যুদ্ধবিরতির নাজুক পরিস্থিতির মধ্যেই ইরান জুড়ে সামনে আসছে ধ্বংসস্তূপের ভয়াবহ চিত্র। সাম্প্রতিক মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলায় দেশটির বহু স্কুল ও হাসপাতাল ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে, যার ফলে সাধারণ মানুষের ওপর বিপুল প্রভাব পড়েছে। সারাক্ষণ রিপোর্ট
বেসামরিক স্থাপনায় বড় ধরনের ক্ষতি
যাচাই করা তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ২২টি স্কুল এবং ১৭টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে বাস্তব চিত্র আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দেশটির মানবিক সহায়তা সংস্থা জানিয়েছে, যুদ্ধ চলাকালে শত শত শিক্ষা ও চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এই হামলাগুলোর বেশিরভাগই জনবহুল এলাকায় হয়েছে, বিশেষ করে রাজধানী তেহরানে, যেখানে ঘনবসতির কারণে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা আরও বেড়েছে।
স্কুলে হামলা ও শিশুদের মৃত্যু

যুদ্ধের প্রথম দিনেই সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনা ঘটে দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরে। একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বোমা হামলায় অন্তত ১৭৫ জন নিহত হয়, যাদের বেশিরভাগই শিশু। তদন্তে উঠে এসেছে, পুরনো তথ্যের ভিত্তিতে ওই স্কুলকে সামরিক লক্ষ্যবস্তু হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল।
এছাড়া রাজধানীর কাছাকাছি আরও কয়েকটি স্কুলের পাশে বিস্ফোরণ ঘটে, যেখানে শিশুদের প্রাণহানি এবং আহত হওয়ার ঘটনা সামনে এসেছে। অনেক ক্ষেত্রে লক্ষ্যবস্তু ছিল পাশের সামরিক বা যোগাযোগ স্থাপনা, কিন্তু তার প্রভাব গিয়ে পড়েছে স্কুলে।
হাসপাতালও রক্ষা পায়নি
শুধু স্কুল নয়, হাসপাতালগুলোর অবস্থাও ভয়াবহ। তেহরানের একটি বড় হাসপাতালে হামলার ফলে ভবনের অংশবিশেষ ধসে পড়ে এবং রোগীদের দ্রুত সরিয়ে নিতে হয়। সেখানে নবজাতক, আইসিইউ রোগী এবং প্রসূতি নারীরা ছিলেন।
দক্ষিণের একটি হাসপাতালেও একই পরিস্থিতি তৈরি হয়, যেখানে নবজাতকদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। চিকিৎসক ও কর্মীরা জানিয়েছেন, অনেক ক্ষেত্রে জীবনরক্ষাকারী যন্ত্র খুলে ফেললে রোগীরা বাঁচবে না—এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে।
আন্তর্জাতিক আইনের প্রশ্ন

আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অনুযায়ী স্কুল ও হাসপাতাল সবচেয়ে সুরক্ষিত বেসামরিক স্থাপনা। এসব স্থাপনায় ইচ্ছাকৃত হামলা যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামরিক লক্ষ্যবস্তুর পাশেই যদি এমন স্থাপনা থাকে, তাহলেও হামলার আগে ঝুঁকি কমানোর দায়িত্ব থাকে।
তবে মার্কিন ও ইসরায়েলি পক্ষ দাবি করেছে, তারা যথাসম্ভব সতর্কতার সঙ্গে হামলা চালিয়েছে এবং বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়নি।
তেহরানে ধ্বংসের মাত্রা
রাজধানী তেহরানে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এখানে হাজার হাজার আবাসিক ও বাণিজ্যিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শহরের বিভিন্ন স্থানে সামরিক ও সরকারি ভবনের পাশাপাশি থাকা স্কুল ও হাসপাতালও হামলার শিকার হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘনবসতিপূর্ণ শহরে এমন হামলার প্রভাব আগেই অনুমান করা সম্ভব ছিল এবং তা এড়াতে আরও সতর্কতা নেওয়া উচিত ছিল।

স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় চাপ বাড়ছে
ক্রমাগত হামলার কারণে ইরানের স্বাস্থ্যব্যবস্থা চাপে পড়ে গেছে। চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে, দীর্ঘমেয়াদি রোগীদের চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে উঠছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, স্বাস্থ্যখাতে একাধিক হামলা হয়েছে, যা চিকিৎসা সেবার ধারাবাহিকতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
যুদ্ধের এই প্রেক্ষাপটে সবচেয়ে বড় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ—বিশেষ করে শিশু, রোগী এবং চিকিৎসাকর্মীরা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















