মণিপুরের উখরুল জেলায় জাতীয় সড়কে বেসামরিক যানবাহনের ওপর অতর্কিত হামলায় দুই ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। নিহতরা তাংখুল নাগা সম্প্রদায়ের সদস্য, যাদের একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য ছিলেন। সাম্প্রতিক জাতিগত উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই হামলা নতুন করে পরিস্থিতিকে অস্থির করে তুলেছে।
ঘটনার বিবরণ
শনিবার দুপুর প্রায় আড়াইটার দিকে উখরুল-ইম্ফল সংযোগকারী জাতীয় সড়ক ২০২-এ এই হামলার ঘটনা ঘটে। লিতান এলাকার কাছে ইয়াওলেন গ্রাম সংলগ্ন স্থানে অজ্ঞাত সশস্ত্র ব্যক্তিরা গাড়ির বহরে গুলি চালায়। এতে অন্তত ছয়টি যানবাহন লক্ষ্যবস্তু হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, ইম্ফল থেকে উখরুলগামী বেসামরিক যানবাহনের বহরের ওপর এই হামলা চালানো হয়। নিহতদের একজন ৪৫ বছর বয়সী চিনাওশাং শোকওয়ুংনাও, যিনি সেনাবাহিনীর নাগা রেজিমেন্টে কর্মরত ছিলেন। অপরজন ৪২ বছর বয়সী ইয়ারুইঙ্গাম ভাশুম।

উত্তেজনার পটভূমি
গত ফেব্রুয়ারির শুরু থেকে কুকি ও তাংখুল নাগা সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘাত শুরু হয়, যা ধীরে ধীরে বড় আকার ধারণ করে। লিতান অঞ্চলসহ আশপাশের এলাকায় তখন থেকেই উত্তেজনা বিরাজ করছে।
ঘটনার একদিন আগেই মুখ্যমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট এলাকার গ্রামবাসীদের সঙ্গে বৈঠক করেন, যার উদ্দেশ্য ছিল দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে আস্থার ঘাটতি কমানো। কিন্তু তার পরদিনই এই হামলার ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও আশঙ্কা
জেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানান, সহিংসতার কারণে মহাদেব থেকে লিতান পেরিয়ে নির্দিষ্ট অংশ পর্যন্ত বেসামরিক যানবাহনের জন্য নিরাপত্তা এসকর্ট দেওয়া হচ্ছিল। তবে হামলাটি সেই সুরক্ষিত এলাকার বাইরে ঘটেছে।
তার মতে, দূরপাল্লার অস্ত্র ব্যবহার করে স্নাইপারদের মাধ্যমে এই হামলা চালানো হয়ে থাকতে পারে।
দায় চাপানো ও অস্বীকার
![]()
তাংখুল নাগা লং নামের একটি সংগঠন দাবি করেছে, এই হামলায় কুকি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যরা জড়িত। তাদের অভিযোগ, ফেব্রুয়ারি থেকে বিভিন্ন এলাকায় কুকি জঙ্গিরা বেসামরিক মানুষের ওপর হামলা চালিয়ে আসছে।
তারা আরও জানায়, হামলার সময় গাড়িগুলোতে নারী, শিশু ও অসুস্থ মানুষও ছিলেন এবং এসকর্ট দল ফিরে যাওয়ার পরপরই হামলা চালানো হয়। সংগঠনটি ইয়াওলেন ও আশপাশের এলাকায় দ্রুত তল্লাশি অভিযান চালানোর দাবি জানিয়েছে।
অন্যদিকে কুকিজো কাউন্সিল এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, যথাযথ প্রমাণ ছাড়াই কুকি সম্প্রদায়ের ওপর দোষ চাপানো হচ্ছে এবং এটি সম্ভবত অন্য গোষ্ঠীগুলোর অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের ফল।
সরকারের প্রতিক্রিয়া
মুখ্যমন্ত্রী এই হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, ঘটনার তদন্ত জাতীয় তদন্ত সংস্থার হাতে তুলে দেওয়ার জন্য কেন্দ্রের কাছে অনুরোধ করা হবে।
নতুন করে অস্থিরতা: ধর্মঘটের ডাক
এদিকে, ইম্ফল উপত্যকার নারী সংগঠন ও নাগরিক সমাজ গোষ্ঠীগুলো আরেকটি ঘটনার প্রতিবাদে পাঁচ দিনের রাজ্যব্যাপী ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। সম্প্রতি বিষ্ণুপুর জেলায় বোমা হামলায় দুই শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।
সংগঠনগুলো ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে, এর মধ্যে দোষীদের গ্রেপ্তার না হলে আন্দোলন আরও জোরদার করার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















