১১:৪২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ভূগোলের নিরাপত্তাবলয় ভেঙে পড়ছে, যুক্তরাষ্ট্র কি নতুন যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত? রাজনীতিতে ধর্মীয় সংগঠনের হস্তক্ষেপ কি সত্যিই অপরাধ? রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনই মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক বিপ্লবের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা চীনা ব্যবসায়ীর ১ কোটি টাকা নিয়ে চালক উধাও, মেসেজে লিখলেন ‘আমি বিশ্বাস ভঙ্গ করেছি’ কম্বোডিয়া থেকে দেশে ফিরলেন ৩৮ বাংলাদেশি, ফেরার অপেক্ষায় আরও ১,৮০০ অস্ত্রের মুখে বিকাশকর্মীর ৩ লাখ টাকা ছিনতাই, পালাল ৬ দুর্বৃত্ত নেপালে বন্যার তাণ্ডব: ‘নিখোঁজদের দেয়ালে’ স্বজন খুঁজছেন হাজারো মানুষ ভারতের ৭.৮% জিডিপি প্রবৃদ্ধি নিয়ে কেন উঠছে প্রশ্ন? নেপালের বন্যাবিধ্বস্ত উপত্যকায় ধ্বংসস্তূপ ছাড়া কিছুই নেই ১৫ হাজারের বেশি শিশু নিখোঁজ নয়, প্রকৃত তথ্য জানাল পুলিশ

যুদ্ধের ছায়ায় বিশ্ব অর্থনীতি, প্রবৃদ্ধি কমার সতর্কতা দিল আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিতে গভীরভাবে পড়তে শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বিশ্ব প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে সতর্ক করেছে, পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে বৈশ্বিক মন্দার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

প্রবৃদ্ধির নতুন হিসাব

সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছরে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি দাঁড়াতে পারে প্রায় ৩.১ শতাংশে। তবে এই হিসাব নির্ভর করছে সংঘাত দ্রুত শেষ হবে এমন আশার ওপর। বাস্তবে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠলে প্রবৃদ্ধি নেমে আসতে পারে ২.৫ শতাংশে, যা অনেক দেশের জন্য বড় ধাক্কা হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিদিন সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিশ্ব অর্থনীতি আরও অনিশ্চয়তার দিকে যাচ্ছে। ফলে এই পূর্বাভাস দ্রুতই বদলে যেতে পারে।

Crude prices spike as producers cut output

তেলের দামে চাপ ও মূল্যস্ফীতি

সংঘাতের কারণে জ্বালানি সরবরাহে ব্যাঘাত তৈরি হওয়ায় তেলের দাম বাড়ছে। পরিস্থিতি খারাপ হলে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলার বা তারও বেশি হতে পারে। এতে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়বে।

দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ দামে তেল বিক্রি হলে মানুষের মধ্যে মূল্যস্ফীতি স্থায়ী হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হবে। তখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোকে সুদের হার বাড়াতে হতে পারে, যা অর্থনীতিতে আরও চাপ সৃষ্টি করবে।

বড় অর্থনীতিগুলোর চিত্র

প্রধান অর্থনীতিগুলোর ক্ষেত্রেও মিশ্র চিত্র দেখা যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রবৃদ্ধি সামান্য কমলেও কর ছাড় ও বিনিয়োগের কারণে বড় পতন এড়ানো সম্ভব হতে পারে। ইউরোপীয় অঞ্চলে জ্বালানি নির্ভরতার কারণে চাপ বেশি পড়ছে, ফলে তাদের প্রবৃদ্ধি আরও কমার আশঙ্কা রয়েছে।

চীনের প্রবৃদ্ধিও কিছুটা কমতে পারে, যদিও সরকারি সহায়তা ও শুল্ক হ্রাসের কারণে আংশিক ভারসাম্য তৈরি হতে পারে। অন্যদিকে ভারতের প্রবৃদ্ধি তুলনামূলক স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে।

IMF cuts growth outlook, warns world already drifting toward more adverse  scenario By Reuters

মধ্যপ্রাচ্যে সবচেয়ে বড় আঘাত

সংঘাতের কেন্দ্রস্থল হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়ছে। অবকাঠামো ক্ষতি, রপ্তানি কমে যাওয়া এবং উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় অনেক দেশের অর্থনীতি সংকুচিত হতে পারে।

তবে যদি সংঘাত দ্রুত শেষ হয়, তাহলে পরের বছর এই অঞ্চল কিছুটা ঘুরে দাঁড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মন্দার আশঙ্কা কতটা বাস্তব

সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতে বিশ্ব প্রবৃদ্ধি নেমে যেতে পারে ২ শতাংশে, যা বৈশ্বিক মন্দার খুব কাছাকাছি অবস্থান। ইতিহাসে এমন পরিস্থিতি খুব কমই দেখা গেছে।

এই অবস্থায় সরকারগুলো জ্বালানির দাম কমাতে ভর্তুকি বা কর ছাড়ের মতো পদক্ষেপ নিতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, এসব পদক্ষেপ দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে।

বিশ্ববাজারে বাড়ছে জ্বালানি তেলের দাম, ব্যারেলপ্রত...

সামনে কী

বিশ্ব অর্থনীতি এখন এক অনিশ্চিত মোড়ে দাঁড়িয়ে। সংঘাত কতদিন চলবে এবং জ্বালানি বাজার কতটা স্থিতিশীল থাকবে—এই দুই বিষয়ই নির্ধারণ করবে আগামী দিনের অর্থনৈতিক চিত্র।

এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে স্থিতিশীল নীতি, সতর্ক ব্যয় এবং দুর্বল জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা নিশ্চিত করা।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূগোলের নিরাপত্তাবলয় ভেঙে পড়ছে, যুক্তরাষ্ট্র কি নতুন যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত?

যুদ্ধের ছায়ায় বিশ্ব অর্থনীতি, প্রবৃদ্ধি কমার সতর্কতা দিল আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল

১১:২৯:৫৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিতে গভীরভাবে পড়তে শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বিশ্ব প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে সতর্ক করেছে, পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে বৈশ্বিক মন্দার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

প্রবৃদ্ধির নতুন হিসাব

সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছরে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি দাঁড়াতে পারে প্রায় ৩.১ শতাংশে। তবে এই হিসাব নির্ভর করছে সংঘাত দ্রুত শেষ হবে এমন আশার ওপর। বাস্তবে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠলে প্রবৃদ্ধি নেমে আসতে পারে ২.৫ শতাংশে, যা অনেক দেশের জন্য বড় ধাক্কা হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিদিন সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিশ্ব অর্থনীতি আরও অনিশ্চয়তার দিকে যাচ্ছে। ফলে এই পূর্বাভাস দ্রুতই বদলে যেতে পারে।

Crude prices spike as producers cut output

তেলের দামে চাপ ও মূল্যস্ফীতি

সংঘাতের কারণে জ্বালানি সরবরাহে ব্যাঘাত তৈরি হওয়ায় তেলের দাম বাড়ছে। পরিস্থিতি খারাপ হলে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলার বা তারও বেশি হতে পারে। এতে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়বে।

দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ দামে তেল বিক্রি হলে মানুষের মধ্যে মূল্যস্ফীতি স্থায়ী হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হবে। তখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোকে সুদের হার বাড়াতে হতে পারে, যা অর্থনীতিতে আরও চাপ সৃষ্টি করবে।

বড় অর্থনীতিগুলোর চিত্র

প্রধান অর্থনীতিগুলোর ক্ষেত্রেও মিশ্র চিত্র দেখা যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রবৃদ্ধি সামান্য কমলেও কর ছাড় ও বিনিয়োগের কারণে বড় পতন এড়ানো সম্ভব হতে পারে। ইউরোপীয় অঞ্চলে জ্বালানি নির্ভরতার কারণে চাপ বেশি পড়ছে, ফলে তাদের প্রবৃদ্ধি আরও কমার আশঙ্কা রয়েছে।

চীনের প্রবৃদ্ধিও কিছুটা কমতে পারে, যদিও সরকারি সহায়তা ও শুল্ক হ্রাসের কারণে আংশিক ভারসাম্য তৈরি হতে পারে। অন্যদিকে ভারতের প্রবৃদ্ধি তুলনামূলক স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে।

IMF cuts growth outlook, warns world already drifting toward more adverse  scenario By Reuters

মধ্যপ্রাচ্যে সবচেয়ে বড় আঘাত

সংঘাতের কেন্দ্রস্থল হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়ছে। অবকাঠামো ক্ষতি, রপ্তানি কমে যাওয়া এবং উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় অনেক দেশের অর্থনীতি সংকুচিত হতে পারে।

তবে যদি সংঘাত দ্রুত শেষ হয়, তাহলে পরের বছর এই অঞ্চল কিছুটা ঘুরে দাঁড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মন্দার আশঙ্কা কতটা বাস্তব

সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতে বিশ্ব প্রবৃদ্ধি নেমে যেতে পারে ২ শতাংশে, যা বৈশ্বিক মন্দার খুব কাছাকাছি অবস্থান। ইতিহাসে এমন পরিস্থিতি খুব কমই দেখা গেছে।

এই অবস্থায় সরকারগুলো জ্বালানির দাম কমাতে ভর্তুকি বা কর ছাড়ের মতো পদক্ষেপ নিতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, এসব পদক্ষেপ দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে।

বিশ্ববাজারে বাড়ছে জ্বালানি তেলের দাম, ব্যারেলপ্রত...

সামনে কী

বিশ্ব অর্থনীতি এখন এক অনিশ্চিত মোড়ে দাঁড়িয়ে। সংঘাত কতদিন চলবে এবং জ্বালানি বাজার কতটা স্থিতিশীল থাকবে—এই দুই বিষয়ই নির্ধারণ করবে আগামী দিনের অর্থনৈতিক চিত্র।

এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে স্থিতিশীল নীতি, সতর্ক ব্যয় এবং দুর্বল জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা নিশ্চিত করা।