০৬:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক ক্যানসারে আক্রান্ত ‘ইভিল ডেড’ তারকা ব্রুস ক্যাম্পবেল, বললেন বাঁচার সময় পাঁচ বছর ইরান যুদ্ধের ধাক্কাতেও যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজার শক্তিশালী, চাকরির শূন্যপদ ৭৪ লাখ

যুদ্ধের মাঝেও চাঙা মার্কিন শেয়ারবাজার, বিনিয়োগকারীদের আশাবাদ কতটা টেকসই?

ইরান সংঘাতের ধাক্কা কাটিয়ে আবারও ঘুরে দাঁড়িয়েছে মার্কিন শেয়ারবাজার। যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগের অবস্থার চেয়েও এখন সূচক কিছুটা ওপরে উঠেছে, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক ধরনের আশাবাদ তৈরি করেছে। তবে এই আশাবাদ কতটা বাস্তবসম্মত, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

যুদ্ধের প্রভাব পেছনে ফেলে বাজারের উত্থান

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত শুরুর পর প্রথম দিকে বাজারে বড় ধরনের পতন দেখা গেলেও পরে দ্রুত পুনরুদ্ধার হয়েছে। প্রধান সূচক এসঅ্যান্ডপি ৫০০ এখন যুদ্ধ শুরুর আগের অবস্থার চেয়েও কিছুটা বেশি অবস্থানে রয়েছে। অনেক বিনিয়োগকারী মনে করছেন, এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হবে না, তাই বাজারে আস্থা ফিরে এসেছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম - TimesToday | Times Today BD | টাইমস টুডে | Latest News

তেলের দাম ও মুদ্রাস্ফীতির চাপ

যুদ্ধের কারণে তেলের দাম প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে। এর ফলে মুদ্রাস্ফীতির চাপও বেড়েছে এবং সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা অনেকটাই কমে গেছে। সরকারি বন্ডের সুদও বেড়েছে, যা সাধারণত শেয়ারবাজারের জন্য নেতিবাচক হিসেবে বিবেচিত হয়।

তবুও বাজারে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব দেখা যায়নি। কারণ বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন, এই পরিস্থিতি সাময়িক এবং দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

বিনিয়োগকারীদের আশাবাদের ভিত্তি

বাজারে ইতিবাচক মনোভাবের অন্যতম বড় কারণ হলো করপোরেট আয়ের সম্ভাবনা। ধারণা করা হচ্ছে, ২০২৬ সালে বড় বড় কোম্পানির আয় প্রায় ১৯ শতাংশ বাড়তে পারে, যা আগের পূর্বাভাসের চেয়েও বেশি। এই শক্তিশালী আয়ের প্রত্যাশা বাজারকে ধরে রেখেছে।

এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে চলা বুলিশ প্রবণতাও বিনিয়োগকারীদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। অনেকেই বাজারে সুযোগ হারাতে চান না, তাই ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও বিনিয়োগ চালিয়ে যাচ্ছেন।

Top Factors Influencing Oil Price Fluctuations: OPEC, Supply, Demand

সাময়িক নাকি দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি?

বিশ্লেষকদের মতে, বাজার এখন ধরে নিচ্ছে যে যুদ্ধের প্রভাব অল্প সময়ের মধ্যেই কমে যাবে। কিন্তু যদি এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং তেলের দাম ও সুদের হার উচ্চ পর্যায়ে থেকে যায়, তাহলে শেয়ারবাজারে চাপ বাড়তে পারে।

বর্তমানে বাজারের এই শক্ত অবস্থান অনেকটাই নির্ভর করছে ভবিষ্যতের প্রত্যাশার ওপর। যদি সেই প্রত্যাশা বাস্তব না হয়, তাহলে সামনে বড় ধরনের সংশোধন দেখা দিতে পারে।

সামনে কী দেখছে বাজার

বিনিয়োগকারীরা এখন করপোরেট আয়ের প্রতিবেদনগুলোর দিকে তাকিয়ে আছেন। প্রথম প্রান্তিকের ফলাফল বাজারের বর্তমান আশাবাদকে যাচাই করবে। যদি আয়ের প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশা অনুযায়ী না হয়, তাহলে বাজারে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।

সংক্ষেপে, যুদ্ধের মাঝেও বাজারের এই উত্থান বিনিয়োগকারীদের আত্মবিশ্বাসের প্রতিফলন হলেও এর ভেতরে লুকিয়ে আছে অনিশ্চয়তার বড় ঝুঁকি।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব?

যুদ্ধের মাঝেও চাঙা মার্কিন শেয়ারবাজার, বিনিয়োগকারীদের আশাবাদ কতটা টেকসই?

১১:৪৫:৪৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

ইরান সংঘাতের ধাক্কা কাটিয়ে আবারও ঘুরে দাঁড়িয়েছে মার্কিন শেয়ারবাজার। যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগের অবস্থার চেয়েও এখন সূচক কিছুটা ওপরে উঠেছে, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক ধরনের আশাবাদ তৈরি করেছে। তবে এই আশাবাদ কতটা বাস্তবসম্মত, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

যুদ্ধের প্রভাব পেছনে ফেলে বাজারের উত্থান

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত শুরুর পর প্রথম দিকে বাজারে বড় ধরনের পতন দেখা গেলেও পরে দ্রুত পুনরুদ্ধার হয়েছে। প্রধান সূচক এসঅ্যান্ডপি ৫০০ এখন যুদ্ধ শুরুর আগের অবস্থার চেয়েও কিছুটা বেশি অবস্থানে রয়েছে। অনেক বিনিয়োগকারী মনে করছেন, এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হবে না, তাই বাজারে আস্থা ফিরে এসেছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম - TimesToday | Times Today BD | টাইমস টুডে | Latest News

তেলের দাম ও মুদ্রাস্ফীতির চাপ

যুদ্ধের কারণে তেলের দাম প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে। এর ফলে মুদ্রাস্ফীতির চাপও বেড়েছে এবং সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা অনেকটাই কমে গেছে। সরকারি বন্ডের সুদও বেড়েছে, যা সাধারণত শেয়ারবাজারের জন্য নেতিবাচক হিসেবে বিবেচিত হয়।

তবুও বাজারে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব দেখা যায়নি। কারণ বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন, এই পরিস্থিতি সাময়িক এবং দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

বিনিয়োগকারীদের আশাবাদের ভিত্তি

বাজারে ইতিবাচক মনোভাবের অন্যতম বড় কারণ হলো করপোরেট আয়ের সম্ভাবনা। ধারণা করা হচ্ছে, ২০২৬ সালে বড় বড় কোম্পানির আয় প্রায় ১৯ শতাংশ বাড়তে পারে, যা আগের পূর্বাভাসের চেয়েও বেশি। এই শক্তিশালী আয়ের প্রত্যাশা বাজারকে ধরে রেখেছে।

এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে চলা বুলিশ প্রবণতাও বিনিয়োগকারীদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। অনেকেই বাজারে সুযোগ হারাতে চান না, তাই ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও বিনিয়োগ চালিয়ে যাচ্ছেন।

Top Factors Influencing Oil Price Fluctuations: OPEC, Supply, Demand

সাময়িক নাকি দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি?

বিশ্লেষকদের মতে, বাজার এখন ধরে নিচ্ছে যে যুদ্ধের প্রভাব অল্প সময়ের মধ্যেই কমে যাবে। কিন্তু যদি এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং তেলের দাম ও সুদের হার উচ্চ পর্যায়ে থেকে যায়, তাহলে শেয়ারবাজারে চাপ বাড়তে পারে।

বর্তমানে বাজারের এই শক্ত অবস্থান অনেকটাই নির্ভর করছে ভবিষ্যতের প্রত্যাশার ওপর। যদি সেই প্রত্যাশা বাস্তব না হয়, তাহলে সামনে বড় ধরনের সংশোধন দেখা দিতে পারে।

সামনে কী দেখছে বাজার

বিনিয়োগকারীরা এখন করপোরেট আয়ের প্রতিবেদনগুলোর দিকে তাকিয়ে আছেন। প্রথম প্রান্তিকের ফলাফল বাজারের বর্তমান আশাবাদকে যাচাই করবে। যদি আয়ের প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশা অনুযায়ী না হয়, তাহলে বাজারে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।

সংক্ষেপে, যুদ্ধের মাঝেও বাজারের এই উত্থান বিনিয়োগকারীদের আত্মবিশ্বাসের প্রতিফলন হলেও এর ভেতরে লুকিয়ে আছে অনিশ্চয়তার বড় ঝুঁকি।