০৩:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আইন আসছে: সুযোগ না ঝুঁকি—কোন পথে যাচ্ছে বিশ্ব টিকার মজুত নিয়ে ধোঁয়াশা, সংকট মরণব্যাধি জলাতঙ্কের টিকার চীনের প্রযুক্তি আটকে রাখার কৌশল, তবু বিশ্ব কি থামবে? চীনের রপ্তানি বুম থামছে না, নতুন বাজারে বিস্তারেই বাড়ছে উদ্বৃত্ত মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে চীনা স্যাটেলাইটের প্রভাব, নতুন শক্তির ভারসাম্যে বদল চীনবিরোধী বিক্ষোভে কারাদণ্ড: কাজাখস্তানে ১১ জনের সাজা, মধ্য এশিয়ায় চীনের প্রভাব নিয়ে নতুন বিতর্ক ভারতের শহরে হর্নের দাপট: শব্দদূষণে স্বাস্থ্যঝুঁকি ও অর্থনীতির ক্ষতি বাড়ছে মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে হস্তক্ষেপের শঙ্কা: ট্রাম্প ঘিরে নতুন উদ্বেগ পাকিস্তানের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে সেনাপ্রধান আসিম মুনির জ্বালানি সংকটে কৃষিযন্ত্রের বাজারে ধস, বিক্রি কমে ৭০ শতাংশ—চাপে পড়ছে কৃষি উৎপাদন

জাপানে বিদেশি রেস্তোরাঁ কর্মীদের ভিসা আবেদন স্থগিত

জাপান সরকার বিদেশি রেস্তোরাঁ কর্মীদের জন্য নির্দিষ্ট দক্ষ কর্মী কর্মসূচির অধীনে নতুন ভিসা আবেদন গ্রহণ হঠাৎ করে বন্ধ করে দিয়েছে। মূলত নির্ধারিত কোটা দ্রুত পূর্ণ হওয়ার আশঙ্কায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা বিদেশি কর্মী ও রেস্তোরাঁ খাত—উভয়ের জন্যই অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

কোটা পূর্ণ হওয়ার পথে
ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি শেষে খাদ্যসেবা খাতে প্রায় ৪৬ হাজার বিদেশি নির্দিষ্ট দক্ষ কর্মী কাজ করছিলেন। ২০২৪ সালের এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া পাঁচ বছরের জন্য এই খাতে মোট ৫০ হাজার কর্মীর সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমান গতিতে এই সীমা ২০২৬ সালের মে মাসের মধ্যেই পূর্ণ হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে মার্চের শেষ দিকে কর্তৃপক্ষ ঘোষণা দেয়, নির্ধারিত সীমা অতিক্রম হওয়ার আগেই নতুন আবেদন গ্রহণ বন্ধ করা হবে।

Japan suspends issuing new visas for foreign restaurant workers - VnExpress  International

 

আবেদন প্রক্রিয়ায় অনিশ্চয়তা
সোমবারের পর জমা পড়া কোনো আবেদন আর গ্রহণ করা হবে না। তবে আগে যারা আবেদন করেছেন, তাদের ক্ষেত্রে কোটা পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে সনদ দেওয়া হবে। তবুও প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের বিলম্ব হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এই আকস্মিক সিদ্ধান্ত বিদেশি কর্মী ও নিয়োগের অপেক্ষায় থাকা রেস্তোরাঁগুলোর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

রেস্তোরাঁ খাতে প্রভাব
বড় রেস্তোরাঁ চেইন পরিচালনাকারী একটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের ৩২ জন বিদেশি শিক্ষার্থী কর্মী জুন মাসে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পূর্ণকালীন চাকরিতে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন, যাতে পড়াশোনা শেষের পরও তারা জাপানে থাকতে পারেন। কিন্তু নতুন সিদ্ধান্তের কারণে সেই পরিকল্পনা বাতিল করতে হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটি বিদেশি কর্মীদের জন্য প্রশিক্ষণ ও ভিসা সহায়তা কার্যক্রম চালু রেখেছিল, যা আপাতত বন্ধ রাখতে হয়েছে। বর্তমানে তাদের প্রায় ২৭০ জন কর্মী এই নির্দিষ্ট দক্ষ কর্মী কর্মসূচির আওতায় কাজ করছেন।

কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই সিদ্ধান্তে অনেক বিদেশি কর্মী উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। তারা আশা করছেন, সরকার ভবিষ্যতে এই খাতের কোটা বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করবে।

Japan freezes visa applications for foreign restaurant workers

কর্মসূচির পটভূমি
জাপানে দীর্ঘদিনের শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় ২০১৯ অর্থবছরে এই নির্দিষ্ট দক্ষ কর্মী কর্মসূচি চালু করা হয়। এর আওতায় নার্সিং, নির্মাণসহ মোট ১৬টি খাতে বিদেশি দক্ষ কর্মী নিয়োগের সুযোগ তৈরি করা হয়।

এই কর্মসূচির প্রথম ধাপের ভিসাধারীরা সর্বোচ্চ পাঁচ বছর জাপানে থাকার অনুমতি পান।

ভবিষ্যৎ চাহিদা ও সুযোগ
২০২৫ সালের শেষ নাগাদ এই কর্মসূচির আওতায় প্রায় ৩ লাখ ৯০ হাজার বিদেশি কর্মী ছিলেন। ২০২৯ অর্থবছরের শেষে এই সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৮ লাখ ২০ হাজারে পৌঁছানোর লক্ষ্য রয়েছে।

তবে খাদ্যসেবা খাত ছাড়া অন্যান্য খাতে এখনও সুযোগ রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে নার্সিং খাতে বর্তমানে প্রায় ৬৮ হাজার কর্মী রয়েছেন, যেখানে নির্ধারিত সীমা ১ লাখ ৩৫ হাজার। ফলে এসব খাতে বিদেশি কর্মীদের জন্য এখনও নতুন সুযোগ খোলা রয়েছে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আইন আসছে: সুযোগ না ঝুঁকি—কোন পথে যাচ্ছে বিশ্ব

জাপানে বিদেশি রেস্তোরাঁ কর্মীদের ভিসা আবেদন স্থগিত

০৬:৫৮:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

জাপান সরকার বিদেশি রেস্তোরাঁ কর্মীদের জন্য নির্দিষ্ট দক্ষ কর্মী কর্মসূচির অধীনে নতুন ভিসা আবেদন গ্রহণ হঠাৎ করে বন্ধ করে দিয়েছে। মূলত নির্ধারিত কোটা দ্রুত পূর্ণ হওয়ার আশঙ্কায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা বিদেশি কর্মী ও রেস্তোরাঁ খাত—উভয়ের জন্যই অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

কোটা পূর্ণ হওয়ার পথে
ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি শেষে খাদ্যসেবা খাতে প্রায় ৪৬ হাজার বিদেশি নির্দিষ্ট দক্ষ কর্মী কাজ করছিলেন। ২০২৪ সালের এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া পাঁচ বছরের জন্য এই খাতে মোট ৫০ হাজার কর্মীর সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমান গতিতে এই সীমা ২০২৬ সালের মে মাসের মধ্যেই পূর্ণ হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে মার্চের শেষ দিকে কর্তৃপক্ষ ঘোষণা দেয়, নির্ধারিত সীমা অতিক্রম হওয়ার আগেই নতুন আবেদন গ্রহণ বন্ধ করা হবে।

Japan suspends issuing new visas for foreign restaurant workers - VnExpress  International

 

আবেদন প্রক্রিয়ায় অনিশ্চয়তা
সোমবারের পর জমা পড়া কোনো আবেদন আর গ্রহণ করা হবে না। তবে আগে যারা আবেদন করেছেন, তাদের ক্ষেত্রে কোটা পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে সনদ দেওয়া হবে। তবুও প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের বিলম্ব হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এই আকস্মিক সিদ্ধান্ত বিদেশি কর্মী ও নিয়োগের অপেক্ষায় থাকা রেস্তোরাঁগুলোর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

রেস্তোরাঁ খাতে প্রভাব
বড় রেস্তোরাঁ চেইন পরিচালনাকারী একটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের ৩২ জন বিদেশি শিক্ষার্থী কর্মী জুন মাসে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পূর্ণকালীন চাকরিতে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন, যাতে পড়াশোনা শেষের পরও তারা জাপানে থাকতে পারেন। কিন্তু নতুন সিদ্ধান্তের কারণে সেই পরিকল্পনা বাতিল করতে হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটি বিদেশি কর্মীদের জন্য প্রশিক্ষণ ও ভিসা সহায়তা কার্যক্রম চালু রেখেছিল, যা আপাতত বন্ধ রাখতে হয়েছে। বর্তমানে তাদের প্রায় ২৭০ জন কর্মী এই নির্দিষ্ট দক্ষ কর্মী কর্মসূচির আওতায় কাজ করছেন।

কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই সিদ্ধান্তে অনেক বিদেশি কর্মী উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। তারা আশা করছেন, সরকার ভবিষ্যতে এই খাতের কোটা বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করবে।

Japan freezes visa applications for foreign restaurant workers

কর্মসূচির পটভূমি
জাপানে দীর্ঘদিনের শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় ২০১৯ অর্থবছরে এই নির্দিষ্ট দক্ষ কর্মী কর্মসূচি চালু করা হয়। এর আওতায় নার্সিং, নির্মাণসহ মোট ১৬টি খাতে বিদেশি দক্ষ কর্মী নিয়োগের সুযোগ তৈরি করা হয়।

এই কর্মসূচির প্রথম ধাপের ভিসাধারীরা সর্বোচ্চ পাঁচ বছর জাপানে থাকার অনুমতি পান।

ভবিষ্যৎ চাহিদা ও সুযোগ
২০২৫ সালের শেষ নাগাদ এই কর্মসূচির আওতায় প্রায় ৩ লাখ ৯০ হাজার বিদেশি কর্মী ছিলেন। ২০২৯ অর্থবছরের শেষে এই সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৮ লাখ ২০ হাজারে পৌঁছানোর লক্ষ্য রয়েছে।

তবে খাদ্যসেবা খাত ছাড়া অন্যান্য খাতে এখনও সুযোগ রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে নার্সিং খাতে বর্তমানে প্রায় ৬৮ হাজার কর্মী রয়েছেন, যেখানে নির্ধারিত সীমা ১ লাখ ৩৫ হাজার। ফলে এসব খাতে বিদেশি কর্মীদের জন্য এখনও নতুন সুযোগ খোলা রয়েছে।