২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার পর এটি ছিল মোদি সরকারের প্রথম বড় আইনগত পরাজয়। সংবিধান (১৩১তম সংশোধনী) বিল, ২০২৬—যার মাধ্যমে সম্প্রসারিত লোকসভা ও রাজ্য বিধানসভায় নারীদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণ এবং আসন পুনর্বিন্যাসের পথ সুগম করার প্রস্তাব ছিল—শুক্রবার সন্ধ্যায় লোকসভায় পরাজিত হয়।
সদনে উপস্থিত ৫২৮ জন সদস্যের মধ্যে ২৯৮ জন বিলের পক্ষে ভোট দেন এবং ২৩০ জন বিপক্ষে। তবে সংবিধান সংশোধনী বিল পাসের জন্য যে দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন প্রয়োজন, তা থেকে এই ফলাফল অনেকটাই পিছিয়ে ছিল।
দুই দিনের দীর্ঘ আলোচনার পর সংশোধিত নারী সংরক্ষণ বিলটি ভোটে তোলা হয়। এই সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সদস্যদের বিলের পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। তারা সতর্ক করে বলেন, দেশের নারীরা এই বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং সংরক্ষণ থেকে বঞ্চিত হলে বিরোধীদের ক্ষমা করবেন না।

অন্যদিকে বিরোধী দলগুলো অভিযোগ তোলে, নারী সংরক্ষণের আড়ালে সরকার আসন পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে নির্বাচনী মানচিত্র পরিবর্তন করতে চাইছে, যা বিজেপির রাজনৈতিক সুবিধা বাড়াতে পারে এবং দক্ষিণের রাজ্যগুলোর প্রতিনিধিত্ব কমিয়ে দিতে পারে।
বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, সরকার “নারীর নামে অসাংবিধানিক কৌশল ব্যবহার করে সংবিধানকে ভাঙার চেষ্টা করছে।”

বিলটি পরাজিত হওয়ার পর সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু স্পিকারকে অনুরোধ করেন, পুনর্বিন্যাস এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল সংক্রান্ত বাকি দুটি বিল যেন আর তোলা না হয়, কারণ এগুলো এই সংবিধান সংশোধনী বিলের সঙ্গে যুক্ত।
এর আগে বিতর্কের জবাবে অমিত শাহ বিরোধীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন, তারা ইচ্ছাকৃতভাবে অজুহাত দেখিয়ে নারী সংরক্ষণ আটকে দিতে চাইছে।
ভোটের কয়েক ঘণ্টা আগে সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, এই বিল নিয়ে যত আশঙ্কা ও বিভ্রান্তি ছিল, তা যুক্তি ও তথ্য দিয়ে পরিষ্কার করা হয়েছে। প্রায় চার দশক ধরে আইনসভায় নারী সংরক্ষণের বিষয়টি ঝুলে আছে, এখনই সময় দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠীকে সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের প্রাপ্য অধিকার দেওয়ার।
তিনি আরও বলেন, সব রাজনৈতিক দলের কাছে তিনি আহ্বান জানাচ্ছেন যেন তারা সংবেদনশীলভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে নারী সংরক্ষণের পক্ষে ভোট দেয়। দেশের কোটি কোটি নারী এই সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে আছে।
এর আগে সরকার বিল পাস করানোর কৌশল নিয়ে আলোচনা করলেও বিরোধীদের একজোট অবস্থানের কারণে শেষ পর্যন্ত ভোটে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। দিনভর সমাজবাদী পার্টি-সহ কয়েকটি বিরোধী দলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা সফল হয়নি।
অমিত শাহ সংসদে শীর্ষ বিজেপি নেতা ও মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করে কৌশল নির্ধারণ করেন। এক সিনিয়র নেতা বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় বিরোধীদের বিল পরাজিত করতে দেওয়া ছাড়া উপায় নেই, পরে জনগণের কাছেই এর জবাব দিতে হবে।

দলের আরেক নেতা ইঙ্গিত দেন, বিল পরাজিত হওয়ার বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে কাজে লাগিয়ে বিরোধীদের নারী অধিকার বিরোধী হিসেবে তুলে ধরা হতে পারে।
বিরোধী শিবিরের এক শীর্ষ নেতা জানান, সরকার কিছু দলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও বিরোধীরা ঐক্যবদ্ধ ছিল। তাদের মতে, আসন পুনর্বিন্যাসের বিষয়টি আপাতত স্থগিত রাখা উচিত, তাই এই বিলগুলোর সঙ্গে একমত হওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















