যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক নেতৃত্ব কংগ্রেসে এক ব্রিফিংয়ে চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক তৎপরতাকে বড় হুমকি হিসেবে তুলে ধরেছে। বিশেষ করে তাইওয়ানকে ঘিরে চীনের সামরিক মহড়া এবং মহাকাশ ক্ষেত্রেও তাদের কার্যক্রমকে সামনে এনে ২০২৭ অর্থবছরের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রস্তুতির প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করা হয়।
তাইওয়ান ঘিরে চীনের মহড়া নিয়ে উদ্বেগ
যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর উপ-প্রধান জেমস কিলবি জানান, চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি তাইওয়ান ও আশপাশের এলাকায় নিয়মিত ‘আক্রমণ অনুশীলন’ এবং সরাসরি গোলাবর্ষণের মহড়া চালাচ্ছে। এই কার্যক্রম ইঙ্গিত দেয় যে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শক্তিশালী ও যুদ্ধপ্রস্তুত নৌবাহিনী বজায় রাখা এখন অত্যন্ত জরুরি।
তিনি আরও বলেন, বিশ্বজুড়ে মিত্র ও অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় ও দায়িত্ব ভাগাভাগির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র শান্তি রক্ষায় কাজ চালিয়ে যাবে এবং প্রয়োজনে হুমকির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।

কংগ্রেসে সামরিক প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা
কংগ্রেসের সশস্ত্র বাহিনী বিষয়ক উপকমিটির এক শুনানিতে কিলবি এসব বক্তব্য দেন। বিরতির পর কংগ্রেস অধিবেশন শুরু হওয়ার পর এই শুনানিতে আগামী বছরের সামরিক প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
শুনানির পুরো সময় জুড়ে ইরান সংশ্লিষ্ট সামরিক চ্যালেঞ্জও একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হিসেবে উঠে আসে।
সামরিক সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা
শুনানিতে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, মেরিন কোর এবং মহাকাশ বাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা স্বীকার করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতার কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। বিশেষ করে যুদ্ধজাহাজ, বিমান ও স্থলযানে যন্ত্রাংশের ঘাটতি, রক্ষণাবেক্ষণের সীমিত সুযোগ এবং শিল্প উৎপাদন সক্ষমতার ঘাটতি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই বাস্তবতা তুলে ধরে সামরিক নেতৃত্ব কংগ্রেসকে বোঝানোর চেষ্টা করছে যে, ভবিষ্যৎ হুমকি মোকাবিলায় আরও বড় বাজেট এবং শক্তিশালী প্রস্তুতি এখন সময়ের দাবি।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















