জাপানে চলতি অর্থবছরে করপোরেট বন্ড বিক্রি নতুন রেকর্ড গড়ার পথে রয়েছে। দীর্ঘ প্রায় তিন দশকের মুদ্রাস্ফীতি-নিম্ন প্রবণতা থেকে অর্থনীতি বেরিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে একীভূতকরণ ও অধিগ্রহণ কার্যক্রম বেড়ে যাওয়ায় তহবিলের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
একীভূতকরণে তহবিল চাহিদা বাড়ছে
বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় আকারের ব্যবসায়িক চুক্তি সম্পন্ন করতে প্রতিষ্ঠানগুলো এখন আগের চেয়ে বেশি অর্থের প্রয়োজন বোধ করছে। এই প্রয়োজন মেটাতে তারা ব্যাংক ঋণের পাশাপাশি বন্ড বাজারের দিকে ঝুঁকছে। চলতি অর্থবছরে বন্ড ইস্যু উচ্চ পর্যায়েই থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাও থামাতে পারছে না গতি
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা না হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত সত্ত্বেও জাপানের বন্ড বাজারে বড় কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি। বরং মার্চ মাসে ইয়েনভিত্তিক বন্ড বিক্রি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৯৪ শতাংশ বেড়েছে, যা বৈশ্বিক করপোরেট ঋণ বৃদ্ধির তুলনায় অনেক বেশি।
নতুন রেকর্ডের পথে বাজার
বিশ্লেষকদের হিসাব অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে জাপানের করপোরেট বন্ড বিক্রি প্রায় ১৬.৫ ট্রিলিয়ন ইয়েনে পৌঁছাতে পারে, যা আগের বছরের ১৫.৯ ট্রিলিয়ন ইয়েনের তুলনায় বেশি। বিভিন্ন বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারাও মনে করছেন, এ বছর বন্ড বিক্রি সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে।
ব্যাংক ঋণের বিকল্প হিসেবে বন্ড
আগে প্রতিষ্ঠানগুলো মূলত ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভর করলেও এখন বড় প্রকল্প ও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের জন্য বন্ড ইস্যু জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাজারে অধিগ্রহণ চুক্তির পরিমাণ গত বছর প্রায় ৩১ ট্রিলিয়ন ইয়েনে পৌঁছেছে, যা একটি রেকর্ড।
পুনঃঅর্থায়নও বাড়াচ্ছে ইস্যু

করোনা মহামারির সময় ইস্যু করা বন্ডগুলোর মেয়াদ শেষ হওয়ায় সেগুলোর পুনঃঅর্থায়নও বাজারে নতুন বন্ড ইস্যুকে বাড়িয়ে দিচ্ছে। চলতি অর্থবছরে পরিশোধযোগ্য বন্ডের পরিমাণ ৮ শতাংশের বেশি বেড়ে প্রায় ১১.২ ট্রিলিয়ন ইয়েনে পৌঁছাতে পারে।
কিছুটা সতর্কতা, তবুও ইতিবাচক ধারা
তবে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার কারণে বাজারে কিছুটা অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে। এর প্রভাবে কিছু প্রতিষ্ঠান সাময়িকভাবে বন্ড বিক্রির সময় পিছিয়ে দিচ্ছে। তবুও বড় আকারের ব্যবসায়িক চুক্তি এবং পুনঃঅর্থায়নের চাহিদা বন্ড বাজারকে শক্তিশালী রেখেছে এবং নতুন রেকর্ড গড়ার সম্ভাবনা জোরালো করছে।
জাপানের করপোরেট বন্ড বাজারে এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেশটির অর্থনৈতিক পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 
















