ওডিশার দক্ষিণাঞ্চলের সিজিমালি পাহাড় ঘিরে বক্সাইট খনন প্রকল্পকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। পাহাড়কে ঘিরে বসবাসকারী আদিবাসী গ্রামগুলোর মানুষ একদিকে, আর প্রশাসন ও শিল্পস্বার্থ অন্যদিকে—এই দ্বন্দ্ব এখন সরাসরি সংঘাতের রূপ নিয়েছে।
পাহাড় ঘিরে বেঁচে থাকা মানুষের লড়াই
রায়গড়া ও কালাহান্ডি জেলার মাঝামাঝি অবস্থিত সিজিমালি পাহাড় বহু প্রজন্ম ধরে স্থানীয় আদিবাসীদের জীবন-জীবিকার প্রধান উৎস। তাদের কাছে এই পাহাড় শুধু জমি নয়, বরং পানি, খাদ্য, ওষুধ এবং সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অংশ।
স্থানীয় বাসিন্দারা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, যেকোনো ক্ষতিপূরণ প্রস্তাব এলেও তারা এই পাহাড় ছেড়ে যাবেন না।
রাস্তা নির্মাণকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা
খনন প্রকল্পের জন্য প্রায় ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি রাস্তা নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে, যার জন্য উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমি প্রয়োজন। এই রাস্তা নির্মাণই এখন মূল বিরোধের কেন্দ্রবিন্দু।
প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় একাধিক বিধিনিষেধ জারি করেছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে আরও ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে।

পুলিশি অভিযান ও সংঘর্ষ
এপ্রিলের শুরুতে এক ভোরবেলা পুলিশের অভিযানের পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযানে বলপ্রয়োগ করা হয়েছে এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন।
অন্যদিকে পুলিশের দাবি, গ্রামবাসীদের প্রতিরোধে তাদের অনেক সদস্যও আহত হয়েছেন।
গ্রেপ্তার ও আতঙ্ক
গ্রামবাসীদের অভিযোগ, নির্বিচারে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে, এমনকি নারী ও শিক্ষার্থীরাও বাদ যাচ্ছেন না। বহু পরিবারে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
এই পরিস্থিতিতে গ্রামবাসীরা পাহাড়ে অস্থায়ী ঘাঁটি তৈরি করে পালাক্রমে পাহারা দিচ্ছেন, যাতে কোনো নির্মাণ কাজ শুরু করা না যায়।
খনিজ সম্পদ বনাম পরিবেশ ও অধিকার
সিজিমালি এলাকায় বিপুল পরিমাণ বক্সাইট মজুত রয়েছে, যা শিল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সরকার ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান এই প্রকল্পকে অর্থনৈতিক উন্নয়নের সুযোগ হিসেবে দেখছে।
তবে পরিবেশবিদ ও অধিকারকর্মীরা বলছেন, এতে পূর্বঘাটের সংবেদনশীল পরিবেশ মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে। একই সঙ্গে আদিবাসীদের জীবনযাপন ও সংস্কৃতিও হুমকির মুখে পড়বে।
‘সম্মতি’ নিয়ে প্রশ্ন
গ্রাম সভার অনুমোদন নিয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অনেক ক্ষেত্রে জাল স্বাক্ষর, অনিয়ম এবং প্রকৃত সম্মতি ছাড়াই অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করছেন স্থানীয়রা।
এর ফলে মানুষের ক্ষোভ আরও বেড়েছে এবং প্রতিবাদ আন্দোলন আরও সংগঠিত হয়েছে।
ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা
খনন প্রকল্প চালু হলে অর্থনৈতিক লাভের সম্ভাবনা থাকলেও, স্থানীয়দের আশঙ্কা—তাদের জীবন ও পরিবেশের ক্ষতি পূরণ করা সম্ভব হবে না।
এখন সিজিমালি পাহাড় শুধু একটি খনিজ সম্পদের উৎস নয়, বরং এটি হয়ে উঠেছে অধিকার, পরিবেশ ও উন্নয়নের দ্বন্দ্বের প্রতীক।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















