দীর্ঘদিনের ক্ষতি ও বাজারে পিছিয়ে পড়ার চাপে বড় পরিবর্তনের পথে হাঁটছে জাপানের গাড়ি নির্মাতা নিসান। নতুন প্রধান নির্বাহী ইভান এস্পিনোসা দায়িত্ব নেওয়ার এক বছর পরই কোম্পানির জন্য বড় ধরনের সংস্কার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন, যার মূল লক্ষ্য লাভ বাড়ানো ও বাজারে প্রতিযোগিতা শক্তিশালী করা।
মডেল কমিয়ে দক্ষতা বাড়ানোর পরিকল্পনা
নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, নিসান তাদের গাড়ির মডেলের সংখ্যা ৫৬ থেকে কমিয়ে ৪৫-এ নামিয়ে আনবে। একই সঙ্গে মোট উৎপাদনের প্রায় ৮০ শতাংশ মাত্র তিনটি প্রধান প্ল্যাটফর্মভিত্তিক গাড়ি পরিবারে সীমাবদ্ধ করা হবে। এতে উৎপাদন খরচ কমবে এবং প্রযুক্তিগত সমন্বয় সহজ হবে বলে আশা করছে কোম্পানি।
এই কৌশলকে কোম্পানির ভবিষ্যৎ লাভজনকতার ভিত্তি হিসেবে দেখছেন প্রধান নির্বাহী। তিনি জানিয়েছেন, কম মডেল কিন্তু শক্তিশালী লাইনআপের মাধ্যমে বাজারে আরও কার্যকরভাবে প্রতিযোগিতা করা সম্ভব হবে।
যুক্তরাষ্ট্র ও চীনে বিক্রি বাড়ানোর লক্ষ্য
নিসান ২০৩০ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনে বছরে ১০ লাখের বেশি গাড়ি বিক্রির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য তারা নতুন ও আধুনিক মডেল বাজারে আনবে।
যুক্তরাষ্ট্রে জনপ্রিয় রগ ক্রসওভার মডেলের নতুন হাইব্রিড সংস্করণ এবং একসময় বন্ধ হয়ে যাওয়া এক্সটেরা এসইউভি পুনরায় চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। হাইব্রিড প্রযুক্তিতে নতুন করে জোর দিচ্ছে নিসান, কারণ প্রতিযোগী কোম্পানিগুলো ইতোমধ্যে এই খাতে বড় সাফল্য পেয়েছে।
নতুন হাইব্রিড প্রযুক্তিতে জোর
নিসান এমন একটি হাইব্রিড প্রযুক্তি ব্যবহার করছে যেখানে পেট্রোল ইঞ্জিন সরাসরি গাড়ি চালায় না, বরং ব্যাটারি চার্জ করে এবং সেই ব্যাটারিই গাড়ি চালায়। এই প্রযুক্তি তাদের নিজস্ব উদ্ভাবন, যা বাজারে আলাদা সুবিধা দিতে পারে বলে মনে করছে কোম্পানি।
চীনকে রপ্তানি কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা
চীনে দ্রুত উৎপাদন ও কম খরচে গাড়ি তৈরির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে নিসান। একই সঙ্গে দেশটিকে রপ্তানির কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করার পরিকল্পনা রয়েছে। এখান থেকে লাতিন আমেরিকা ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাজারে গাড়ি পাঠানো হবে।
চীনে তৈরি এন৭ সেডান ও ফ্রন্টিয়ার প্রো পিকআপ এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
জাপানে ছোট গাড়ির বাজারে জোর
নিজ দেশের বাজারে ছোট আকারের গাড়ির দিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে নিসান। নতুন একটি কমপ্যাক্ট গাড়ি ২০৩১ সালের মধ্যে বছরে প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার ইউনিট বিক্রির লক্ষ্য নিয়ে তৈরি করা হচ্ছে।
স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তিতে অগ্রগতি
নিসান তাদের উন্নত ড্রাইভার সহায়ক প্রযুক্তি আরও উন্নত করার পরিকল্পনাও জানিয়েছে। নতুন প্রজন্মের প্রোপাইলট প্রযুক্তিতে ২০২৮ সালের মধ্যে সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় চালনার সক্ষমতা যোগ করার লক্ষ্য রয়েছে। এর প্রথম ধাপ হিসেবে নতুন এলগ্র্যান্ড মিনিভ্যানে উন্নত প্রযুক্তি যুক্ত করা হবে।
চ্যালেঞ্জের মুখে পুনর্গঠন
দীর্ঘদিনের ক্ষতি, ঋণের চাপ এবং পুরোনো মডেলের কারণে বাজারে পিছিয়ে পড়েছিল নিসান। বৈদ্যুতিক ও হাইব্রিড গাড়ির দিকে বিশ্ববাজারের ঝোঁক বাড়লেও সেই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মেলাতে পারেনি কোম্পানিটি। নতুন এই পরিকল্পনার মাধ্যমে সেই ঘাটতি পূরণ করতে চায় তারা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 
















