাত শুধু রাজনৈতিক বা সামরিক ক্ষেত্রেই নয়, বিশ্ব অর্থনীতি এবং বিমান শিল্পেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরান যুদ্ধের ধাক্কায় আকাশপথে বড় সংকট, জ্বালানির দাম বাড়ায় বিপাকে বিশ্ব বিমান সংস্থাগুলো

১১:০৫:১৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের সরাসরি প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক বিমান শিল্পে। জেট জ্বালানির দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় এবং সরবরাহ সংকটে পড়ায় বিশ্বের বড় বড় বিমান সংস্থাগুলো এখন কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি। ভাড়া বৃদ্ধি, রুট কমানো এবং খরচ কমানোর নানা পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হচ্ছে তারা।

জ্বালানির দাম দ্বিগুণ, বাড়ছে খরচের চাপ

সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই জেট জ্বালানির দাম দ্রুত বেড়েছে, যা ইতিমধ্যে দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে। সাধারণত বিমান সংস্থাগুলোর মোট পরিচালন ব্যয়ের বড় একটি অংশই জ্বালানি খাতে যায়। এখন এই খরচ হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় সংস্থাগুলোর আর্থিক চাপ অনেক বেড়ে গেছে।

এই পরিস্থিতি সামাল দিতে অনেক সংস্থা টিকিটের দাম বাড়াচ্ছে এবং অতিরিক্ত জ্বালানি চার্জ আরোপ করছে। একই সঙ্গে কম লাভজনক রুটগুলো বন্ধ করে দিচ্ছে তারা।

রুট পরিবর্তন ও ফ্লাইট কমানোর সিদ্ধান্ত

FILE PHOTO: A Qantas logo is visible on the tail of an aeroplane at an airport in Sydney

মধ্যপ্রাচ্যকে কেন্দ্র করে এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে যেসব গুরুত্বপূর্ণ আকাশপথ ছিল, সেগুলো এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে অনেক সংস্থা তাদের রুট পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছে। এতে সময় ও খরচ দুটোই বেড়েছে।

কিছু সংস্থা আবার সরাসরি ফ্লাইট কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এমনকি কিছু পুরনো ও বেশি জ্বালানি খরচ হয় এমন বিমান মাটিতে নামিয়ে রাখার পরিকল্পনাও করছে।

জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা

সংঘাতের কারণে গুরুত্বপূর্ণ তেল সরবরাহ পথগুলো ব্যাহত হয়েছে, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় ধাক্কা লেগেছে। এতে জ্বালানি সরবরাহ আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

কিছু বিমান সংস্থা জানিয়েছে, তাদের হাতে মাত্র কয়েক সপ্তাহের জ্বালানি মজুত রয়েছে। পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে।

কর্মী ছাঁটাই ও খরচ কমানোর উদ্যোগ

Jet Fuel Crunch Is Getting Severe With No Reprieve in Sight for Airlines -  WSJ

বাড়তি খরচ সামাল দিতে কিছু সংস্থা কর্মী কমানো বা সাময়িক ছুটিতে পাঠানোর মতো সিদ্ধান্তও নিচ্ছে। পাশাপাশি নতুন বিনিয়োগ বা শেয়ার পুনঃক্রয় কর্মসূচিও স্থগিত রাখা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে ছোট ও দুর্বল সংস্থাগুলো টিকে থাকতে পারবে না। ফলে ভবিষ্যতে বড় সংস্থাগুলোর মধ্যে একীভূত হওয়ার প্রবণতা বাড়তে পারে।

ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা

যদিও সাময়িকভাবে সংঘাতে বিরতি এসেছে, তবুও জ্বালানির দাম এবং সরবরাহ পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক হয়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বছরের বাকি সময়জুড়েই এই চাপ অব্যাহত থাকতে পারে।

সব মিলিয়ে, ইরানকে ঘিরে সংঘাত শুধু রাজনৈতিক বা সামরিক ক্ষেত্রেই নয়, বিশ্ব অর্থনীতি এবং বিমান শিল্পেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।