আইপিএলের মঞ্চে আবারও নিজেদের শক্তি দেখাল বেঙ্গালুরু। অনেকদিন ধরে ‘ব্যাটিং দল’ হিসেবে পরিচিত হলেও এবার তারা প্রমাণ করল—সঠিক দিনে তাদের বোলিং আক্রমণও সমান ভয়ংকর। লখনউকে কার্যত ম্যাচ থেকে ছিটকে দিয়ে পাঁচ উইকেটের জয়ে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে উঠে গেল দলটি।
লক্ষ্য ছিল মাত্র ১৪৭ রান। কিন্তু এই সামান্য লক্ষ্যও লখনউয়ের নাগালের বাইরে চলে যায়, কারণ শুরু থেকেই তারা চাপে পড়ে। শেষ পর্যন্ত ২৯ বল হাতে রেখেই সহজ জয় তুলে নেয় বেঙ্গালুরু।
শুরুর আঘাতেই ভেঙে পড়া লখনউ
ম্যাচের প্রথম থেকেই ছন্দে ছিলেন জশ হ্যাজলউড। নতুন বলে টেস্ট ম্যাচের মতো নিখুঁত লেংথে বল করে লখনউয়ের ব্যাটারদের দিশেহারা করে দেন তিনি। তার প্রথম স্পেলে মাত্র ১০ রান দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নেওয়া ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
তার সঙ্গে ভুবনেশ্বর কুমার এবং রসিখ সালামও সমানভাবে চাপ ধরে রাখেন। পাওয়ারপ্লেতে লখনউ এক বলেও রান তুলতে পারেনি স্বাভাবিক গতিতে। ব্যাটারদের মধ্যে ছিল স্পষ্ট অনিশ্চয়তা, আর সেই সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগায় বেঙ্গালুরু।

মাঝের ওভারে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ নেই
পিচ ধীরে ধীরে স্লো হয়ে আসছিল, সঙ্গে ছিল হালকা টার্ন। এই পরিস্থিতিতে ক্রুণাল পান্ডিয়া ও সুয়াশ শর্মা ব্যাটারদের আরও চাপে ফেলেন। ভিন্ন ভিন্ন ভ্যারিয়েশন দিয়ে ক্রুণাল ব্যাটারদের ভুল করতে বাধ্য করেন।
মিচেল মার্শ কিছুটা লড়াই করার চেষ্টা করলেও অন্যরা তাকে সঙ্গ দিতে পারেনি। লখনউয়ের ইনিংস এগোয় থেমে থেমে, আর মাঝের ওভারেই ম্যাচ কার্যত হাতছাড়া হয়ে যায়।

কোহলির নিয়ন্ত্রিত ব্যাটিং
ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই উইকেট পড়লেও তাতে বিচলিত হননি বিরাট কোহলি। তিনি ধীরে সুস্থে ইনিংস গড়ে তোলেন। পাওয়ারপ্লেতেই কয়েকটি বাউন্ডারি মেরে ম্যাচের দিক নির্ধারণ করে দেন তিনি।
এরপর স্বাভাবিক ছন্দে স্ট্রাইক রোটেশন ও দৌড়ে রান নিয়ে এগিয়ে যান। শেষ পর্যন্ত অধিনায়ক রজত পতিদার ও জিতেশ শর্মা দ্রুত ম্যাচ শেষ করে দেন।
পুরো ম্যাচ জুড়েই বেঙ্গালুরুর ছিল স্পষ্ট আধিপত্য—বল হাতে নিয়ন্ত্রণ, ব্যাট হাতে স্থিরতা এবং পরিকল্পনায় নিখুঁত বাস্তবায়ন। এই পারফরম্যান্সই তাদের শিরোপা রক্ষার আত্মবিশ্বাসকে আরও জোরালো করে তুলছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















