ভারতের সংসদে নারী সংরক্ষণ আইন বাস্তবায়নকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস অভিযোগ করেছে, এই আইনের সংশোধনের আড়ালে আসলে দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়া পরিবর্তনের চেষ্টা চলছে এবং এর সঙ্গে জড়িত রয়েছে আসন পুনর্বিন্যাসের পরিকল্পনা।
সংসদে বক্তব্যে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার বলেন, সরকার যে সাংবিধানিক সংশোধনী বিল আনছে, তা অত্যন্ত তাড়াহুড়ো করে আনা হয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যদি নারী সংরক্ষণ এত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকে, তাহলে বাজেট অধিবেশন শুরুর আগেই কেন এই বিল আনা হয়নি।
নারী সংরক্ষণ নিয়ে তৃণমূলের অবস্থান
কাকলি ঘোষ দস্তিদার জানান, তাদের দল দীর্ঘদিন ধরেই নারী সংরক্ষণের পক্ষে। তিনি বলেন, তাদের দল ৫০ শতাংশ আসন নারীদের জন্য সংরক্ষণের দাবি জানায়। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিভিন্ন নির্বাচনে ৩৩ শতাংশের বেশি আসনে নারী প্রার্থীদের মনোনয়ন দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, বহু বছর আগে থেকেই সংসদে নারী সংরক্ষণের দাবি তোলা হয়েছিল। কিন্তু এখন হঠাৎ করে এই বিল আনার পেছনে সরকারের উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।

তাড়াহুড়ো ও সময় নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন
তৃণমূলের এই সাংসদ অভিযোগ করেন, চলমান নির্বাচনের মধ্যেই এই বিল আনা হচ্ছে, যা রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হতে পারে। তিনি বলেন, এর আগে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলোর সময় বিশেষ অধিবেশন ডাকার দাবি জানানো হলেও তা মানা হয়নি, কিন্তু এই বিলটি হঠাৎ করে অগ্রাধিকার পাচ্ছে।
নির্বাচনী প্রক্রিয়া বদলের আশঙ্কা
তৃণমূলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, নারী সংরক্ষণের আড়ালে আসলে নির্বাচনী সীমানা পুনর্বিন্যাসের পরিকল্পনা রয়েছে, যা নির্বাচনী ফলাফলকে প্রভাবিত করতে পারে। কাকলি ঘোষ দস্তিদার সরাসরি বলেন, এটি নির্বাচনী প্রক্রিয়া পরিবর্তনের একটি আড়াল মাত্র।
ডিলিমিটেশন কমিশন নিয়ে উদ্বেগ
আলোচনায় অংশ নিয়ে তৃণমূলের আরেক সাংসদ প্রতিমা মণ্ডল বলেন, প্রস্তাবিত ডিলিমিটেশন কমিশনের কাঠামো ও ক্ষমতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে। তার মতে, বিচারিক পর্যালোচনার সুযোগ না থাকলে এই কমিশন কার্যত একটি আনুষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, সরকার যে প্রস্তাব দিচ্ছে, তা প্রকৃত নারী ক্ষমতায়ন নয়; বরং নির্বাচনী প্রকৌশলের মাধ্যমে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার একটি কৌশল।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















