০১:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬
দ্বিতীয়বার মা হতে চলেছেন দীপিকা, ইনস্টাগ্রামে সুখবর জানালেন রণবীর-দীপিকা হরমুজে দ্বৈত অবরোধ: ট্রাম্পের নতুন পদক্ষেপে জ্বালানি বাজারে চরম অনিশ্চয়তা হরমুজে অবরোধ, যুদ্ধবিরতির পরও অনিশ্চয়তা: যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা কি আদৌ সম্ভব? রিওর চকচকে সৈকতের আড়ালে দুর্নীতি ও অপরাধের অন্ধকার বাস্তবতা পুঁজিবাদের সংকট থেকে উত্তরণ: কেইনসের ধারণায় বদলে যাওয়া অর্থনীতির পথ ট্রাম্পের রাজনীতিতে ভ্যান্সের তত্ত্বের ভাঙন: আদর্শ বনাম বাস্তবতার দ্বন্দ্ব মার্কিন স্বাস্থ্যখাতে জালিয়াতির বিস্তার: কোটি কোটি ডলার হারাচ্ছে সরকার, রাজনৈতিক কৌশলেও বাড়ছে তৎপরতা বিশ্বজুড়ে বাড়ছে বাঙ্কার ব্যবসা: মহাবিপর্যয়ের আশঙ্কায় ‘বেঁচে থাকার ঘর’ এখন বিলিয়ন ডলারের বাজার ট্রাম্প বনাম পোপ লিও: ধর্ম, রাজনীতি আর কটূক্তিতে উত্তাল বিশ্ব ট্রাম্পের কড়া বার্তা—লেবাননে আর বোমা নয়, যুদ্ধবিরতিতে নতুন মোড়

বেইজিংয়ে রোবট ম্যারাথন: মানুষ–মেশিন দৌড়ে ভবিষ্যতের প্রযুক্তির নতুন পরীক্ষা

চীনের বেইজিংয়ের ইঝুয়াং শিল্প-প্রযুক্তি অঞ্চলের রাস্তায় আজ এক ব্যতিক্রমী দৃশ্য দেখা যাবে। হাজারো মানুষের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে অর্ধ-ম্যারাথনে দৌড়াবে শতাধিক মানবসদৃশ রোবট। প্রযুক্তি আর মানবশক্তির এই মিলিত প্রতিযোগিতা এখন কেবল কৌতূহলের বিষয় নয়, বরং ভবিষ্যতের প্রযুক্তিগত সক্ষমতার বাস্তব পরীক্ষা।

গত বছরের তুলনায় এবারের প্রতিযোগিতা অনেক বড়। প্রথমবার যেখানে মাত্র ২১টি রোবট অংশ নিয়েছিল, সেখানে এবার অংশ নিচ্ছে ৩০০-র বেশি রোবট। গতবার অনেক রোবট মাঝপথে পড়ে গিয়েছিল বা অতিরিক্ত গরম হয়ে থেমে গিয়েছিল, কিন্তু এবার অংশগ্রহণকারীরা আরও উন্নত প্রযুক্তি নিয়ে মাঠে নামছে।

প্রযুক্তির নতুন পরীক্ষাগার

এই প্রতিযোগিতায় শুধু গতি নয়, আরও গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় বিবেচনা করা হচ্ছে। রোবটগুলোর তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা, দীর্ঘসময় দৌড়ানোর সক্ষমতা এবং স্বাভাবিক গতিবিধি—সবকিছুই এখানে মূল্যায়নের অংশ।

Beijing's Humanoid Half-Marathon Training: A Grueling Challenge - Observer  Voice

গতবারের বিজয়ী ছিল “তিয়ানগং আল্ট্রা” নামের একটি রোবট, যা প্রায় ২ ঘণ্টা ৪০ মিনিটে দৌড় শেষ করেছিল। এবারের লক্ষ্য আরও দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানো এবং মানুষের নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে দৌড় শেষ করা।

স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির প্রতিযোগিতা

এবার অংশগ্রহণকারী রোবটগুলোর প্রায় ৪০ শতাংশ সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিচালিত হচ্ছে। বাকিগুলো কোনো না কোনোভাবে মানুষের সহায়তায় চলছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বেইজিংয়ের বিভিন্ন দল রাতের বেলায় ফাঁকা রাস্তায় এই রোবটগুলোর প্রশিক্ষণ দিয়েছে।

এই ধরনের প্রতিযোগিতা নতুন নয়। অতীতে স্বয়ংচালিত গাড়ির প্রযুক্তি উন্নয়নের জন্যও একই ধরনের প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হয়েছিল, যা পরবর্তীতে বড় শিল্পে পরিণত হয়। ঠিক তেমনই এই রোবট দৌড়ও ভবিষ্যতের প্রযুক্তিকে এগিয়ে নিতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

বিনিয়োগ ও প্রতিযোগিতার কেন্দ্রবিন্দু

চীনে বর্তমানে ১৫০-র বেশি প্রতিষ্ঠান মানবসদৃশ রোবট তৈরি করছে। বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোও এতে যুক্ত রয়েছে। এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে তারা বিনিয়োগ, নজর এবং সরকারি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ তৈরি করতে চায়।

A humanoid robot sprints to victory in Beijing, beating the human half- marathon world record

এবারের বিজয়ী দল এক মিলিয়ন ইউয়ানের বেশি মূল্যের অর্ডার পাওয়ার নিশ্চয়তা পাচ্ছে, যা নতুন উদ্ভাবনকে আরও উৎসাহিত করবে।

রাষ্ট্রের কৌশলগত পরিকল্পনা

এই আয়োজনের পেছনে সরকারেরও বড় পরিকল্পনা রয়েছে। ইঝুয়াং প্রশাসন ইতোমধ্যে ৩০০-র বেশি রোবট-সম্পর্কিত প্রতিষ্ঠানকে তাদের শিল্পাঞ্চলে আকৃষ্ট করেছে। সরকার চাইছে, স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো যেন বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকে।

এর আগে প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রযুক্তিগত সহায়তা, ডিজাইন উন্নয়ন এবং ভর্তুকি দেওয়ার মাধ্যমে শক্তিশালী করা হয়েছে। এখন এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে তারা যাচাই করতে চায়, সেই বিনিয়োগ কতটা সফল হয়েছে।

প্রযুক্তির এই দৌড় এখন শুধু মাঠের ভেতর সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতার অংশ হয়ে উঠছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশের সঙ্গে প্রযুক্তিগত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এগিয়ে থাকতে চীন এই ধরনের উদ্যোগকে গুরুত্ব দিচ্ছে।

Training for Beijing's humanoid half-marathon is gruelling| Technology News

জনপ্রিয় সংবাদ

দ্বিতীয়বার মা হতে চলেছেন দীপিকা, ইনস্টাগ্রামে সুখবর জানালেন রণবীর-দীপিকা

বেইজিংয়ে রোবট ম্যারাথন: মানুষ–মেশিন দৌড়ে ভবিষ্যতের প্রযুক্তির নতুন পরীক্ষা

১১:২৬:০৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

চীনের বেইজিংয়ের ইঝুয়াং শিল্প-প্রযুক্তি অঞ্চলের রাস্তায় আজ এক ব্যতিক্রমী দৃশ্য দেখা যাবে। হাজারো মানুষের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে অর্ধ-ম্যারাথনে দৌড়াবে শতাধিক মানবসদৃশ রোবট। প্রযুক্তি আর মানবশক্তির এই মিলিত প্রতিযোগিতা এখন কেবল কৌতূহলের বিষয় নয়, বরং ভবিষ্যতের প্রযুক্তিগত সক্ষমতার বাস্তব পরীক্ষা।

গত বছরের তুলনায় এবারের প্রতিযোগিতা অনেক বড়। প্রথমবার যেখানে মাত্র ২১টি রোবট অংশ নিয়েছিল, সেখানে এবার অংশ নিচ্ছে ৩০০-র বেশি রোবট। গতবার অনেক রোবট মাঝপথে পড়ে গিয়েছিল বা অতিরিক্ত গরম হয়ে থেমে গিয়েছিল, কিন্তু এবার অংশগ্রহণকারীরা আরও উন্নত প্রযুক্তি নিয়ে মাঠে নামছে।

প্রযুক্তির নতুন পরীক্ষাগার

এই প্রতিযোগিতায় শুধু গতি নয়, আরও গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় বিবেচনা করা হচ্ছে। রোবটগুলোর তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা, দীর্ঘসময় দৌড়ানোর সক্ষমতা এবং স্বাভাবিক গতিবিধি—সবকিছুই এখানে মূল্যায়নের অংশ।

Beijing's Humanoid Half-Marathon Training: A Grueling Challenge - Observer  Voice

গতবারের বিজয়ী ছিল “তিয়ানগং আল্ট্রা” নামের একটি রোবট, যা প্রায় ২ ঘণ্টা ৪০ মিনিটে দৌড় শেষ করেছিল। এবারের লক্ষ্য আরও দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানো এবং মানুষের নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে দৌড় শেষ করা।

স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির প্রতিযোগিতা

এবার অংশগ্রহণকারী রোবটগুলোর প্রায় ৪০ শতাংশ সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিচালিত হচ্ছে। বাকিগুলো কোনো না কোনোভাবে মানুষের সহায়তায় চলছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বেইজিংয়ের বিভিন্ন দল রাতের বেলায় ফাঁকা রাস্তায় এই রোবটগুলোর প্রশিক্ষণ দিয়েছে।

এই ধরনের প্রতিযোগিতা নতুন নয়। অতীতে স্বয়ংচালিত গাড়ির প্রযুক্তি উন্নয়নের জন্যও একই ধরনের প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হয়েছিল, যা পরবর্তীতে বড় শিল্পে পরিণত হয়। ঠিক তেমনই এই রোবট দৌড়ও ভবিষ্যতের প্রযুক্তিকে এগিয়ে নিতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

বিনিয়োগ ও প্রতিযোগিতার কেন্দ্রবিন্দু

চীনে বর্তমানে ১৫০-র বেশি প্রতিষ্ঠান মানবসদৃশ রোবট তৈরি করছে। বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোও এতে যুক্ত রয়েছে। এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে তারা বিনিয়োগ, নজর এবং সরকারি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ তৈরি করতে চায়।

A humanoid robot sprints to victory in Beijing, beating the human half- marathon world record

এবারের বিজয়ী দল এক মিলিয়ন ইউয়ানের বেশি মূল্যের অর্ডার পাওয়ার নিশ্চয়তা পাচ্ছে, যা নতুন উদ্ভাবনকে আরও উৎসাহিত করবে।

রাষ্ট্রের কৌশলগত পরিকল্পনা

এই আয়োজনের পেছনে সরকারেরও বড় পরিকল্পনা রয়েছে। ইঝুয়াং প্রশাসন ইতোমধ্যে ৩০০-র বেশি রোবট-সম্পর্কিত প্রতিষ্ঠানকে তাদের শিল্পাঞ্চলে আকৃষ্ট করেছে। সরকার চাইছে, স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো যেন বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকে।

এর আগে প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রযুক্তিগত সহায়তা, ডিজাইন উন্নয়ন এবং ভর্তুকি দেওয়ার মাধ্যমে শক্তিশালী করা হয়েছে। এখন এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে তারা যাচাই করতে চায়, সেই বিনিয়োগ কতটা সফল হয়েছে।

প্রযুক্তির এই দৌড় এখন শুধু মাঠের ভেতর সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতার অংশ হয়ে উঠছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশের সঙ্গে প্রযুক্তিগত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এগিয়ে থাকতে চীন এই ধরনের উদ্যোগকে গুরুত্ব দিচ্ছে।

Training for Beijing's humanoid half-marathon is gruelling| Technology News