০৯:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ভারতের কৌশলগত স্বাধীনতার পরের পরীক্ষা: নেতৃত্ব কি নির্ভরতার বদলে পারস্পরিক সমৃদ্ধি আনবে? তারেক রহমানকে ট্রাম্পের চিঠি: কিছু কথা রাজনীতির নতুন সূত্র: ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের মাংসের জোগান বইয়ের পাতার মতোই মুগ্ধতা ছড়ায় বিশ্বের ৭ অপূর্ব গ্রন্থাগার লুলুলেমন আনল ‘বিগ-অ্যাস ব্যাগ’, ৮০ লিটারের বিশাল টোট ব্যাগে ঢুকবে যেন পুরো সংসার শিশুদের মুখে নতুন হাসি, মিশিগানে ম্যাগির উইগস ৪ কিডস-এর ২৩তম বার্ষিক গালা নাসার রোমান টেলিস্কোপের নতুন ঠিকানার পথে তিন মাসের মহাকাশযাত্রা মাত্র ১০ সেন্টিমিটার উচ্চতার ‘কিউটি পাই’ গোলাপ, ছোট বাগান সাজাতে দারুণ প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানকে স্বনির্ভর করতে অভিভাবকের যে ৬টি পদক্ষেপ জরুরি বাড়িতে প্রাপ্তবয়স্ক সন্তান থাকলে সম্পর্ক ভালো রাখার উপায়

হরমুজে অবরোধ, যুদ্ধবিরতির পরও অনিশ্চয়তা: যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা কি আদৌ সম্ভব?

যুদ্ধ থেমেছে, কিন্তু শান্তি এখনো দূরের স্বপ্ন—এমন এক জটিল বাস্তবতার মধ্যেই দাঁড়িয়ে আছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্ক। দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্থিতিশীল নয়। বরং অর্থনৈতিক চাপ, সামরিক উপস্থিতি এবং কূটনৈতিক টানাপোড়েন মিলিয়ে নতুন এক অনিশ্চিত পর্ব শুরু হয়েছে। সারাক্ষণ রিপোর্ট

যুদ্ধবিরতি, কিন্তু থেমে নেই চাপ

এপ্রিলের শুরুতে দুই দেশ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও হরমুজ প্রণালী এখনো কার্যত বাণিজ্যিক চলাচলের জন্য বন্ধ। এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে অবরোধের ফলে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে চাপ বাড়ছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জাহাজ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে, যা কার্যত একটি সামুদ্রিক অবরোধে পরিণত হয়েছে।

ইরানও পাল্টা অবস্থান নিয়েছে। তারা সংকেত দিচ্ছে যে, প্রয়োজন হলে বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থাকেই চাপে ফেলতে পারে। ফলে দুই পক্ষই অর্থনৈতিক শক্তিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে।

ধর্ষণের দায়ে দোষী ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করল ইরান | আন্তর্জাতিক |  বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)

ইরানের অর্থনীতি চাপে

ইরানের অর্থনীতি আগেই সংকটে ছিল। মুদ্রার অবমূল্যায়ন, ৫০ শতাংশের বেশি মূল্যস্ফীতি এবং যুদ্ধজনিত ক্ষয়ক্ষতি—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি নাজুক। এখন যদি তেল রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তাদের উৎপাদন কমাতে বা বন্ধ করতে হতে পারে। এতে দীর্ঘমেয়াদে তেলক্ষেত্রও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

খাদ্য সরবরাহেও চাপ বাড়ছে। আমদানি নির্ভর সয়াবিনের সরবরাহ ব্যাহত হলে খাদ্যপণ্যের দাম আরও বাড়তে পারে, যা সাধারণ মানুষের জীবনে বড় প্রভাব ফেলবে।

বৈশ্বিক বাজারেও প্রভাব

এই সংঘাত শুধু দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট তীব্র হচ্ছে। তেলের দাম বাড়ছে, পরিবহন খরচ বাড়ছে, আর সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ও বাড়ছে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রেও জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় মূল্যস্ফীতি আবার বাড়তির দিকে।

উপসাগরীয় দেশগুলো প্রথমে এই অবরোধকে সমর্থন করলেও তারাও এখন ক্ষতির মুখে পড়ছে। রপ্তানি কমে যাওয়ায় প্রতিদিন বিপুল অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে।

আলোচনায় অগ্রগতি, কিন্তু দ্বিধা

Talks: Iran suspects negotiations could be a trap for surprise attack

যুদ্ধবিরতির পর পাকিস্তানের ইসলামাবাদে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে দীর্ঘ বৈঠক হয়েছে। সেখানে কিছু অগ্রগতি হলেও এখনো বড় বড় ইস্যুতে মতভেদ রয়ে গেছে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি। যুক্তরাষ্ট্র চাইছে ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ রাখুক দীর্ঘ সময়ের জন্য। অন্যদিকে ইরান কম সময়ের সীমা চায়।

আরেকটি বড় প্রশ্ন হলো—ইরানের হাতে থাকা উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। যুক্তরাষ্ট্র তা দেশ থেকে সরিয়ে নিতে চায়, কিন্তু ইরান তা নিজ দেশে হ্রাস করতে চায়।

সম্ভাব্য সমঝোতা, না কি নতুন সংঘাত?

দুই পক্ষই হয়তো একটি অন্তর্বর্তী চুক্তিতে যেতে পারে, যেখানে যুদ্ধ বন্ধ থাকবে এবং কিছু অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হবে। এতে ইরান কিছু আর্থিক সুবিধা পেতে পারে।

তবে এটি স্থায়ী সমাধান নয়। বরং সময় কিনে নেওয়ার মতো একটি পদক্ষেপ। কারণ মূল সমস্যাগুলো এখনো অমীমাংসিত।

অন্যদিকে, যদি আলোচনা ব্যর্থ হয়, তাহলে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে—যা আগের চেয়ে আরও ভয়াবহ হতে পারে।

Removing Iran's Enriched Uranium Would Be Difficult—But It Has Been Done  Before - WSJ

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারতের কৌশলগত স্বাধীনতার পরের পরীক্ষা: নেতৃত্ব কি নির্ভরতার বদলে পারস্পরিক সমৃদ্ধি আনবে?

হরমুজে অবরোধ, যুদ্ধবিরতির পরও অনিশ্চয়তা: যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা কি আদৌ সম্ভব?

১২:৪২:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

যুদ্ধ থেমেছে, কিন্তু শান্তি এখনো দূরের স্বপ্ন—এমন এক জটিল বাস্তবতার মধ্যেই দাঁড়িয়ে আছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্ক। দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্থিতিশীল নয়। বরং অর্থনৈতিক চাপ, সামরিক উপস্থিতি এবং কূটনৈতিক টানাপোড়েন মিলিয়ে নতুন এক অনিশ্চিত পর্ব শুরু হয়েছে। সারাক্ষণ রিপোর্ট

যুদ্ধবিরতি, কিন্তু থেমে নেই চাপ

এপ্রিলের শুরুতে দুই দেশ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও হরমুজ প্রণালী এখনো কার্যত বাণিজ্যিক চলাচলের জন্য বন্ধ। এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে অবরোধের ফলে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে চাপ বাড়ছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জাহাজ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে, যা কার্যত একটি সামুদ্রিক অবরোধে পরিণত হয়েছে।

ইরানও পাল্টা অবস্থান নিয়েছে। তারা সংকেত দিচ্ছে যে, প্রয়োজন হলে বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থাকেই চাপে ফেলতে পারে। ফলে দুই পক্ষই অর্থনৈতিক শক্তিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে।

ধর্ষণের দায়ে দোষী ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করল ইরান | আন্তর্জাতিক |  বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)

ইরানের অর্থনীতি চাপে

ইরানের অর্থনীতি আগেই সংকটে ছিল। মুদ্রার অবমূল্যায়ন, ৫০ শতাংশের বেশি মূল্যস্ফীতি এবং যুদ্ধজনিত ক্ষয়ক্ষতি—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি নাজুক। এখন যদি তেল রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তাদের উৎপাদন কমাতে বা বন্ধ করতে হতে পারে। এতে দীর্ঘমেয়াদে তেলক্ষেত্রও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

খাদ্য সরবরাহেও চাপ বাড়ছে। আমদানি নির্ভর সয়াবিনের সরবরাহ ব্যাহত হলে খাদ্যপণ্যের দাম আরও বাড়তে পারে, যা সাধারণ মানুষের জীবনে বড় প্রভাব ফেলবে।

বৈশ্বিক বাজারেও প্রভাব

এই সংঘাত শুধু দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট তীব্র হচ্ছে। তেলের দাম বাড়ছে, পরিবহন খরচ বাড়ছে, আর সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ও বাড়ছে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রেও জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় মূল্যস্ফীতি আবার বাড়তির দিকে।

উপসাগরীয় দেশগুলো প্রথমে এই অবরোধকে সমর্থন করলেও তারাও এখন ক্ষতির মুখে পড়ছে। রপ্তানি কমে যাওয়ায় প্রতিদিন বিপুল অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে।

আলোচনায় অগ্রগতি, কিন্তু দ্বিধা

Talks: Iran suspects negotiations could be a trap for surprise attack

যুদ্ধবিরতির পর পাকিস্তানের ইসলামাবাদে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে দীর্ঘ বৈঠক হয়েছে। সেখানে কিছু অগ্রগতি হলেও এখনো বড় বড় ইস্যুতে মতভেদ রয়ে গেছে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি। যুক্তরাষ্ট্র চাইছে ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ রাখুক দীর্ঘ সময়ের জন্য। অন্যদিকে ইরান কম সময়ের সীমা চায়।

আরেকটি বড় প্রশ্ন হলো—ইরানের হাতে থাকা উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। যুক্তরাষ্ট্র তা দেশ থেকে সরিয়ে নিতে চায়, কিন্তু ইরান তা নিজ দেশে হ্রাস করতে চায়।

সম্ভাব্য সমঝোতা, না কি নতুন সংঘাত?

দুই পক্ষই হয়তো একটি অন্তর্বর্তী চুক্তিতে যেতে পারে, যেখানে যুদ্ধ বন্ধ থাকবে এবং কিছু অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হবে। এতে ইরান কিছু আর্থিক সুবিধা পেতে পারে।

তবে এটি স্থায়ী সমাধান নয়। বরং সময় কিনে নেওয়ার মতো একটি পদক্ষেপ। কারণ মূল সমস্যাগুলো এখনো অমীমাংসিত।

অন্যদিকে, যদি আলোচনা ব্যর্থ হয়, তাহলে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে—যা আগের চেয়ে আরও ভয়াবহ হতে পারে।

Removing Iran's Enriched Uranium Would Be Difficult—But It Has Been Done  Before - WSJ