মার্কিন কংগ্রেসে এক শুনানিতে চীনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) কৌশল নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছেন আইনপ্রণেতা ও বিশেষজ্ঞরা। তাদের অভিযোগ, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি অর্জনে চীন “যা পারে কিনছে, আর যা পারে না তা চুরি করছে”—এমন প্রবণতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে সতর্ক করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব অভিবাসন ও গবেষণা নীতিই হয়তো উদ্ভাবনের গতি কমিয়ে দিচ্ছে।
কংগ্রেসে সরাসরি অভিযোগ
শুনানিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রতিনিধি পরিষদের চীন বিষয়ক বিশেষ কমিটির চেয়ারম্যান জন মুলেনার বলেন, চীন এখনও যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল। তার ভাষায়, “চীন তাদের এআই উন্নয়নের জন্য আমাদের প্রযুক্তি কাঠামোর ওপর নির্ভর করে। তারা যা পারে কিনছে, আর যা পারে না তা চুরি করছে।”
এই বক্তব্যে স্পষ্ট করা হয়, চীনের প্রযুক্তিগত অগ্রযাত্রা শুধু অভ্যন্তরীণ উন্নয়ন নয়, বরং বহিরাগত উৎস থেকেও প্রভাবিত।

এআই নেতৃত্বের দৌড়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা
বিশ্বব্যাপী এআই নেতৃত্বের লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন এখন মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে। শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র এগিয়ে থাকলেও, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনের দ্রুত অগ্রগতি এই ব্যবধান কমিয়ে এনেছে।
বিশেষ করে ২০২৫ সালে চীনা কোম্পানিগুলোর নতুন মডেল উন্মোচন এবং ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বে শীর্ষস্থান অর্জনের লক্ষ্য—এই প্রতিযোগিতাকে আরও তীব্র করেছে।
মার্কিন প্রতিরোধ কৌশল
চীনের প্রভাব মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে এআই প্রযুক্তি রপ্তানিতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে। এর লক্ষ্য, গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি ও উপকরণে নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখে নিজেদের নেতৃত্ব নিশ্চিত করা।
তবে অভিযোগ উঠেছে, চীনা কোম্পানিগুলো এখনও মার্কিন চিপের ওপর নির্ভরশীল এবং বিভিন্ন উপায়ে—আইনগত ও অবৈধ—এই প্রযুক্তি সংগ্রহের চেষ্টা চালাচ্ছে।

‘কম্পিউট শক্তি’ই মূল অস্ত্র
শুনানিতে বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে বলেন, এআই প্রতিযোগিতায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো ‘কম্পিউট’—অর্থাৎ ডেটা প্রক্রিয়াকরণের ক্ষমতা।
ওয়াশিংটনভিত্তিক এক গবেষণা প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান দিমিত্রি আলপেরোভিচ বলেন, “এই প্রতিযোগিতায় জয়ের জন্য কম্পিউটই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইনপুট।”
নীতিগত চ্যালেঞ্জ
শুধু চীনের কৌশলই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নীতিও আলোচনায় উঠে আসে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কঠোর অভিবাসন নীতি এবং গবেষণা সহযোগিতার সীমাবদ্ধতা ভবিষ্যতের উদ্ভাবনকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
সব মিলিয়ে, এআই খাতে যুক্তরাষ্ট্র-চীন প্রতিযোগিতা এখন আরও জটিল ও বহুমাত্রিক হয়ে উঠেছে। প্রযুক্তি, নীতি এবং বৈশ্বিক প্রভাব—সব ক্ষেত্রেই এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা আগামী বছরগুলোতে আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















