ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে কূটনৈতিক অস্বস্তি তৈরি হয়েছে কোয়াড জোটকে ঘিরে। শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতি অনিশ্চিত থাকলেও ভারত বিকল্প উপায়ে বৈঠক এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে।
কোয়াড বৈঠক নিয়ে নতুন কৌশল
ভারত ২০২৫ সালে কোয়াডের ঘূর্ণায়মান সভাপতির দায়িত্ব পালন শেষ করলেও সেই সময় কোনো শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়নি। এই প্রেক্ষাপটে নয়াদিল্লি এখন পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের একটি বৈঠক আয়োজনের পরিকল্পনা করছে।
তবে এই বৈঠককে এমনভাবে উপস্থাপন করা হতে পারে যেন এটি শীর্ষ পর্যায়ের আলোচনা—যদিও রাষ্ট্রপ্রধানরা এতে উপস্থিত না-ও থাকতে পারেন। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

ভারতের কূটনৈতিক অস্বস্তি ও সমাধানের চেষ্টা
এই পদক্ষেপকে ভারতের একাধিক কূটনৈতিক অস্বস্তি কাটানোর প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। শীর্ষ সম্মেলন আয়োজন করতে না পারার বিষয়টি ভারতের জন্য বিব্রতকর হয়ে উঠেছিল, এবং নতুন এই উদ্যোগ সেই পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার একটি উপায়।
বিশ্লেষকদের সমালোচনা
ওয়াশিংটনের একটি থিঙ্ক ট্যাঙ্কের বিশেষজ্ঞ সৌরভ গুপ্ত এই উদ্যোগের কড়া সমালোচনা করেছেন।
তার মতে, এই ধরনের আয়োজন বাস্তব ফলাফলের তুলনায় কেবল বাহ্যিক রূপ দেওয়ার চেষ্টা। তিনি বলেন, এর ফলাফল কার্যত তেমন গুরুত্বপূর্ণ হবে না এবং এটি বাস্তবতার চেয়ে বেশি প্রদর্শনীমূলক।

কোয়াডের প্রেক্ষাপট
কোয়াড হলো একটি অনানুষ্ঠানিক কৌশলগত জোট, যার সদস্য ভারত, অস্ট্রেলিয়া, জাপান এবং যুক্তরাষ্ট্র।
২০১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে এই জোট পুনরুজ্জীবিত হয়।
এটি সাধারণত অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবিলার একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে।
উপসংহার
সব মিলিয়ে, কোয়াডের ভবিষ্যৎ কার্যক্রম ও নেতৃত্ব পর্যায়ের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ভারত এই পরিস্থিতিতে নিজেদের কূটনৈতিক অবস্থান ধরে রাখতে বিকল্প পথে এগোতে চাইছে, যদিও বিশ্লেষকদের একাংশ এতে বাস্তব সাফল্য নিয়ে সন্দিহান।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















