০২:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
ধামরাইয়ে ঘরে ঢুকে এসএসসি পরীক্ষার্থী নাহিদাকে কুপিয়ে হত্যা বাংলাদেশে হাম সংক্রমণ ৫৮ জেলায়, জাতীয় ঝুঁকি ‘উচ্চ’—বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সতর্কতা অস্ট্রেলিয়ার ‘ভুলে যাওয়া যুদ্ধ’: বোর্নিও ও মালয় উপদ্বীপে ইন্দোনেশিয়ার মুখোমুখি সংঘাতে অস্ট্রেলিয়ার ভূমিকা অস্ট্রেলিয়ার অদ্ভুত জলপ্রপাত: আড়াআড়ি স্রোত, উল্টো ধারা আর কুয়াশার জলপ্রপাতের বিস্ময় বিবাহবিচ্ছেদের পর একাকী জীবনের কঠিন বাস্তবতা: আয় কমে খরচ বেড়ে বদলে যাচ্ছে জীবনধারা এজেএল ৪০: নবাগত তারকারা নতুন সুরে মঞ্চ মাতাতে প্রস্তুত ফ্লেমিঙ্গো ছানার জীবনচক্র ও গোলাপি রঙে বদলের অবাক করা রহস্য সিঙ্গাপুর এক্সচেঞ্জে ১.২৭ বিলিয়ন ডলারের রিয়েল এস্টেট ট্রাস্ট তালিকাভুক্তির পরিকল্পনায় থাই হসপিটালিটি জায়ান্ট ইন্দোনেশিয়ার সমুদ্রে একের পর এক রহস্যময় ক্ষেপণাস্ত্র সদৃশ বস্তু: আতঙ্ক ছড়াচ্ছে উপকূলজুড়ে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনায় নতুন মোড়: ছায়াযুদ্ধের আশঙ্কা ও স্লিপার সেল আতঙ্কে বিশ্ব নিরাপত্তা ঝুঁকি

রিওর চকচকে সৈকতের আড়ালে দুর্নীতি ও অপরাধের অন্ধকার বাস্তবতা

ব্রাজিলের রিও ডি জেনেইরো—বিশ্বজুড়ে পর্যটকদের কাছে এক স্বপ্নের শহর। সমুদ্রের নীল জল, সবুজ পাহাড়, প্রাণবন্ত সংস্কৃতি—সব মিলিয়ে যেন এক জীবন্ত পোস্টকার্ড। ২০২৫ সালে বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ২১ লাখে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৪৫ শতাংশ বেশি। কিন্তু এই উজ্জ্বল চিত্রের আড়ালেই লুকিয়ে আছে এক জটিল, উদ্বেগজনক বাস্তবতা—দুর্নীতি, অপরাধ আর রাজনৈতিক অস্থিরতার জাল।

রাজনৈতিক অস্থিরতা ও দুর্নীতির চক্র

রিওর রাজনীতিতে দুর্নীতি যেন এক দীর্ঘস্থায়ী রোগ। চলতি শতাব্দীতে এই রাজ্যের প্রায় সব নির্বাচিত গভর্নরই কখনও না কখনও কারাবন্দি হয়েছেন বা অভিশংসনের মুখে পড়েছেন। সম্প্রতি সাবেক গভর্নরকে নির্বাচনী প্রচারে সরকারি অর্থ অপব্যবহারের অভিযোগে আট বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সময়ে স্থানীয় আইনসভার শীর্ষ নেতাও অপরাধ জগতের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগে কারাগারে আছেন।

এই পরিস্থিতিতে আদালত পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে—রাজ্যের গভর্নর কি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হবেন, নাকি আইনপ্রণেতাদের মাধ্যমে নির্ধারিত হবেন। এটি প্রমাণ করে, রাজনৈতিক কাঠামো কতটা অস্থির হয়ে উঠেছে।

অপরাধের নিয়ন্ত্রণে শহরের বড় অংশ

রিওর চমকপ্রদ দক্ষিণাঞ্চলের বাইরে বিস্তৃত উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে রয়েছে ঘনবসতিপূর্ণ বস্তি, যেখানে কোটি মানুষের বসবাস। এসব এলাকায় প্রায়ই নিয়ন্ত্রণ থাকে মাদক চক্র বা সশস্ত্র গোষ্ঠীর হাতে। অনেক ক্ষেত্রে তারা নিজেদের মতো করে আইন প্রয়োগ করে, এমনকি স্থানীয়দের সহায়তাও দেয়—যা তাদের প্রভাব আরও শক্তিশালী করে।

একটি বস্তি এলাকায় মাত্র চার বর্গকিলোমিটারের কম জায়গায় ১ লাখ ৪০ হাজারের বেশি মানুষ বাস করে। সেখানে চুরি হওয়া গাড়ি, অস্ত্রের উপস্থিতি, আর নিয়মিত সহিংসতা প্রায় স্বাভাবিক চিত্র। পুলিশের অভিযানে বহু মানুষের মৃত্যু হলেও এই অভিযানগুলো রাজনৈতিক জনপ্রিয়তা বাড়ানোর হাতিয়ার হিসেবেও ব্যবহৃত হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

অপরাধ ও রাজনীতির যোগসূত্র

রিওতে অপরাধচক্র ও রাজনীতির সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। অভিযোগ রয়েছে, কিছু রাজনীতিক অপরাধীদের কাছ থেকে সুবিধা নেন, আবার অপরাধীরা রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় নিজেদের কার্যক্রম চালিয়ে যায়। এমনকি বিচার বিভাগ পর্যন্ত এই প্রভাব থেকে মুক্ত নয়—একাধিক ঘটনায় বিচারক ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ উঠেছে।

অবৈধ লটারি ব্যবসা, চোরাচালান, অর্থপাচার—সবকিছুই একে অপরের সঙ্গে জড়িত। এই অর্থ আবার সংস্কৃতি ও সামাজিক কর্মকাণ্ডেও ঢুকে পড়ে, ফলে অপরাধের শিকড় আরও গভীর হয়।

মিলিশিয়া ও সহিংসতার বিস্তার

শহরের পশ্চিমাঞ্চলে সাবেক পুলিশ সদস্যদের গড়ে তোলা মিলিশিয়ারা এখন বড় শক্তি। তারা শুধু মাদক ব্যবসাই নয়, চাঁদাবাজি ও সম্পত্তি দখলেও জড়িত। গবেষণা বলছে, প্রায় ১৭ লাখ মানুষ এই মিলিশিয়াদের নিয়ন্ত্রণে বসবাস করছে—যা মাদকচক্রের নিয়ন্ত্রণাধীন মানুষের সংখ্যার কাছাকাছি।

একজন জনপ্রতিনিধিকে হত্যার ঘটনা দেশজুড়ে আলোড়ন তোলে এবং এতে জড়িত থাকার অভিযোগে প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর সাজাও দেওয়া হয়েছে। এতে স্পষ্ট হয়, অপরাধ ও রাজনীতির সংযোগ কতটা গভীর।

সাধারণ মানুষের হতাশা ও ভবিষ্যৎ আশঙ্কা

এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ ক্রমেই হতাশ হয়ে পড়ছে। অনেকেই মনে করছেন, কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপ ছাড়া এই পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব নয়। এমনকি কিছু রাজনৈতিক নেতা শহরটিকে আলাদা করার কথাও বলছেন, যা পরিস্থিতির গভীর সংকটকে ইঙ্গিত করে।

রিওর ঝলমলে চেহারার পেছনে যে অস্থিরতা ও সংকট লুকিয়ে আছে, তা শুধু এই শহরের জন্য নয়—পুরো দেশের জন্যই সতর্কবার্তা হয়ে উঠছে।

Rio de Janeiro asks why its cops kill so many black people

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ধামরাইয়ে ঘরে ঢুকে এসএসসি পরীক্ষার্থী নাহিদাকে কুপিয়ে হত্যা

রিওর চকচকে সৈকতের আড়ালে দুর্নীতি ও অপরাধের অন্ধকার বাস্তবতা

১২:৩৬:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

ব্রাজিলের রিও ডি জেনেইরো—বিশ্বজুড়ে পর্যটকদের কাছে এক স্বপ্নের শহর। সমুদ্রের নীল জল, সবুজ পাহাড়, প্রাণবন্ত সংস্কৃতি—সব মিলিয়ে যেন এক জীবন্ত পোস্টকার্ড। ২০২৫ সালে বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ২১ লাখে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৪৫ শতাংশ বেশি। কিন্তু এই উজ্জ্বল চিত্রের আড়ালেই লুকিয়ে আছে এক জটিল, উদ্বেগজনক বাস্তবতা—দুর্নীতি, অপরাধ আর রাজনৈতিক অস্থিরতার জাল।

রাজনৈতিক অস্থিরতা ও দুর্নীতির চক্র

রিওর রাজনীতিতে দুর্নীতি যেন এক দীর্ঘস্থায়ী রোগ। চলতি শতাব্দীতে এই রাজ্যের প্রায় সব নির্বাচিত গভর্নরই কখনও না কখনও কারাবন্দি হয়েছেন বা অভিশংসনের মুখে পড়েছেন। সম্প্রতি সাবেক গভর্নরকে নির্বাচনী প্রচারে সরকারি অর্থ অপব্যবহারের অভিযোগে আট বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সময়ে স্থানীয় আইনসভার শীর্ষ নেতাও অপরাধ জগতের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগে কারাগারে আছেন।

এই পরিস্থিতিতে আদালত পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে—রাজ্যের গভর্নর কি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হবেন, নাকি আইনপ্রণেতাদের মাধ্যমে নির্ধারিত হবেন। এটি প্রমাণ করে, রাজনৈতিক কাঠামো কতটা অস্থির হয়ে উঠেছে।

অপরাধের নিয়ন্ত্রণে শহরের বড় অংশ

রিওর চমকপ্রদ দক্ষিণাঞ্চলের বাইরে বিস্তৃত উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে রয়েছে ঘনবসতিপূর্ণ বস্তি, যেখানে কোটি মানুষের বসবাস। এসব এলাকায় প্রায়ই নিয়ন্ত্রণ থাকে মাদক চক্র বা সশস্ত্র গোষ্ঠীর হাতে। অনেক ক্ষেত্রে তারা নিজেদের মতো করে আইন প্রয়োগ করে, এমনকি স্থানীয়দের সহায়তাও দেয়—যা তাদের প্রভাব আরও শক্তিশালী করে।

একটি বস্তি এলাকায় মাত্র চার বর্গকিলোমিটারের কম জায়গায় ১ লাখ ৪০ হাজারের বেশি মানুষ বাস করে। সেখানে চুরি হওয়া গাড়ি, অস্ত্রের উপস্থিতি, আর নিয়মিত সহিংসতা প্রায় স্বাভাবিক চিত্র। পুলিশের অভিযানে বহু মানুষের মৃত্যু হলেও এই অভিযানগুলো রাজনৈতিক জনপ্রিয়তা বাড়ানোর হাতিয়ার হিসেবেও ব্যবহৃত হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

অপরাধ ও রাজনীতির যোগসূত্র

রিওতে অপরাধচক্র ও রাজনীতির সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। অভিযোগ রয়েছে, কিছু রাজনীতিক অপরাধীদের কাছ থেকে সুবিধা নেন, আবার অপরাধীরা রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় নিজেদের কার্যক্রম চালিয়ে যায়। এমনকি বিচার বিভাগ পর্যন্ত এই প্রভাব থেকে মুক্ত নয়—একাধিক ঘটনায় বিচারক ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ উঠেছে।

অবৈধ লটারি ব্যবসা, চোরাচালান, অর্থপাচার—সবকিছুই একে অপরের সঙ্গে জড়িত। এই অর্থ আবার সংস্কৃতি ও সামাজিক কর্মকাণ্ডেও ঢুকে পড়ে, ফলে অপরাধের শিকড় আরও গভীর হয়।

মিলিশিয়া ও সহিংসতার বিস্তার

শহরের পশ্চিমাঞ্চলে সাবেক পুলিশ সদস্যদের গড়ে তোলা মিলিশিয়ারা এখন বড় শক্তি। তারা শুধু মাদক ব্যবসাই নয়, চাঁদাবাজি ও সম্পত্তি দখলেও জড়িত। গবেষণা বলছে, প্রায় ১৭ লাখ মানুষ এই মিলিশিয়াদের নিয়ন্ত্রণে বসবাস করছে—যা মাদকচক্রের নিয়ন্ত্রণাধীন মানুষের সংখ্যার কাছাকাছি।

একজন জনপ্রতিনিধিকে হত্যার ঘটনা দেশজুড়ে আলোড়ন তোলে এবং এতে জড়িত থাকার অভিযোগে প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর সাজাও দেওয়া হয়েছে। এতে স্পষ্ট হয়, অপরাধ ও রাজনীতির সংযোগ কতটা গভীর।

সাধারণ মানুষের হতাশা ও ভবিষ্যৎ আশঙ্কা

এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ ক্রমেই হতাশ হয়ে পড়ছে। অনেকেই মনে করছেন, কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপ ছাড়া এই পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব নয়। এমনকি কিছু রাজনৈতিক নেতা শহরটিকে আলাদা করার কথাও বলছেন, যা পরিস্থিতির গভীর সংকটকে ইঙ্গিত করে।

রিওর ঝলমলে চেহারার পেছনে যে অস্থিরতা ও সংকট লুকিয়ে আছে, তা শুধু এই শহরের জন্য নয়—পুরো দেশের জন্যই সতর্কবার্তা হয়ে উঠছে।

Rio de Janeiro asks why its cops kill so many black people