০৭:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
চট্টগ্রামের রাউজানে যুবদল কর্মী গুলিতে নিহত ফখরুল মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে বললেন, বিনিয়োগের জন্য আদর্শ বাংলাদেশ ইরান যুদ্ধের কারণে দুবাই রুট বন্ধ, জামিলের মরদেহ দেশে ফেরাতে বিকল্প পথের খোঁজ এলডিসি স্নাতকের আগে সংস্কার না হলে বিনিয়োগ টানতে পারবে না বাংলাদেশ, সতর্কতা আঙ্কটাডের যশোরে ‘জিয়া খাল’ পুনরুদ্ধার করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, বাবার স্মৃতিতে নিবেদিত হামে শিশুমৃত্যু থামছে না, ৯৩ হাজার শিশুকে টিকা দেওয়ার অভিযান চলছে সাগর-রুনি হত্যা মামলার ১৪ বছর: সাংবাদিক দম্পতির বিচার আজও অধরা নারায়ণগঞ্জ সাত খুনের ১২ বছর: বিচারের দীর্ঘ প্রতীক্ষায় ভুক্তভোগী পরিবার সৌদি আরবে পৌঁছেছেন ৩৬ হাজারের বেশি বাংলাদেশি হজযাত্রী, ৯০টি ফ্লাইট সম্পন্ন বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড প্রথম টি-টোয়েন্টি: নিউজিল্যান্ডের ১৮২, টার্গেট তাড়া করছে বাংলাদেশ

লন্ডনে শেক্সপিয়রের বাসভবনের রহস্য উন্মোচন, নতুন মানচিত্রে মিলল গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

লন্ডনে শেক্সপিয়রের জীবন: নতুন আলো

বিশ্বখ্যাত নাট্যকার উইলিয়াম শেক্সপিয়রের জন্ম ইংল্যান্ডের স্ট্র্যাটফোর্ড-আপন-অ্যাভনে হলেও তার খ্যাতির আসল কেন্দ্র ছিল লন্ডন। তবে এই শহরে তার জীবনের খুব কম নিদর্শনই আজ অবশিষ্ট আছে।

সম্প্রতি ১৭শ শতাব্দীর একটি নতুন মানচিত্র আবিষ্কারের মাধ্যমে লন্ডনে শেক্সপিয়রের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ এক দিক নতুনভাবে সামনে এসেছে। এই মানচিত্রে প্রথমবারের মতো নির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করা গেছে শহরে তার কেনা একমাত্র বাড়ির অবস্থান, যেখানে তিনি সম্ভবত জীবনের শেষ দিকের নাটকগুলো রচনা করেছিলেন।

মানচিত্র আবিষ্কার ও গবেষণা

শেক্সপিয়র গবেষক লুসি মুনরো এই মানচিত্রটি খুঁজে পান লন্ডনের আর্কাইভে। তিনি জানান, এই আবিষ্কার শেক্সপিয়রের জীবনের অনেক অজানা দিককে পরিষ্কার করতে সাহায্য করছে। তার ভাষায়, এটি যেন শেক্সপিয়রের জীবনের ধাঁধার কিছু নতুন অংশ যোগ করেছে।

A plaque erected by the City of London to commemorate where William Shakespeare lived on a wall, top right, is pictured in London, Wednesday, April 15, 2026, he purchased lodgings in the Blackfriars Gatehouse, which was located close by. (AP Photo/Alastair Grant)

বাড়ির অবস্থান সম্পর্কে নতুন তথ্য

ইতিহাসবিদরা আগে থেকেই জানতেন, ১৬১৩ সালে শেক্সপিয়র ব্ল্যাকফ্রায়ার্স থিয়েটারের কাছাকাছি একটি সম্পত্তি কিনেছিলেন। তবে এর সঠিক অবস্থান এতদিন অজানাই ছিল।

নতুন আবিষ্কৃত মানচিত্রে ব্ল্যাকফ্রায়ার্স এলাকার একটি বিস্তারিত পরিকল্পনা দেখা যায়, যেখানে শেক্সপিয়রের বাড়িটি স্পষ্টভাবে চিহ্নিত। এটি ছিল একটি বড় এল-আকৃতির বাড়ি, যা একটি মধ্যযুগীয় মঠের অংশ থেকে তৈরি করা হয়েছিল।

এই এলাকাটি একসময় উচ্চবিত্তদের বাসস্থান ছিল। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি কিছুটা সাধারণ মানুষের জন্যও উন্মুক্ত হয়ে ওঠে, যেখানে শেক্সপিয়রের মতো বিত্তশালী কিন্তু নাট্যজগতের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা বসবাস করতেন।

সামাজিক প্রেক্ষাপট ও পরিবেশ

মঠগুলো ভেঙে দেওয়ার পর ব্ল্যাকফ্রায়ার্স এলাকায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বসবাস শুরু করেন। তবে একই সঙ্গে থিয়েটারের কারণে এলাকাটি নিয়ে কিছু অসন্তোষও ছিল। অনেকেই নাট্যশালাকে জনদুর্ভোগের কারণ হিসেবে দেখতেন।

শেক্সপিয়রের সম্ভাব্য জীবনযাপন

A plaque erected by the City of London to commemorate where William Shakespeare lived on a wall is pictured inLondon, Wednesday, April 15, 2026 he purchased lodgings in the Blackfriars Gatehouse, which was located close by. (AP Photo/Alastair Grant)

শেক্সপিয়র এই বাড়িতে থাকতেন নাকি ভাড়া দিতেন, তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। তবে বাড়ির আকার ও থিয়েটারের কাছাকাছি অবস্থান থেকে ধারণা করা হয়, জীবনের শেষ দিকে তিনি লন্ডনে বেশি সময় কাটিয়েছেন।

এখানেই তিনি সম্ভবত তার শেষ দিকের নাটক ‘হেনরি অষ্টম’ এবং ‘দ্য টু নোবেল কিনসমেন’ রচনায় কাজ করেছিলেন, যা তিনি জন ফ্লেচারের সঙ্গে যৌথভাবে লিখেছিলেন।

অগ্নিকাণ্ডে ধ্বংস

শেক্সপিয়রের মৃত্যুর পর এই সম্পত্তি তার মেয়ে সুসানার কাছে যায় এবং প্রায় অর্ধশতক পরিবারটির মালিকানায় ছিল। পরে তার নাতনি এটি বিক্রি করে দেন।

১৬৬৬ সালে লন্ডনের মহা অগ্নিকাণ্ডে বাড়িটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়, যা শহরের বড় অংশকে গ্রাস করেছিল।

This undated photo taken of an archive image from The London Archives, City of London Corporation shows a 17th century floorplan pinpointing for the first time the exact location of the only home Shakespeare bought in London. (The London Archives, City of London Corporation via AP)

বর্তমান অবস্থা ও স্মৃতিচিহ্ন

বর্তমানে এই এলাকাটি লন্ডনের আর্থিক জেলার অংশ। সেখানে শেক্সপিয়রের সময়কার খুব কম নিদর্শনই টিকে আছে। তবে একটি পুরনো প্রাচীরের অংশ এখনও সেই ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

এছাড়া ‘প্লেহাউস ইয়ার্ড’ নামটি মনে করিয়ে দেয়, এখানে একসময় একটি থিয়েটার ছিল। কাছেই একটি পানশালা রয়েছে, যার ঐতিহাসিক নাম ছিল ‘সাইন অব দ্য কক’। ধারণা করা হয়, শেক্সপিয়র ও তার সহকর্মীরা এখানে সময় কাটাতেন।

এই নতুন আবিষ্কার শেক্সপিয়রের লন্ডন জীবনের গুরুত্বকে নতুনভাবে তুলে ধরেছে, যা তার ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনের সঙ্গে শহরের গভীর সম্পর্ককে আরও স্পষ্ট করে।

চট্টগ্রামের রাউজানে যুবদল কর্মী গুলিতে নিহত

লন্ডনে শেক্সপিয়রের বাসভবনের রহস্য উন্মোচন, নতুন মানচিত্রে মিলল গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

১২:২৪:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

লন্ডনে শেক্সপিয়রের জীবন: নতুন আলো

বিশ্বখ্যাত নাট্যকার উইলিয়াম শেক্সপিয়রের জন্ম ইংল্যান্ডের স্ট্র্যাটফোর্ড-আপন-অ্যাভনে হলেও তার খ্যাতির আসল কেন্দ্র ছিল লন্ডন। তবে এই শহরে তার জীবনের খুব কম নিদর্শনই আজ অবশিষ্ট আছে।

সম্প্রতি ১৭শ শতাব্দীর একটি নতুন মানচিত্র আবিষ্কারের মাধ্যমে লন্ডনে শেক্সপিয়রের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ এক দিক নতুনভাবে সামনে এসেছে। এই মানচিত্রে প্রথমবারের মতো নির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করা গেছে শহরে তার কেনা একমাত্র বাড়ির অবস্থান, যেখানে তিনি সম্ভবত জীবনের শেষ দিকের নাটকগুলো রচনা করেছিলেন।

মানচিত্র আবিষ্কার ও গবেষণা

শেক্সপিয়র গবেষক লুসি মুনরো এই মানচিত্রটি খুঁজে পান লন্ডনের আর্কাইভে। তিনি জানান, এই আবিষ্কার শেক্সপিয়রের জীবনের অনেক অজানা দিককে পরিষ্কার করতে সাহায্য করছে। তার ভাষায়, এটি যেন শেক্সপিয়রের জীবনের ধাঁধার কিছু নতুন অংশ যোগ করেছে।

A plaque erected by the City of London to commemorate where William Shakespeare lived on a wall, top right, is pictured in London, Wednesday, April 15, 2026, he purchased lodgings in the Blackfriars Gatehouse, which was located close by. (AP Photo/Alastair Grant)

বাড়ির অবস্থান সম্পর্কে নতুন তথ্য

ইতিহাসবিদরা আগে থেকেই জানতেন, ১৬১৩ সালে শেক্সপিয়র ব্ল্যাকফ্রায়ার্স থিয়েটারের কাছাকাছি একটি সম্পত্তি কিনেছিলেন। তবে এর সঠিক অবস্থান এতদিন অজানাই ছিল।

নতুন আবিষ্কৃত মানচিত্রে ব্ল্যাকফ্রায়ার্স এলাকার একটি বিস্তারিত পরিকল্পনা দেখা যায়, যেখানে শেক্সপিয়রের বাড়িটি স্পষ্টভাবে চিহ্নিত। এটি ছিল একটি বড় এল-আকৃতির বাড়ি, যা একটি মধ্যযুগীয় মঠের অংশ থেকে তৈরি করা হয়েছিল।

এই এলাকাটি একসময় উচ্চবিত্তদের বাসস্থান ছিল। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি কিছুটা সাধারণ মানুষের জন্যও উন্মুক্ত হয়ে ওঠে, যেখানে শেক্সপিয়রের মতো বিত্তশালী কিন্তু নাট্যজগতের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা বসবাস করতেন।

সামাজিক প্রেক্ষাপট ও পরিবেশ

মঠগুলো ভেঙে দেওয়ার পর ব্ল্যাকফ্রায়ার্স এলাকায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বসবাস শুরু করেন। তবে একই সঙ্গে থিয়েটারের কারণে এলাকাটি নিয়ে কিছু অসন্তোষও ছিল। অনেকেই নাট্যশালাকে জনদুর্ভোগের কারণ হিসেবে দেখতেন।

শেক্সপিয়রের সম্ভাব্য জীবনযাপন

A plaque erected by the City of London to commemorate where William Shakespeare lived on a wall is pictured inLondon, Wednesday, April 15, 2026 he purchased lodgings in the Blackfriars Gatehouse, which was located close by. (AP Photo/Alastair Grant)

শেক্সপিয়র এই বাড়িতে থাকতেন নাকি ভাড়া দিতেন, তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। তবে বাড়ির আকার ও থিয়েটারের কাছাকাছি অবস্থান থেকে ধারণা করা হয়, জীবনের শেষ দিকে তিনি লন্ডনে বেশি সময় কাটিয়েছেন।

এখানেই তিনি সম্ভবত তার শেষ দিকের নাটক ‘হেনরি অষ্টম’ এবং ‘দ্য টু নোবেল কিনসমেন’ রচনায় কাজ করেছিলেন, যা তিনি জন ফ্লেচারের সঙ্গে যৌথভাবে লিখেছিলেন।

অগ্নিকাণ্ডে ধ্বংস

শেক্সপিয়রের মৃত্যুর পর এই সম্পত্তি তার মেয়ে সুসানার কাছে যায় এবং প্রায় অর্ধশতক পরিবারটির মালিকানায় ছিল। পরে তার নাতনি এটি বিক্রি করে দেন।

১৬৬৬ সালে লন্ডনের মহা অগ্নিকাণ্ডে বাড়িটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়, যা শহরের বড় অংশকে গ্রাস করেছিল।

This undated photo taken of an archive image from The London Archives, City of London Corporation shows a 17th century floorplan pinpointing for the first time the exact location of the only home Shakespeare bought in London. (The London Archives, City of London Corporation via AP)

বর্তমান অবস্থা ও স্মৃতিচিহ্ন

বর্তমানে এই এলাকাটি লন্ডনের আর্থিক জেলার অংশ। সেখানে শেক্সপিয়রের সময়কার খুব কম নিদর্শনই টিকে আছে। তবে একটি পুরনো প্রাচীরের অংশ এখনও সেই ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

এছাড়া ‘প্লেহাউস ইয়ার্ড’ নামটি মনে করিয়ে দেয়, এখানে একসময় একটি থিয়েটার ছিল। কাছেই একটি পানশালা রয়েছে, যার ঐতিহাসিক নাম ছিল ‘সাইন অব দ্য কক’। ধারণা করা হয়, শেক্সপিয়র ও তার সহকর্মীরা এখানে সময় কাটাতেন।

এই নতুন আবিষ্কার শেক্সপিয়রের লন্ডন জীবনের গুরুত্বকে নতুনভাবে তুলে ধরেছে, যা তার ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনের সঙ্গে শহরের গভীর সম্পর্ককে আরও স্পষ্ট করে।