০৩:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আইন আসছে: সুযোগ না ঝুঁকি—কোন পথে যাচ্ছে বিশ্ব টিকার মজুত নিয়ে ধোঁয়াশা, সংকট মরণব্যাধি জলাতঙ্কের টিকার চীনের প্রযুক্তি আটকে রাখার কৌশল, তবু বিশ্ব কি থামবে? চীনের রপ্তানি বুম থামছে না, নতুন বাজারে বিস্তারেই বাড়ছে উদ্বৃত্ত মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে চীনা স্যাটেলাইটের প্রভাব, নতুন শক্তির ভারসাম্যে বদল চীনবিরোধী বিক্ষোভে কারাদণ্ড: কাজাখস্তানে ১১ জনের সাজা, মধ্য এশিয়ায় চীনের প্রভাব নিয়ে নতুন বিতর্ক ভারতের শহরে হর্নের দাপট: শব্দদূষণে স্বাস্থ্যঝুঁকি ও অর্থনীতির ক্ষতি বাড়ছে মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে হস্তক্ষেপের শঙ্কা: ট্রাম্প ঘিরে নতুন উদ্বেগ পাকিস্তানের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে সেনাপ্রধান আসিম মুনির জ্বালানি সংকটে কৃষিযন্ত্রের বাজারে ধস, বিক্রি কমে ৭০ শতাংশ—চাপে পড়ছে কৃষি উৎপাদন

পশ্চিমবঙ্গে নারী প্রার্থী নিয়ে রাজনীতিতে বৈষম্য, তৃণমূল এগিয়ে ২৭ শতাংশে

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন সামনে রেখে নারী প্রার্থীদের অংশগ্রহণ নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম হয়েছে। সামগ্রিক চিত্রে দেখা যাচ্ছে, বড় দলগুলোর মধ্যে একমাত্র তৃণমূল কংগ্রেসই উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় নারী প্রার্থী দিয়েছে, যেখানে অন্য দলগুলোর অংশগ্রহণ তুলনামূলকভাবে কম।

নারী প্রার্থীর সংখ্যা কেন কম
আগামী ২৩ ও ২৯ এপ্রিল ভোটের আগে প্রার্থীদের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মোট প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে নারীর অংশ মাত্র ১১ শতাংশ। এই সংখ্যা রাজনীতিতে নারীদের অংশগ্রহণের সীমাবদ্ধতাকেই তুলে ধরছে। বহু আলোচনা ও আইন থাকা সত্ত্বেও বাস্তবে নারী প্রতিনিধিত্ব এখনও কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি।

তৃণমূলের এগিয়ে থাকা
এই প্রেক্ষাপটে তৃণমূল কংগ্রেসই সবচেয়ে বেশি নারী প্রার্থী দিয়েছে। দলটি ২৯১টি আসনের মধ্যে ৫২ জন নারী প্রার্থী দাঁড় করিয়েছে, যা মোটের ২৭ দশমিক ২ শতাংশ। অন্য বড় দলগুলোর তুলনায় এটি অনেকটাই বেশি।

বাম, কংগ্রেস ও বিজেপির চিত্র
বামফ্রন্ট ও তাদের সহযোগীরা ২৫৩টি আসনে লড়াই করছে, যেখানে নারী প্রার্থী রয়েছে ৩৪ জন, অর্থাৎ প্রায় ১৩ দশমিক ৪৩ শতাংশ। কংগ্রেস ২৯৪টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে, যার মধ্যে নারী ৩৫ জন বা ১১ দশমিক ৯ শতাংশ। বিজেপিও ২৯৪টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে, কিন্তু নারী প্রার্থী মাত্র ৩৩ জন, যা ১১ দশমিক ২ শতাংশ—সবচেয়ে কম।

Bangladeshi Women, Girls, Minorities Face Rising Violence | Human Rights  Watch

আইন ও বাস্তবতার ফারাক
২০২৩ সালে নারী সংরক্ষণ আইন পাস হলেও তার বাস্তবায়ন এখনও ঝুলে আছে। নতুন করে সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাব আনা হয়েছে, যেখানে লোকসভার আসন সংখ্যা বাড়িয়ে ৮৫০ করার কথা বলা হয়েছে এবং সীমানা পুনর্নির্ধারণ প্রক্রিয়াকে জনগণনার সঙ্গে আলাদা করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এসব প্রস্তাব বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে
নারী সংরক্ষণ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে তীব্র মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। তৃণমূলের নেতারা দাবি করছেন, কেন্দ্র শুধু প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে কিন্তু বাস্তবায়ন করছে না। অন্যদিকে বিজেপির বক্তব্য, তারাই একমাত্র দল যারা প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ করে।

নারী প্রতিনিধিত্বের বর্তমান অবস্থা
বর্তমান বিধানসভায় নারী বিধায়কের সংখ্যা ৪১, যা মোট আসনের প্রায় ১৩ দশমিক ৯৪ শতাংশ। এটি জাতীয় গড়ের চেয়ে বেশি হলেও, বিশ্ব গড় ২৪ শতাংশের তুলনায় অনেক কম। ফলে নারী অংশগ্রহণ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

এই পরিস্থিতিতে আসন্ন নির্বাচন এবং সংসদের বিশেষ অধিবেশন নারী প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নে নতুন দিক নির্ধারণ করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনে নারী প্রার্থীর অংশগ্রহণ কম, তৃণমূল এগিয়ে—রাজনীতিতে নারী প্রতিনিধিত্ব নিয়ে নতুন বিতর্ক

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আইন আসছে: সুযোগ না ঝুঁকি—কোন পথে যাচ্ছে বিশ্ব

পশ্চিমবঙ্গে নারী প্রার্থী নিয়ে রাজনীতিতে বৈষম্য, তৃণমূল এগিয়ে ২৭ শতাংশে

০৮:০৬:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন সামনে রেখে নারী প্রার্থীদের অংশগ্রহণ নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম হয়েছে। সামগ্রিক চিত্রে দেখা যাচ্ছে, বড় দলগুলোর মধ্যে একমাত্র তৃণমূল কংগ্রেসই উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় নারী প্রার্থী দিয়েছে, যেখানে অন্য দলগুলোর অংশগ্রহণ তুলনামূলকভাবে কম।

নারী প্রার্থীর সংখ্যা কেন কম
আগামী ২৩ ও ২৯ এপ্রিল ভোটের আগে প্রার্থীদের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মোট প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে নারীর অংশ মাত্র ১১ শতাংশ। এই সংখ্যা রাজনীতিতে নারীদের অংশগ্রহণের সীমাবদ্ধতাকেই তুলে ধরছে। বহু আলোচনা ও আইন থাকা সত্ত্বেও বাস্তবে নারী প্রতিনিধিত্ব এখনও কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি।

তৃণমূলের এগিয়ে থাকা
এই প্রেক্ষাপটে তৃণমূল কংগ্রেসই সবচেয়ে বেশি নারী প্রার্থী দিয়েছে। দলটি ২৯১টি আসনের মধ্যে ৫২ জন নারী প্রার্থী দাঁড় করিয়েছে, যা মোটের ২৭ দশমিক ২ শতাংশ। অন্য বড় দলগুলোর তুলনায় এটি অনেকটাই বেশি।

বাম, কংগ্রেস ও বিজেপির চিত্র
বামফ্রন্ট ও তাদের সহযোগীরা ২৫৩টি আসনে লড়াই করছে, যেখানে নারী প্রার্থী রয়েছে ৩৪ জন, অর্থাৎ প্রায় ১৩ দশমিক ৪৩ শতাংশ। কংগ্রেস ২৯৪টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে, যার মধ্যে নারী ৩৫ জন বা ১১ দশমিক ৯ শতাংশ। বিজেপিও ২৯৪টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে, কিন্তু নারী প্রার্থী মাত্র ৩৩ জন, যা ১১ দশমিক ২ শতাংশ—সবচেয়ে কম।

Bangladeshi Women, Girls, Minorities Face Rising Violence | Human Rights  Watch

আইন ও বাস্তবতার ফারাক
২০২৩ সালে নারী সংরক্ষণ আইন পাস হলেও তার বাস্তবায়ন এখনও ঝুলে আছে। নতুন করে সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাব আনা হয়েছে, যেখানে লোকসভার আসন সংখ্যা বাড়িয়ে ৮৫০ করার কথা বলা হয়েছে এবং সীমানা পুনর্নির্ধারণ প্রক্রিয়াকে জনগণনার সঙ্গে আলাদা করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এসব প্রস্তাব বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে
নারী সংরক্ষণ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে তীব্র মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। তৃণমূলের নেতারা দাবি করছেন, কেন্দ্র শুধু প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে কিন্তু বাস্তবায়ন করছে না। অন্যদিকে বিজেপির বক্তব্য, তারাই একমাত্র দল যারা প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ করে।

নারী প্রতিনিধিত্বের বর্তমান অবস্থা
বর্তমান বিধানসভায় নারী বিধায়কের সংখ্যা ৪১, যা মোট আসনের প্রায় ১৩ দশমিক ৯৪ শতাংশ। এটি জাতীয় গড়ের চেয়ে বেশি হলেও, বিশ্ব গড় ২৪ শতাংশের তুলনায় অনেক কম। ফলে নারী অংশগ্রহণ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

এই পরিস্থিতিতে আসন্ন নির্বাচন এবং সংসদের বিশেষ অধিবেশন নারী প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নে নতুন দিক নির্ধারণ করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনে নারী প্রার্থীর অংশগ্রহণ কম, তৃণমূল এগিয়ে—রাজনীতিতে নারী প্রতিনিধিত্ব নিয়ে নতুন বিতর্ক