১১:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬
চার শতাব্দী পর ফিরল প্রকৃতির হারানো সন্তান, গ্লেন অ্যাফ্রিকে জন্ম নিল বুনো বিভারের নতুন প্রজন্ম ‘সবাইকে হত্যা করতে হবে’— প্রতিশোধের নামে সহিংসতার পক্ষে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীর উসকানি, আতঙ্কে পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনিরা এমঅ্যান্ডএসে খোলা-অংশের অন্তর্বাস বিক্রি ঘিরে বিতর্ক: ‘চমক’ নাকি বদলে যাওয়া বাজারের বাস্তবতা? প্রতিশোধের নামে হত্যার আহ্বান, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতির বাসিন্দার বিস্ফোরক মন্তব্যে নতুন বিতর্ক ট্রাম্পের নতুন নিশানায় ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’: ইরানের গোপন পারমাণবিক ঘাঁটি নিয়ে কেন বাড়ছে যুদ্ধের আশঙ্কা? ট্রাম্পের অভিযোগ ভেঙে পড়ল, আদালতে সরকারের স্বীকারোক্তি: ভাঙচুর নয়, তড়িঘড়ি মেরামতের ভুলেই ক্ষতিগ্রস্ত লিংকন রিফ্লেক্টিং পুল গোলাপি ডোরাকাটা রহস্যের অবসান: ৪০ বছরের অনুসন্ধানে মিলল সমুদ্রের নতুন শৈবাল প্রজাতি মৃত্যুর দিকে ছুটে চলা জীবনে থামার সময় কি এখনও আসেনি? প্যাক্স সিলিকা: কর্মসংস্থান নাকি নতুন নির্ভরতা? ফিলিপাইনের সামনে সুযোগের পাশাপাশি বড় ঝুঁকির সতর্কবার্তা যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত সার্জিও গরের ঢাকা সফর শেষ, বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক আরও জোরদারের অঙ্গীকার

হরমুজ প্রণালীতে নিয়ন্ত্রণ, ভূগোলই ইরানের সবচেয়ে বড় শক্তি

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের মধ্যে ইরান এমন এক কৌশল সামনে এনেছে, যা পারমাণবিক অস্ত্রের বাইরেও শক্তিশালী প্রতিরোধ হিসেবে কাজ করতে পারে। সেই কৌশলের কেন্দ্রে রয়েছে পারস্য উপসাগরের প্রবেশদ্বার—হরমুজ প্রণালী। বিশ্বের মোট তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়, ফলে এর ওপর নিয়ন্ত্রণ বিশ্ব অর্থনীতিতে সরাসরি প্রভাব ফেলে।

ভূগোলই ইরানের সবচেয়ে বড় শক্তি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ঠেকাতে সামরিক অভিযান চালালেও, বাস্তবে ইরানের সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ হয়ে উঠেছে তার ভৌগোলিক অবস্থান। হরমুজ প্রণালীতে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ইরান দেখিয়েছে, ভবিষ্যতের যেকোনো সংঘাতে এই পথ বন্ধ করাই হতে পারে তাদের প্রথম পদক্ষেপ।

এই জলপথে চাপ সৃষ্টি করার ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি, সারসহ নানা পণ্যের দাম বেড়েছে। ফলে যুদ্ধক্ষেত্রের বাইরে থেকেও ইরান বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে সক্ষম হয়েছে।

Advanced submarines, strategic bases: Here's what we know about Iran's naval  capabilities | Euronews

যুদ্ধের ক্ষতি, কিন্তু নিয়ন্ত্রণ অটুট

সাম্প্রতিক যুদ্ধে ইরানের নেতৃত্ব কাঠামো, নৌবাহিনীর বড় জাহাজ এবং ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবুও হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতায় তেমন প্রভাব পড়েনি।

বিশ্লেষকদের মতে, এই অভিজ্ঞতা থেকে ইরান ভবিষ্যতের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল তৈরি করতে পারে—যেখানে পারমাণবিক কর্মসূচির সীমাবদ্ধতা থাকলেও জলপথ নিয়ন্ত্রণই প্রধান প্রতিরোধ হিসেবে কাজ করবে।

ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র: নতুন ভয়

ইরানের হাতে এখনো উল্লেখযোগ্য পরিমাণ আক্রমণাত্মক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। যুদ্ধের পরও তাদের প্রায় ৪০ শতাংশ ড্রোন এবং ৬০ শতাংশের বেশি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা সক্রিয় আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এই অস্ত্রগুলো দিয়ে ইরান সহজেই বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ব্যাহত করতে পারে। যুদ্ধজাহাজে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাকলেও সাধারণ তেলবাহী জাহাজ বা বাণিজ্যিক জাহাজের প্রতিরোধ ক্ষমতা সীমিত।

যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা পদক্ষেপ

By Choking the Strait of Hormuz, Iran Found America's Weak Spot | The Walrus

হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনার জেরে যুক্তরাষ্ট্র নিজেও নৌ অবরোধ ঘোষণা করে। এমনকি কিছু পণ্যবাহী জাহাজকে ইরানের বন্দরে যেতে বাধ্য করার ঘটনাও ঘটে।

এই পদক্ষেপের ফলে ইরানের সামুদ্রিক বাণিজ্য, যা দেশটির অর্থনীতির প্রায় ৯০ শতাংশ, কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে। প্রতিদিন প্রায় ৩৪০ মিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক প্রবাহ এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

তবে ইরান এই অবরোধকে সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণার সমতুল্য মনে করলেও এখন পর্যন্ত বড় ধরনের সামরিক প্রতিক্রিয়া দেখায়নি।

অভ্যন্তরীণ বিভাজন ও কূটনৈতিক সংকেত

হরমুজ প্রণালী খোলা না বন্ধ—এ নিয়ে ইরানের ভেতরেও মতভেদ দেখা গেছে। একদিকে রাজনৈতিক নেতৃত্ব এটি খোলা থাকার দাবি করেছে, অন্যদিকে সামরিক বাহিনী বলেছে এটি এখনো বন্ধ রয়েছে।

এটি ইঙ্গিত দেয় যে যুদ্ধবিরতি চললেও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্থিতিশীল নয় এবং আলোচনার পথ এখনো অনিশ্চিত।

ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি, নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার

১৯৮০-এর দশকে ইরান একবার হরমুজ প্রণালীতে মাইন পেতে জাহাজ চলাচল বন্ধ করার চেষ্টা করেছিল। তবে এখন তারা আরও উন্নত প্রযুক্তি—ড্রোন ও নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে একই ধরনের চাপ সৃষ্টি করছে।

এই মুহূর্তে' ইউরোপীয়দের সঙ্গে পারমাণু আলোচনা নয় : ইরান | আন্তর্জাতিক |  বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)

এই পরিবর্তন দেখায়, প্রযুক্তিগত অগ্রগতির মাধ্যমে ইরান তার পুরনো কৌশলকে আরও কার্যকর করেছে।

ভবিষ্যতের সংকেত

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ভবিষ্যতে যেকোনো সংঘাতে হরমুজ প্রণালীকে প্রধান অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করবে। এটি শুধু সামরিক নয়, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত চাপ তৈরির এক শক্তিশালী মাধ্যম।

এই বাস্তবতা এখন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে—কারণ ভূগোলকে হারানো যায় না, আর সেই ভূগোলই ইরানের সবচেয়ে বড় শক্তি।

জনপ্রিয় সংবাদ

চার শতাব্দী পর ফিরল প্রকৃতির হারানো সন্তান, গ্লেন অ্যাফ্রিকে জন্ম নিল বুনো বিভারের নতুন প্রজন্ম

হরমুজ প্রণালীতে নিয়ন্ত্রণ, ভূগোলই ইরানের সবচেয়ে বড় শক্তি

০৩:০১:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের মধ্যে ইরান এমন এক কৌশল সামনে এনেছে, যা পারমাণবিক অস্ত্রের বাইরেও শক্তিশালী প্রতিরোধ হিসেবে কাজ করতে পারে। সেই কৌশলের কেন্দ্রে রয়েছে পারস্য উপসাগরের প্রবেশদ্বার—হরমুজ প্রণালী। বিশ্বের মোট তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়, ফলে এর ওপর নিয়ন্ত্রণ বিশ্ব অর্থনীতিতে সরাসরি প্রভাব ফেলে।

ভূগোলই ইরানের সবচেয়ে বড় শক্তি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ঠেকাতে সামরিক অভিযান চালালেও, বাস্তবে ইরানের সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ হয়ে উঠেছে তার ভৌগোলিক অবস্থান। হরমুজ প্রণালীতে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ইরান দেখিয়েছে, ভবিষ্যতের যেকোনো সংঘাতে এই পথ বন্ধ করাই হতে পারে তাদের প্রথম পদক্ষেপ।

এই জলপথে চাপ সৃষ্টি করার ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি, সারসহ নানা পণ্যের দাম বেড়েছে। ফলে যুদ্ধক্ষেত্রের বাইরে থেকেও ইরান বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে সক্ষম হয়েছে।

Advanced submarines, strategic bases: Here's what we know about Iran's naval  capabilities | Euronews

যুদ্ধের ক্ষতি, কিন্তু নিয়ন্ত্রণ অটুট

সাম্প্রতিক যুদ্ধে ইরানের নেতৃত্ব কাঠামো, নৌবাহিনীর বড় জাহাজ এবং ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবুও হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতায় তেমন প্রভাব পড়েনি।

বিশ্লেষকদের মতে, এই অভিজ্ঞতা থেকে ইরান ভবিষ্যতের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল তৈরি করতে পারে—যেখানে পারমাণবিক কর্মসূচির সীমাবদ্ধতা থাকলেও জলপথ নিয়ন্ত্রণই প্রধান প্রতিরোধ হিসেবে কাজ করবে।

ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র: নতুন ভয়

ইরানের হাতে এখনো উল্লেখযোগ্য পরিমাণ আক্রমণাত্মক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। যুদ্ধের পরও তাদের প্রায় ৪০ শতাংশ ড্রোন এবং ৬০ শতাংশের বেশি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা সক্রিয় আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এই অস্ত্রগুলো দিয়ে ইরান সহজেই বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ব্যাহত করতে পারে। যুদ্ধজাহাজে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাকলেও সাধারণ তেলবাহী জাহাজ বা বাণিজ্যিক জাহাজের প্রতিরোধ ক্ষমতা সীমিত।

যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা পদক্ষেপ

By Choking the Strait of Hormuz, Iran Found America's Weak Spot | The Walrus

হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনার জেরে যুক্তরাষ্ট্র নিজেও নৌ অবরোধ ঘোষণা করে। এমনকি কিছু পণ্যবাহী জাহাজকে ইরানের বন্দরে যেতে বাধ্য করার ঘটনাও ঘটে।

এই পদক্ষেপের ফলে ইরানের সামুদ্রিক বাণিজ্য, যা দেশটির অর্থনীতির প্রায় ৯০ শতাংশ, কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে। প্রতিদিন প্রায় ৩৪০ মিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক প্রবাহ এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

তবে ইরান এই অবরোধকে সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণার সমতুল্য মনে করলেও এখন পর্যন্ত বড় ধরনের সামরিক প্রতিক্রিয়া দেখায়নি।

অভ্যন্তরীণ বিভাজন ও কূটনৈতিক সংকেত

হরমুজ প্রণালী খোলা না বন্ধ—এ নিয়ে ইরানের ভেতরেও মতভেদ দেখা গেছে। একদিকে রাজনৈতিক নেতৃত্ব এটি খোলা থাকার দাবি করেছে, অন্যদিকে সামরিক বাহিনী বলেছে এটি এখনো বন্ধ রয়েছে।

এটি ইঙ্গিত দেয় যে যুদ্ধবিরতি চললেও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্থিতিশীল নয় এবং আলোচনার পথ এখনো অনিশ্চিত।

ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি, নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার

১৯৮০-এর দশকে ইরান একবার হরমুজ প্রণালীতে মাইন পেতে জাহাজ চলাচল বন্ধ করার চেষ্টা করেছিল। তবে এখন তারা আরও উন্নত প্রযুক্তি—ড্রোন ও নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে একই ধরনের চাপ সৃষ্টি করছে।

এই মুহূর্তে' ইউরোপীয়দের সঙ্গে পারমাণু আলোচনা নয় : ইরান | আন্তর্জাতিক |  বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)

এই পরিবর্তন দেখায়, প্রযুক্তিগত অগ্রগতির মাধ্যমে ইরান তার পুরনো কৌশলকে আরও কার্যকর করেছে।

ভবিষ্যতের সংকেত

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ভবিষ্যতে যেকোনো সংঘাতে হরমুজ প্রণালীকে প্রধান অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করবে। এটি শুধু সামরিক নয়, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত চাপ তৈরির এক শক্তিশালী মাধ্যম।

এই বাস্তবতা এখন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে—কারণ ভূগোলকে হারানো যায় না, আর সেই ভূগোলই ইরানের সবচেয়ে বড় শক্তি।