ভারতের সংসদে নতুন ডিলিমিটেশান প্রস্তাবকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে। বাম দলগুলোর সাংসদরা দাবি করেছেন, বর্তমান প্রস্তাবটি কার্যকর হলে দক্ষিণের রাজ্যগুলোর সাংবিধানিক অধিকার ক্ষুণ্ন হতে পারে। একইসঙ্গে তারা নারীদের জন্য আসন সংরক্ষণকে সমর্থন জানালেও ডিলিমিটেশান বিলের বিরোধিতা করেছেন।
ডিলিমিটেশান নিয়ে আপত্তির কারণ
লোকসভায় আলোচনায় অংশ নিয়ে বামপন্থী সাংসদরা বলেন, আসন সংখ্যা ৫০ শতাংশ বাড়ানোর যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, তা কোন আইনি বা সাংবিধানিক ভিত্তিতে করা হচ্ছে, তা স্পষ্ট নয়। তাদের অভিযোগ, সরকার এই বিষয়ে পরিষ্কার ব্যাখ্যা না দিয়ে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সফল রাজ্যগুলোর প্রতি অন্যায় করছে।
দক্ষিণের রাজ্যগুলোর আশঙ্কা
তামিলনাড়ুর সাংসদ এস ভেঙ্কটেশন বলেন, বর্তমান প্রস্তাব অনুযায়ী দক্ষিণের রাজ্যগুলোর অধিকার খর্ব হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, তামিলনাড়ুকে ৬০টি আসনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও, কোন আদমশুমারির ভিত্তিতে এই সংখ্যা নির্ধারণ করা হবে, তা সরকার জানায়নি।
তিনি ব্যাখ্যা করেন, যদি ২০১১ সালের আদমশুমারি ধরা হয়, তাহলে তামিলনাড়ু পাবে ৫১টি আসন। আর ২০২৬ সালের আদমশুমারির ভিত্তিতে হলে তা কমে দাঁড়াবে ৪৭-এ। ফলে আসন বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
জনসংখ্যা ও প্রতিনিধিত্বের বৈষম্য
ভেঙ্কটেশন আরও বলেন, ১৯৭১ সালের আদমশুমারিতে তামিলনাড়ু ও বিহারের জনসংখ্যা প্রায় সমান ছিল, ফলে তাদের আসন সংখ্যাও কাছাকাছি নির্ধারিত হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে বিহারের জনসংখ্যা তামিলনাড়ুর তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। এই বাস্তবতায় কোন ভিত্তিতে আসন নির্ধারণ হবে, তা স্পষ্ট হওয়া জরুরি।
তার অভিযোগ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে উন্নতি করে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সফল হওয়ায় তামিলনাড়ুকে কার্যত শাস্তি দেওয়া হচ্ছে।
নারীর সংরক্ষণে সমর্থন, কিন্তু বিলে আপত্তি
আরেক সাংসদ এন কে প্রেমচন্দ্রন বলেন, বিরোধী দল নারীদের জন্য আসন সংরক্ষণকে সম্পূর্ণ সমর্থন করে। তবে তিনি অভিযোগ করেন, এই সংরক্ষণের আড়ালে সরকার ডিলিমিটেশান প্রস্তাব এগিয়ে নিচ্ছে, যার পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে।
তিনি বলেন, আসন সংখ্যা বৃদ্ধির প্রস্তাবটি বৈজ্ঞানিক নয় এবং এর পক্ষে সরকারের যুক্তিও দুর্বল। কোন আইনি ধারায় এই ক্ষমতা প্রয়োগ করা হবে, সেটিও পরিষ্কার নয়।

সরকারের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন
বিরোধীদের অভিযোগ, নারীর সংরক্ষণ বিলকে সামনে রেখে সরকার আসন পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছে। ফলে এই প্রস্তাব শুধু প্রশাসনিক নয়, বরং রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও বিতর্ক তৈরি করেছে।
সার্বিকভাবে, ডিলিমিটেশান প্রস্তাব নিয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা না পাওয়া পর্যন্ত বিরোধীরা তাদের অবস্থান থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দিচ্ছে না।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















