যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান যুদ্ধকে প্রায় শেষ হয়ে যাওয়া এবং সফল হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন। তবে বাস্তব পরিস্থিতি তার এই বক্তব্যের সঙ্গে পুরোপুরি মিলছে না। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের ফলাফল বরং ইরানের ক্ষমতার কাঠামোয় কঠোরপন্থীদের প্রভাব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
নেতৃত্ব পরিবর্তন নাকি ক্ষমতার ধারাবাহিকতা
ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানে নতুন নেতৃত্ব এসেছে এবং তারা তুলনামূলকভাবে ‘যৌক্তিক’। কিন্তু বিশ্লেষকদের মতে, এটি প্রকৃত অর্থে ইতিবাচক পরিবর্তন নয়। নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে মোজতবা খামেনির দায়িত্ব গ্রহণকে অনেকেই ধারাবাহিকতার প্রতীক হিসেবেই দেখছেন, পরিবর্তনের নয়।

ইরানের শক্তি কমেনি, বরং বেড়েছে
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ৪০ দিনের হামলার পর যুদ্ধবিরতি হলেও ইরানের সামরিক ও কঠোরপন্থী গোষ্ঠীগুলোর প্রভাব বেড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দেশটির গুরুত্বপূর্ণ সামরিক বাহিনী এবং রাজনৈতিক কাঠামো এখনও দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে। একই সঙ্গে তারা বৈশ্বিক বাণিজ্যে প্রভাব ফেলতে সক্ষমতা দেখিয়েছে, যা জ্বালানির দাম বাড়ানোর মতো প্রভাব তৈরি করেছে।
হরমুজ প্রণালিতে অনিশ্চয়তা
বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক কার্যক্রম এখনো পুরোপুরি ফিরে আসেনি। এছাড়া ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রের দাবির কাছে নতি স্বীকার করছে না। ফলে পরিস্থিতি এখনো অস্থির।

ট্রাম্পের কৌশল কতটা কার্যকর
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে হুমকি ও চাপ প্রয়োগকে পররাষ্ট্রনীতির প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছেন। কিন্তু ইরানের মতো জটিল ও অস্বচ্ছ রাজনৈতিক কাঠামোর ক্ষেত্রে এই কৌশল কার্যকর হচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর প্রভাব বিস্তারের উপায় খুঁজে পাচ্ছে না।
চুক্তির সম্ভাবনা ও সীমাবদ্ধতা
যুক্তরাষ্ট্র একটি বড় ধরনের সমঝোতা চুক্তির আশা করছে, যেখানে ইরানকে ‘স্বাভাবিক’ দেশের মতো আচরণ করলে অর্থনৈতিক সুবিধা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক আলোচনায় কোনো চুক্তি হয়নি। যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা চালিয়ে যেতে আগ্রহী হলেও ইরানও নিজেদের স্বার্থ অনুযায়ী কঠোর অবস্থান বজায় রাখছে।

ইরানের দরকষাকষির অবস্থান শক্ত
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের অভিজ্ঞতা থেকে ইরান বুঝে গেছে তাদের কতটা প্রভাব রয়েছে। ফলে তারা আলোচনায় নিজেদের শর্ত তুলে ধরতে পারে, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এবং পারমাণবিক নীতির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে।
ছোট ও সীমিত চুক্তির সম্ভাবনা
সাবেক এক মার্কিন কর্মকর্তা মনে করেন, ইরান কোনোভাবেই যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কাছে পুরোপুরি নতি স্বীকার করবে না। তারা এমন চুক্তিই করবে যা তাদের স্বার্থ রক্ষা করে। ফলে বড় ধরনের পরিবর্তনের বদলে ছোট ও সীমিত সমঝোতাই বেশি সম্ভাব্য।
বর্তমান বাস্তবতা কী বলছে
সব মিলিয়ে দেখা যাচ্ছে, ট্রাম্প যেভাবে ইরান যুদ্ধকে সফল হিসেবে তুলে ধরছেন, বাস্তবে পরিস্থিতি অনেক বেশি জটিল। ইরান এখনো শক্ত অবস্থানে রয়েছে এবং আলোচনার টেবিলে তাদের অবস্থানও দুর্বল নয়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















