ইন্দোনেশিয়া সরকার জানিয়েছে, জ্বালানি সরবরাহের উৎস বৈচিত্র্য আনতে তারা শিগগিরই রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি শুরু করবে। এই সিদ্ধান্তকে বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে।
চুক্তি সম্পন্ন, তবে বিস্তারিত গোপন
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী বাহলিল লাহাদালিয়া জানিয়েছেন, রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনার পর একটি চুক্তিতে পৌঁছানো হয়েছে। তবে আমদানির পরিমাণ বা মূল্য সম্পর্কে তিনি নির্দিষ্ট কিছু জানাননি। তিনি আশ্বস্ত করেছেন, দেশের বর্তমান জ্বালানি মজুত পর্যাপ্ত রয়েছে এবং জনগণের চাহিদা পূরণে কোনো ঘাটতি হবে না।

এলপিজি আমদানির দিকেও নজর
শুধু অপরিশোধিত তেল নয়, রাশিয়া থেকে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) আমদানির বিষয়েও আলোচনা চলছে। ইন্দোনেশিয়ায় বছরে যেখানে মাত্র ১৬ লাখ টন এলপিজি উৎপাদিত হয়, সেখানে ২০২৬ সালে চাহিদা প্রায় ১ কোটি টনে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। শিল্পখাতের বাড়তি চাহিদা এই ঘাটতি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
বিশ্ব পরিস্থিতি ও সরবরাহ ঝুঁকি
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত এবং সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনায় হামলার ঘটনা বিশ্ববাজারে বড় প্রভাব ফেলেছে। এ কারণে একক উৎসের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে একাধিক উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের প্রয়োজনীয়তা বেড়েছে বলে মনে করছে সরকার।
বিশ্লেষকদের সতর্কতা
অর্থনীতিবিদরা এই উদ্যোগকে সঠিক কৌশল হিসেবে স্বাগত জানালেও সতর্ক করেছেন, দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ইন্দোনেশিয়া বৈশ্বিক সরবরাহ ধাক্কার ঝুঁকিতে থাকবে। বর্তমানে দেশের তেল উৎপাদন স্থবির এবং এলপিজির বড় অংশ আমদানিনির্ভর হওয়ায় বিকল্প উৎস সীমিত।
তাদের মতে, যদি রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তি বাস্তবায়ন না হয়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার কারণে স্পট মার্কেট থেকে বেশি দামে জ্বালানি কিনতে হতে পারে। এতে ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আমদানি কাঠামো ও নির্ভরতা
২০২৫ সালে ইন্দোনেশিয়া মোট ১৩৫.৩৩ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল আমদানি করেছে, যার প্রায় ১৯ শতাংশ এসেছে সৌদি আরব থেকে। বাকি অংশ এসেছে যুক্তরাষ্ট্র, মালয়েশিয়া এবং আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশ থেকে।
রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তি না হলে দেশকে এই পুরোনো আমদানি কাঠামোর ওপরই নির্ভর করতে হবে, যা মূল্যবৃদ্ধি ও সরবরাহ বিঘ্নের ঝুঁকি বাড়াবে।
রাশিয়ার সুবিধা ও ঝুঁকি
বিশেষজ্ঞদের মতে, রাশিয়া তুলনামূলক কম দামে তেল সরবরাহ করতে পারে এবং সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলের বাইরে নিরাপদ রুট ব্যবহার করা সম্ভব। তবে প্রযুক্তিগত, অর্থায়ন ও কূটনৈতিক ঝুঁকিও রয়েছে।
সরকারের করণীয়
সরকার ইতিমধ্যে কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে, যেমন জ্বালানি মজুতের বিষয়ে জনগণকে আশ্বস্ত করা, ভর্তুকিযুক্ত জ্বালানির দাম স্থিতিশীল রাখা, জ্বালানি সাশ্রয় উদ্যোগ নেওয়া এবং বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার বাড়ানো। পাশাপাশি বায়োডিজেল কর্মসূচি ও নতুন আমদানি চুক্তির চেষ্টা চলছে।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে আত্মতুষ্টি বিপজ্জনক হতে পারে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা এবং হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ রুট ঝুঁকির মধ্যে থাকায় দ্রুত মজুত বৃদ্ধি, নতুন চুক্তি এবং শক্তিশালী সরবরাহ কৌশল গড়ে তোলা জরুরি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















