০৫:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬
১৯২৬ সালের ব্রিটিশ সাধারণ ধর্মঘট: ১৭ লাখ শ্রমিকের ঐক্য, তবু কেন পরাজয়ের ইতিহাস ড্রোন যুদ্ধের সূচনা: ১৮৪৯ সালের ভেনিস অবরোধ থেকে আধুনিক যুদ্ধের ভয়াবহ রূপ প্লাস্টিকের আবিষ্কার: ১৯শ শতকের পরীক্ষাগার থেকে ২০শ শতকের বিপ্লব রানি এলিজাবেথ দ্বিতীয়: সাম্রাজ্যের পতন থেকে আধুনিক ব্রিটেন—৭০ বছরের ইতিহাসে এক অটল নেতৃত্ব দাসত্বের অন্ধকার ভেঙে স্বাধীনতার কণ্ঠ: ফ্রেডেরিক ডগলাস ও আমেরিকার অসম স্বাধীনতার গল্প প্রাচীন রোমে ‘কাল্ট’ সংস্কৃতি থেকে খ্রিস্টধর্মের উত্থান: কীভাবে বদলে গেল ধর্মীয় মানচিত্র মধ্যযুগে নোংরা নয়, পরিকল্পিত ছিল টয়লেট ব্যবস্থা—ইউরোপের অজানা পরিচ্ছন্নতার ইতিহাস নওগাঁয় একই পরিবারের চারজনের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার ১৮.৫৭ লাখ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে শুরু হলো এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা বুরিমারি স্থলবন্দর চার দিন বন্ধ, পশ্চিমবঙ্গের ভোটের প্রভাব

পাইপলাইনের গ্যাস—স্বপ্ন থেকে এখন বাস্তব প্রয়োজন

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের ব্যাঘাত তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে তরল পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা এলপিজি সরবরাহে। এই সংকটের মধ্যেই তেলেঙ্গানাজুড়ে পাইপলাইনের প্রাকৃতিক গ্যাস বা পিএনজি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে, যা আগে ছিল সীমিত ব্যবহারেই সীমাবদ্ধ।

সংকটেই বদলে গেল জ্বালানির চিত্র

দীর্ঘদিন ধরে এলপিজিই ছিল ঘরোয়া ও বাণিজ্যিক রান্নার প্রধান ভরসা। কিন্তু পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ সামুদ্রিক রুটে বিঘ্ন ঘটানোর পর এলপিজি আমদানি কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে অনেক জায়গায় গ্যাস সিলিন্ডার পেতে ২০ থেকে ২৫ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে, এমনকি কালোবাজারের দিকেও ঝুঁকেছেন অনেকে।

এই পরিস্থিতিতেই পিএনজি নতুন বিকল্প হিসেবে সামনে আসে। যেসব বাসাবাড়ি বা আবাসিকে আগে থেকেই পাইপলাইন ছিল, সেখানে রান্না বা দৈনন্দিন কাজে কোনো সমস্যা হয়নি। ফলে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে হোটেল ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান—সবখানেই পিএনজির চাহিদা বাড়তে থাকে।

Opinion: Moving gas from the North Slope is a pipe dream that can come true  - Anchorage Daily News

শহরজুড়ে বাড়ছে পিএনজির ব্যবহার

হায়দরাবাদের বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় দ্রুত বাড়ছে পিএনজি সংযোগ। অনেক আবাসিকে নতুন করে বাসিন্দারা সংযোগ নিচ্ছেন। গ্যাস কোম্পানিগুলোও দ্রুত পাইপলাইন সম্প্রসারণে কাজ করছে।

সরকারও এই পরিবর্তনকে উৎসাহ দিচ্ছে। এলপিজির ওপর নির্ভরতা কমাতে পাইপলাইন স্থাপনের অনুমতি সহজ করা হয়েছে এবং বাণিজ্যিক খাতে পিএনজি ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে।

কীভাবে কাজ করে এই ব্যবস্থা

পিএনজি সরাসরি পাইপলাইনের মাধ্যমে ঘরে পৌঁছে যায়। এটি মিটারভিত্তিক ব্যবস্থায় চলে এবং নির্দিষ্ট সময় পর বিল দিতে হয়। এলপিজির মতো সিলিন্ডার বুকিং বা ডেলিভারির ঝামেলা নেই।

একটি সাধারণ এলপিজি সিলিন্ডারের দামের সঙ্গে পিএনজির খরচ প্রায় সমপর্যায়ের হলেও ব্যবহার পদ্ধতিতে পার্থক্য রয়েছে। প্রায় ৭৫০ গ্রাম এলপিজি এক ইউনিট পিএনজির সমান শক্তি দেয় বলে ধরা হয়।

When The Flame Ran Out | Residents Watch

ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতা

যারা ইতিমধ্যে পিএনজিতে অভ্যস্ত হয়েছেন, তাদের মতে এটি অনেক বেশি সুবিধাজনক। গ্যাস ফুরিয়ে যাওয়ার ভয় নেই, রান্নার আগুন স্থির থাকে এবং বারবার সিলিন্ডার পরিবর্তনের প্রয়োজন পড়ে না।

এছাড়া ডেলিভারি সংক্রান্ত ঝামেলা, অতিরিক্ত খরচ, কিংবা বাসায় অপরিচিত লোক প্রবেশের মতো সমস্যাও দূর হয়েছে। নিরাপত্তার দিক থেকেও এটি অনেকটা স্বস্তিদায়ক, কারণ রান্নাঘরে বড় সিলিন্ডার থাকে না।

তবে রয়েছে কিছু সীমাবদ্ধতা

সব জায়গায় এই সুবিধা সমানভাবে পৌঁছায়নি। পিএনজি মূলত শহরকেন্দ্রিক, বিশেষ করে বহুতল ভবনগুলোতে এর বিস্তার বেশি। গ্রাম বা আধা-শহর এলাকায় পাইপলাইন বসানো ব্যয়বহুল এবং জটিল হওয়ায় সেখানে এখনও এর বিস্তার সীমিত।

এছাড়া ছোট ব্যবসা বা কারখানাগুলোর জন্য পিএনজিতে রূপান্তর খরচসাপেক্ষ। এলপিজির বহনযোগ্যতা ও নমনীয়তাও অনেক ক্ষেত্রে এখনও সুবিধাজনক।

Pipelines: End of the Line or Pipe Dream? | Knowledge Hub

নীতিগত পরিবর্তন ও চ্যালেঞ্জ

সরকার পিএনজি ব্যবহারে উৎসাহ দিতে কিছু নীতিগত পরিবর্তন এনেছে। তবে বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জ রয়েছে। যেমন, পিএনজিতে গেলে এলপিজি সংযোগ বাতিলের বিষয়টি সঠিকভাবে নজরদারি করা কঠিন।

অন্যদিকে, কোথাও কোথাও পাইপলাইন স্থাপন হলেও সংযোগ চালু হতে দীর্ঘ সময় লাগছে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা তৈরি করছে।

ভবিষ্যতের সম্ভাবনা

নতুন পাইপলাইন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে আগামী কয়েক বছরে পিএনজির ব্যবহার আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। এতে জ্বালানি সরবরাহ আরও স্থিতিশীল হবে, পরিবেশ দূষণ কমবে এবং আমদানি নির্ভরতা হ্রাস পাবে।

তবে এই পরিবর্তন পুরোপুরি সফল করতে হলে অবকাঠামো উন্নয়ন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।

জনপ্রিয় সংবাদ

১৯২৬ সালের ব্রিটিশ সাধারণ ধর্মঘট: ১৭ লাখ শ্রমিকের ঐক্য, তবু কেন পরাজয়ের ইতিহাস

পাইপলাইনের গ্যাস—স্বপ্ন থেকে এখন বাস্তব প্রয়োজন

০১:০৭:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের ব্যাঘাত তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে তরল পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা এলপিজি সরবরাহে। এই সংকটের মধ্যেই তেলেঙ্গানাজুড়ে পাইপলাইনের প্রাকৃতিক গ্যাস বা পিএনজি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে, যা আগে ছিল সীমিত ব্যবহারেই সীমাবদ্ধ।

সংকটেই বদলে গেল জ্বালানির চিত্র

দীর্ঘদিন ধরে এলপিজিই ছিল ঘরোয়া ও বাণিজ্যিক রান্নার প্রধান ভরসা। কিন্তু পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ সামুদ্রিক রুটে বিঘ্ন ঘটানোর পর এলপিজি আমদানি কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে অনেক জায়গায় গ্যাস সিলিন্ডার পেতে ২০ থেকে ২৫ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে, এমনকি কালোবাজারের দিকেও ঝুঁকেছেন অনেকে।

এই পরিস্থিতিতেই পিএনজি নতুন বিকল্প হিসেবে সামনে আসে। যেসব বাসাবাড়ি বা আবাসিকে আগে থেকেই পাইপলাইন ছিল, সেখানে রান্না বা দৈনন্দিন কাজে কোনো সমস্যা হয়নি। ফলে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে হোটেল ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান—সবখানেই পিএনজির চাহিদা বাড়তে থাকে।

Opinion: Moving gas from the North Slope is a pipe dream that can come true  - Anchorage Daily News

শহরজুড়ে বাড়ছে পিএনজির ব্যবহার

হায়দরাবাদের বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় দ্রুত বাড়ছে পিএনজি সংযোগ। অনেক আবাসিকে নতুন করে বাসিন্দারা সংযোগ নিচ্ছেন। গ্যাস কোম্পানিগুলোও দ্রুত পাইপলাইন সম্প্রসারণে কাজ করছে।

সরকারও এই পরিবর্তনকে উৎসাহ দিচ্ছে। এলপিজির ওপর নির্ভরতা কমাতে পাইপলাইন স্থাপনের অনুমতি সহজ করা হয়েছে এবং বাণিজ্যিক খাতে পিএনজি ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে।

কীভাবে কাজ করে এই ব্যবস্থা

পিএনজি সরাসরি পাইপলাইনের মাধ্যমে ঘরে পৌঁছে যায়। এটি মিটারভিত্তিক ব্যবস্থায় চলে এবং নির্দিষ্ট সময় পর বিল দিতে হয়। এলপিজির মতো সিলিন্ডার বুকিং বা ডেলিভারির ঝামেলা নেই।

একটি সাধারণ এলপিজি সিলিন্ডারের দামের সঙ্গে পিএনজির খরচ প্রায় সমপর্যায়ের হলেও ব্যবহার পদ্ধতিতে পার্থক্য রয়েছে। প্রায় ৭৫০ গ্রাম এলপিজি এক ইউনিট পিএনজির সমান শক্তি দেয় বলে ধরা হয়।

When The Flame Ran Out | Residents Watch

ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতা

যারা ইতিমধ্যে পিএনজিতে অভ্যস্ত হয়েছেন, তাদের মতে এটি অনেক বেশি সুবিধাজনক। গ্যাস ফুরিয়ে যাওয়ার ভয় নেই, রান্নার আগুন স্থির থাকে এবং বারবার সিলিন্ডার পরিবর্তনের প্রয়োজন পড়ে না।

এছাড়া ডেলিভারি সংক্রান্ত ঝামেলা, অতিরিক্ত খরচ, কিংবা বাসায় অপরিচিত লোক প্রবেশের মতো সমস্যাও দূর হয়েছে। নিরাপত্তার দিক থেকেও এটি অনেকটা স্বস্তিদায়ক, কারণ রান্নাঘরে বড় সিলিন্ডার থাকে না।

তবে রয়েছে কিছু সীমাবদ্ধতা

সব জায়গায় এই সুবিধা সমানভাবে পৌঁছায়নি। পিএনজি মূলত শহরকেন্দ্রিক, বিশেষ করে বহুতল ভবনগুলোতে এর বিস্তার বেশি। গ্রাম বা আধা-শহর এলাকায় পাইপলাইন বসানো ব্যয়বহুল এবং জটিল হওয়ায় সেখানে এখনও এর বিস্তার সীমিত।

এছাড়া ছোট ব্যবসা বা কারখানাগুলোর জন্য পিএনজিতে রূপান্তর খরচসাপেক্ষ। এলপিজির বহনযোগ্যতা ও নমনীয়তাও অনেক ক্ষেত্রে এখনও সুবিধাজনক।

Pipelines: End of the Line or Pipe Dream? | Knowledge Hub

নীতিগত পরিবর্তন ও চ্যালেঞ্জ

সরকার পিএনজি ব্যবহারে উৎসাহ দিতে কিছু নীতিগত পরিবর্তন এনেছে। তবে বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জ রয়েছে। যেমন, পিএনজিতে গেলে এলপিজি সংযোগ বাতিলের বিষয়টি সঠিকভাবে নজরদারি করা কঠিন।

অন্যদিকে, কোথাও কোথাও পাইপলাইন স্থাপন হলেও সংযোগ চালু হতে দীর্ঘ সময় লাগছে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা তৈরি করছে।

ভবিষ্যতের সম্ভাবনা

নতুন পাইপলাইন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে আগামী কয়েক বছরে পিএনজির ব্যবহার আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। এতে জ্বালানি সরবরাহ আরও স্থিতিশীল হবে, পরিবেশ দূষণ কমবে এবং আমদানি নির্ভরতা হ্রাস পাবে।

তবে এই পরিবর্তন পুরোপুরি সফল করতে হলে অবকাঠামো উন্নয়ন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।