চীনের বেইজিংয়ের ইঝুয়াং শিল্প-প্রযুক্তি অঞ্চলের রাস্তায় আজ এক ব্যতিক্রমী দৃশ্য দেখা যাবে। হাজারো মানুষের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে অর্ধ-ম্যারাথনে দৌড়াবে শতাধিক মানবসদৃশ রোবট। প্রযুক্তি আর মানবশক্তির এই মিলিত প্রতিযোগিতা এখন কেবল কৌতূহলের বিষয় নয়, বরং ভবিষ্যতের প্রযুক্তিগত সক্ষমতার বাস্তব পরীক্ষা।
গত বছরের তুলনায় এবারের প্রতিযোগিতা অনেক বড়। প্রথমবার যেখানে মাত্র ২১টি রোবট অংশ নিয়েছিল, সেখানে এবার অংশ নিচ্ছে ৩০০-র বেশি রোবট। গতবার অনেক রোবট মাঝপথে পড়ে গিয়েছিল বা অতিরিক্ত গরম হয়ে থেমে গিয়েছিল, কিন্তু এবার অংশগ্রহণকারীরা আরও উন্নত প্রযুক্তি নিয়ে মাঠে নামছে।
প্রযুক্তির নতুন পরীক্ষাগার
এই প্রতিযোগিতায় শুধু গতি নয়, আরও গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় বিবেচনা করা হচ্ছে। রোবটগুলোর তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা, দীর্ঘসময় দৌড়ানোর সক্ষমতা এবং স্বাভাবিক গতিবিধি—সবকিছুই এখানে মূল্যায়নের অংশ।

গতবারের বিজয়ী ছিল “তিয়ানগং আল্ট্রা” নামের একটি রোবট, যা প্রায় ২ ঘণ্টা ৪০ মিনিটে দৌড় শেষ করেছিল। এবারের লক্ষ্য আরও দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানো এবং মানুষের নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে দৌড় শেষ করা।
স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির প্রতিযোগিতা
এবার অংশগ্রহণকারী রোবটগুলোর প্রায় ৪০ শতাংশ সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিচালিত হচ্ছে। বাকিগুলো কোনো না কোনোভাবে মানুষের সহায়তায় চলছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বেইজিংয়ের বিভিন্ন দল রাতের বেলায় ফাঁকা রাস্তায় এই রোবটগুলোর প্রশিক্ষণ দিয়েছে।
এই ধরনের প্রতিযোগিতা নতুন নয়। অতীতে স্বয়ংচালিত গাড়ির প্রযুক্তি উন্নয়নের জন্যও একই ধরনের প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হয়েছিল, যা পরবর্তীতে বড় শিল্পে পরিণত হয়। ঠিক তেমনই এই রোবট দৌড়ও ভবিষ্যতের প্রযুক্তিকে এগিয়ে নিতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
বিনিয়োগ ও প্রতিযোগিতার কেন্দ্রবিন্দু
চীনে বর্তমানে ১৫০-র বেশি প্রতিষ্ঠান মানবসদৃশ রোবট তৈরি করছে। বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোও এতে যুক্ত রয়েছে। এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে তারা বিনিয়োগ, নজর এবং সরকারি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ তৈরি করতে চায়।

এবারের বিজয়ী দল এক মিলিয়ন ইউয়ানের বেশি মূল্যের অর্ডার পাওয়ার নিশ্চয়তা পাচ্ছে, যা নতুন উদ্ভাবনকে আরও উৎসাহিত করবে।
রাষ্ট্রের কৌশলগত পরিকল্পনা
এই আয়োজনের পেছনে সরকারেরও বড় পরিকল্পনা রয়েছে। ইঝুয়াং প্রশাসন ইতোমধ্যে ৩০০-র বেশি রোবট-সম্পর্কিত প্রতিষ্ঠানকে তাদের শিল্পাঞ্চলে আকৃষ্ট করেছে। সরকার চাইছে, স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো যেন বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকে।
এর আগে প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রযুক্তিগত সহায়তা, ডিজাইন উন্নয়ন এবং ভর্তুকি দেওয়ার মাধ্যমে শক্তিশালী করা হয়েছে। এখন এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে তারা যাচাই করতে চায়, সেই বিনিয়োগ কতটা সফল হয়েছে।
প্রযুক্তির এই দৌড় এখন শুধু মাঠের ভেতর সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতার অংশ হয়ে উঠছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশের সঙ্গে প্রযুক্তিগত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এগিয়ে থাকতে চীন এই ধরনের উদ্যোগকে গুরুত্ব দিচ্ছে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















