বাংলাদেশে ই-সিগারেটের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউনিসেফ। তাদের মতে, এমন সিদ্ধান্ত জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর হুমকি তৈরি করতে পারে, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের জন্য
যৌথ এক বিবৃতিতে সংস্থাগুলো জানায়, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে সংশোধিত তামাক ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশের আওতায় ই-সিগারেটের আমদানি, উৎপাদন, বিতরণ ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছিল—এই সিদ্ধান্ত বহাল রাখা অত্যন্ত জরুরি। একই সঙ্গে বিক্রয়কেন্দ্রে তামাকজাত পণ্যের প্রদর্শনেও বিদ্যমান সীমাবদ্ধতা বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়।
তরুণদের লক্ষ্য করে বিপণনের আশঙ্কা
সংস্থাগুলো সতর্ক করে বলেছে, ই-সিগারেট নানা স্বাদ ও আকর্ষণীয় প্রচারের মাধ্যমে তরুণদের দিকে লক্ষ্য করে বাজারজাত করা হয়। এতে করে নতুন করে নিকোটিন-নির্ভর একটি প্রজন্ম তৈরি হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। তাদের মতে, এসব পণ্য সহজলভ্য হলে কিশোর-কিশোরীরা দ্রুত এতে আকৃষ্ট হতে পারে।

স্বাস্থ্যঝুঁকি ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউনিসেফ জানায়, নিকোটিন অত্যন্ত আসক্তিকর এবং শিশু ও কিশোরদের জন্য বিশেষভাবে ক্ষতিকর। এটি মস্তিষ্কের স্বাভাবিক বিকাশ ব্যাহত করতে পারে এবং ভবিষ্যতে মানসিক ও জ্ঞানগত সমস্যার ঝুঁকি বাড়ায়। এছাড়া গর্ভাবস্থায় নিকোটিনের সংস্পর্শ ভ্রূণের বিকাশেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
সংস্থাগুলো আরও উল্লেখ করে, ই-সিগারেট ব্যবহারের ফলে ধূমপান না করা তরুণদের মধ্যে প্রচলিত সিগারেট ব্যবহারের প্রবণতা প্রায় তিনগুণ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে, জনস্বাস্থ্যের জন্য এসব পণ্যের সামগ্রিক উপকারিতা নিয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশে তামাকজনিত চাপ
বাংলাদেশে প্রতি বছর তামাকজনিত কারণে প্রায় এক লাখ ত্রিশ হাজার মানুষের মৃত্যু ঘটে, যা মোট মৃত্যুর প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ। এর পাশাপাশি রয়েছে বড় ধরনের অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষতি। এমন প্রেক্ষাপটে নতুন ধরনের নিকোটিন পণ্যের বিস্তার পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাগুলো।
![]()
নীতিনির্ধারণে কঠোরতার আহ্বান
সংস্থাগুলো বলেছে, জনস্বাস্থ্য রক্ষা এবং দেশের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অক্ষুণ্ন রাখতে শক্তিশালী তামাক নিয়ন্ত্রণ নীতি বজায় রাখা অত্যন্ত প্রয়োজন। তারা বাংলাদেশকে এ ক্ষেত্রে সহায়তা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেছে।
বাংলাদেশে ই-সিগারেট নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার যে কোনো উদ্যোগ নতুন ঝুঁকি তৈরি করতে পারে—এমন বার্তাই দিয়েছে আন্তর্জাতিক এই দুই সংস্থা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















