০৩:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬
খুলনা নগরীতে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার সাভার–আশুলিয়ায় ২৪ ঘণ্টার গ্যাস বন্ধ ঘোষণা কক্সবাজারের টেকনাফের দুর্গম পাহাড়ে তিন যুবকের মরদেহ উদ্ধার ইরান যুদ্ধ-সমঝোতার আশায় তেলের দাম কমল, শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বগতি ইন্দোনেশিয়ায় বিশাল গ্যাসক্ষেত্র আবিস্কার, এশিয়ার বাজারে প্রভাবের ইঙ্গিত পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় মুসলিম প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে  বৈষম্য  ভারতের এলপিজি সরবরাহে কৌশলগত দুর্বলতা: আমদানিনির্ভর রান্নাঘরের ঝুঁকি বাড়ছে ইউপিএসসি প্রস্তুতির দীর্ঘ পথ মানসিক চাপে ভেঙে পড়ছেন প্রার্থীরা পশ্চিমবঙ্গে ভোটের আগে উত্তেজনা, সংঘর্ষ-গ্রেফতার-সেনা মোতায়েন নিয়ে বাড়ছে বিতর্ক মণিপুরে নতুন করে হত্যাকাণ্ড, দ্রুত তদন্ত ও শান্তি ফেরাতে কেন্দ্রের হস্তক্ষেপ চায় কংগ্রেস

পশ্চিমবঙ্গে ভোটার বাদ দিতে ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’: কেন এই যুক্তি প্রশ্নের মুখে

পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে নতুন একটি যুক্তি সামনে এনেছে ভারতের নির্বাচন কমিশন—‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’ বা যৌক্তিক অসঙ্গতি। কিন্তু বাস্তবে এই যুক্তির প্রয়োগ অনেক ক্ষেত্রেই প্রশ্ন তুলছে, কারণ বহু ভোটারের কাছে বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও তাদের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে।

পুরনো ভোটার তালিকায় নাম থাকলেও বাদ পড়ছেন অনেকে

যেমন, শুক্লা হাজরা নামে এক নারী ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় ছিলেন এবং বর্তমানে তার বৈধ পাসপোর্টও রয়েছে। একইভাবে আরও কয়েকজন ভোটার তাদের পরিবারসহ ২০০২ সালের তালিকার সঙ্গে নিজেদের সম্পর্ক প্রমাণ করতে পেরেছেন। তবুও তাদের নাম মুছে ফেলা হয়েছে।

এই ঘটনাগুলি আলাদা নয়—এ ধরনের উদাহরণ হাজার হাজার রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

কী এই ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’?

নির্বাচন কমিশনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, কিছু নির্দিষ্ট অসঙ্গতিকে ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’ বলা হচ্ছে। যেমন:

  • বর্তমান তালিকার নামের সঙ্গে ২০০২ সালের তালিকার মিল না থাকা
  • ভোটার ও তার বাবা-মায়ের বয়সের অস্বাভাবিক ব্যবধান

10 Takeaways From Supreme Court Hearing After Siege of Poll Officials in West Bengal - The Wire

  • দাদা-দাদির সঙ্গে বয়সের অস্বাভাবিক পার্থক্য
  • এক ব্যক্তির সঙ্গে অনেক সন্তানের নাম যুক্ত থাকা

এই মানদণ্ডের ভিত্তিতে একটি কেন্দ্রীয় সফটওয়্যার ব্যবহার করে ভোটারদের চিহ্নিত করা হয়েছে।

লক্ষ লক্ষ ভোটার বাদ

এই প্রক্রিয়ায় প্রায় ১.৩৬ কোটি নাম চিহ্নিত করা হয়, যার মধ্যে ৬০ লাখের বেশি ক্ষেত্রে যাচাই হয় এবং শেষ পর্যন্ত প্রায় ২৭ লাখ ভোটারের নাম বাদ পড়ে।

এটি সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় ভোটার বাদ দেওয়ার ঘটনা বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রশ্ন উঠছে প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে

প্রাক্তন নির্বাচন কমিশনারদের মতে, অতীতে ডুপ্লিকেট নাম শনাক্ত করা হলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নোটিশ দেওয়া হতো, শুনানির সুযোগ থাকত এবং আপিলের সময় দেওয়া হতো।

কিন্তু এবার অভিযোগ উঠেছে, অনেক ক্ষেত্রেই ভোটারদের যথাযথভাবে আপিল করার সুযোগ দেওয়া হয়নি। ফলে এটি ভোটাধিকার হরণের শামিল হতে পারে।

নামের বানান বা সামান্য পরিবর্তনেও সমস্যা’

Purging Millions From West Bengal's Voters List Risks Disenfranchisement – The Diplomat

অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, নামের বানান পরিবর্তন বা ভিন্নভাবে লেখা থাকার কারণে ভোটারদের বাদ দেওয়া হয়েছে।

যেমন, কেউ আগে এক নামে ছিলেন, পরে অন্য নামে সংশোধন করেছেন—এই পরিবর্তনকেই অসঙ্গতি হিসেবে দেখানো হয়েছে। অথচ তাদের পূর্বের রেকর্ড ও অন্যান্য কাগজপত্র বৈধ।

আদালতের হস্তক্ষেপ

এই পরিস্থিতিতে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, যেসব ভোটারের নাম বাদ পড়েছে, তাদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পুনরায় সুযোগ দিতে হবে।

যারা ট্রাইব্যুনালে নিজেদের বৈধতা প্রমাণ করতে পারবেন, তাদের নাম পুনরায় ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কেন এই যুক্তি ‘অযৌক্তিক’ বলে সমালোচনা?

সমালোচকদের মতে:

  • এই ধরনের মানদণ্ড আগে এত বড় পরিসরে ব্যবহার হয়নি
  • ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’ শব্দটির স্পষ্ট সংজ্ঞা নেই

SIR in West Bengal: How exclusion of nine million voters could shape state politics

  • একই পরিবারের কিছু সদস্য তালিকায় থাকলেও অন্যরা বাদ পড়ছেন
  • বৈধ নথি থাকা সত্ত্বেও নাম কাটা হচ্ছে

ফলে পুরো প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা ও যুক্তি নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে।

পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা সংশোধনের এই প্রক্রিয়া এখন রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্কের কেন্দ্রে। নির্বাচন কমিশনের নতুন যুক্তি কতটা যৌক্তিক, আর কতটা ভোটাধিকার ক্ষুণ্ণ করছে—তা নিয়ে বিতর্ক আরও বাড়ছে নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে।

জনপ্রিয় সংবাদ

খুলনা নগরীতে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

পশ্চিমবঙ্গে ভোটার বাদ দিতে ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’: কেন এই যুক্তি প্রশ্নের মুখে

০১:৫৩:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে নতুন একটি যুক্তি সামনে এনেছে ভারতের নির্বাচন কমিশন—‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’ বা যৌক্তিক অসঙ্গতি। কিন্তু বাস্তবে এই যুক্তির প্রয়োগ অনেক ক্ষেত্রেই প্রশ্ন তুলছে, কারণ বহু ভোটারের কাছে বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও তাদের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে।

পুরনো ভোটার তালিকায় নাম থাকলেও বাদ পড়ছেন অনেকে

যেমন, শুক্লা হাজরা নামে এক নারী ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় ছিলেন এবং বর্তমানে তার বৈধ পাসপোর্টও রয়েছে। একইভাবে আরও কয়েকজন ভোটার তাদের পরিবারসহ ২০০২ সালের তালিকার সঙ্গে নিজেদের সম্পর্ক প্রমাণ করতে পেরেছেন। তবুও তাদের নাম মুছে ফেলা হয়েছে।

এই ঘটনাগুলি আলাদা নয়—এ ধরনের উদাহরণ হাজার হাজার রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

কী এই ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’?

নির্বাচন কমিশনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, কিছু নির্দিষ্ট অসঙ্গতিকে ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’ বলা হচ্ছে। যেমন:

  • বর্তমান তালিকার নামের সঙ্গে ২০০২ সালের তালিকার মিল না থাকা
  • ভোটার ও তার বাবা-মায়ের বয়সের অস্বাভাবিক ব্যবধান

10 Takeaways From Supreme Court Hearing After Siege of Poll Officials in West Bengal - The Wire

  • দাদা-দাদির সঙ্গে বয়সের অস্বাভাবিক পার্থক্য
  • এক ব্যক্তির সঙ্গে অনেক সন্তানের নাম যুক্ত থাকা

এই মানদণ্ডের ভিত্তিতে একটি কেন্দ্রীয় সফটওয়্যার ব্যবহার করে ভোটারদের চিহ্নিত করা হয়েছে।

লক্ষ লক্ষ ভোটার বাদ

এই প্রক্রিয়ায় প্রায় ১.৩৬ কোটি নাম চিহ্নিত করা হয়, যার মধ্যে ৬০ লাখের বেশি ক্ষেত্রে যাচাই হয় এবং শেষ পর্যন্ত প্রায় ২৭ লাখ ভোটারের নাম বাদ পড়ে।

এটি সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় ভোটার বাদ দেওয়ার ঘটনা বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রশ্ন উঠছে প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে

প্রাক্তন নির্বাচন কমিশনারদের মতে, অতীতে ডুপ্লিকেট নাম শনাক্ত করা হলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নোটিশ দেওয়া হতো, শুনানির সুযোগ থাকত এবং আপিলের সময় দেওয়া হতো।

কিন্তু এবার অভিযোগ উঠেছে, অনেক ক্ষেত্রেই ভোটারদের যথাযথভাবে আপিল করার সুযোগ দেওয়া হয়নি। ফলে এটি ভোটাধিকার হরণের শামিল হতে পারে।

নামের বানান বা সামান্য পরিবর্তনেও সমস্যা’

Purging Millions From West Bengal's Voters List Risks Disenfranchisement – The Diplomat

অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, নামের বানান পরিবর্তন বা ভিন্নভাবে লেখা থাকার কারণে ভোটারদের বাদ দেওয়া হয়েছে।

যেমন, কেউ আগে এক নামে ছিলেন, পরে অন্য নামে সংশোধন করেছেন—এই পরিবর্তনকেই অসঙ্গতি হিসেবে দেখানো হয়েছে। অথচ তাদের পূর্বের রেকর্ড ও অন্যান্য কাগজপত্র বৈধ।

আদালতের হস্তক্ষেপ

এই পরিস্থিতিতে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, যেসব ভোটারের নাম বাদ পড়েছে, তাদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পুনরায় সুযোগ দিতে হবে।

যারা ট্রাইব্যুনালে নিজেদের বৈধতা প্রমাণ করতে পারবেন, তাদের নাম পুনরায় ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কেন এই যুক্তি ‘অযৌক্তিক’ বলে সমালোচনা?

সমালোচকদের মতে:

  • এই ধরনের মানদণ্ড আগে এত বড় পরিসরে ব্যবহার হয়নি
  • ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’ শব্দটির স্পষ্ট সংজ্ঞা নেই

SIR in West Bengal: How exclusion of nine million voters could shape state politics

  • একই পরিবারের কিছু সদস্য তালিকায় থাকলেও অন্যরা বাদ পড়ছেন
  • বৈধ নথি থাকা সত্ত্বেও নাম কাটা হচ্ছে

ফলে পুরো প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা ও যুক্তি নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে।

পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা সংশোধনের এই প্রক্রিয়া এখন রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্কের কেন্দ্রে। নির্বাচন কমিশনের নতুন যুক্তি কতটা যৌক্তিক, আর কতটা ভোটাধিকার ক্ষুণ্ণ করছে—তা নিয়ে বিতর্ক আরও বাড়ছে নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে।