লোকসভায় নারীদের সংরক্ষণ সংক্রান্ত সংবিধান সংশোধনী বিল পরাজিত হওয়াকে গণতন্ত্র, ফেডারেল কাঠামো এবং বিরোধী ঐক্যের বড় জয় হিসেবে দেখছেন কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভাদ্রা। শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, এই ফলাফল কেন্দ্রের একটি বড় রাজনৈতিক পরিকল্পনাকে ব্যর্থ করে দিয়েছে।
‘ক্ষমতায় স্থায়ী থাকার পরিকল্পনা’ অভিযোগ
প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর অভিযোগ, নারীদের সংরক্ষণের আড়ালে কেন্দ্র সরকার আসলে ক্ষমতায় দীর্ঘদিন টিকে থাকার জন্য একটি কৌশল নিয়েছিল। তাঁর মতে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের ফেডারেল কাঠামোতেও পরিবর্তন আনার চেষ্টা করা হচ্ছিল। তবে বিরোধী দলগুলোর ঐক্যবদ্ধ অবস্থানের কারণে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়নি।

নারীদের সংরক্ষণে বিরোধীদের অবস্থান
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, বিরোধীরা কখনও নারীদের সংরক্ষণের বিরোধিতা করেনি। বরং ২০২৩ সালের নারী সংরক্ষণ আইন বর্তমান লোকসভার আসন সংখ্যার ভিত্তিতেই কার্যকর করার পক্ষে তারা রয়েছে এবং এ বিষয়ে সমর্থন জানাতে প্রস্তুত।
রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে প্রশ্ন
প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর দাবি, সরকার ভেবেছিল—বিল পাস হলে তাদের লাভ, আর পাস না হলে বিরোধীদের নারী-বিরোধী হিসেবে তুলে ধরা যাবে। এতে নিজেদের নারীদের ‘রক্ষাকর্তা’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা ছিল বলে তিনি অভিযোগ করেন।
বাস্তব ঘটনার উদাহরণ তুলে সমালোচনা

সরকারের এই অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে তিনি একাধিক ঘটনার উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য, নারীদের সুরক্ষা ও মর্যাদা রক্ষার ক্ষেত্রে বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন চিত্র দেখায়—হাথরাসের ঘটনা, অলিম্পিক পদকজয়ী নারী ক্রীড়াবিদদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া আচরণসহ নানা উদাহরণ তুলে ধরে তিনি সরকারের সমালোচনা করেন।
বিরোধী ঐক্যের গুরুত্ব
এই পুরো ঘটনায় বিরোধী দলগুলোর ঐক্যই সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে কাজ করেছে বলে মন্তব্য করেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। তাঁর মতে, এই ঐক্যের কারণেই কেন্দ্রের পরিকল্পনা সফল হয়নি এবং গণতান্ত্রিক কাঠামো অক্ষুণ্ণ রাখা সম্ভব হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















