আফ্রিকার অর্থনীতি ও ব্যবসা নিয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া দীর্ঘদিন ধরেই বড় চ্যালেঞ্জ। অনেক ক্ষেত্রে একটি প্রতিষ্ঠানের মালিকানা কাঠামো, আর্থিক তথ্য বা বাজারসংক্রান্ত উপাত্ত সংগ্রহ করতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় ব্যয় করতে হয়। এই বাস্তবতায় নাইজেরিয়ার তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক প্রতিষ্ঠান স্টিয়ার্স নিজেকে আফ্রিকার ‘ব্লুমবার্গ’ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।
প্রতিষ্ঠানটির দাবি, তারা এমন সব তথ্য সংগ্রহ করছে যা সাধারণভাবে সহজলভ্য নয়। ফলে আফ্রিকার বাজার সম্পর্কে আগ্রহী আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে স্টিয়ার্স ধীরে ধীরে গুরুত্বপূর্ণ একটি নাম হয়ে উঠছে।
তথ্যের ঘাটতি, বিনিয়োগের বাধা
আফ্রিকার অনেক দেশে করপোরেট তথ্য সংগ্রহ এখনও জটিল ও সময়সাপেক্ষ। কোনো প্রতিষ্ঠানের হালনাগাদ তথ্য পেতে কখনও সরকারি দপ্তরে যেতে হয়, কখনও পুরোনো নথিপত্র ঘাঁটতে হয়। এই সীমাবদ্ধতার কারণে বহু বিদেশি বিনিয়োগকারী আফ্রিকার বাজার সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পান না।
বিশ্লেষকদের মতে, তথ্যপ্রাপ্তির এই দুর্বল অবকাঠামোই আফ্রিকায় বৈদেশিক বিনিয়োগ প্রবাহকে সীমিত রাখার অন্যতম কারণ। বিশ্বের মোট বৈদেশিক প্রত্যক্ষ বিনিয়োগের তুলনায় আফ্রিকার অংশ এখনও খুবই কম।
শিক্ষার্থী জীবন থেকে শুরু
স্টিয়ার্সের সহপ্রতিষ্ঠাতারা লন্ডনে পড়াশোনার সময় এই উদ্যোগের ধারণা তৈরি করেন। শুরুতে তারা সংবাদ ও তথ্যভিত্তিক একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। তবে পরে তারা বুঝতে পারেন যে কেবল সংবাদভিত্তিক মডেল টেকসই হবে না।
এরপর প্রতিষ্ঠানটি পুরোপুরি আর্থিক তথ্য, বাজার বিশ্লেষণ এবং গবেষণাভিত্তিক সেবার দিকে মনোযোগ দেয়। সেই সিদ্ধান্তই আজ তাদের দ্রুত সম্প্রসারণের ভিত্তি তৈরি করেছে।
তথ্য সংগ্রহে ব্যতিক্রমী কৌশল
স্টিয়ার্সের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তথ্য সংগ্রহের অভিনব পদ্ধতি। প্রতিষ্ঠানটির গবেষক ও বিশ্লেষকেরা বিভিন্ন উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ করেন। কখনও উদ্যোক্তাদের সাক্ষাৎকার বা আলোচনায় পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়, কখনও সরকারি তথ্যভান্ডার থেকে দীর্ঘ সময়ের উপাত্ত উদ্ধার করা হয়।
বিভিন্ন দেশের সরকারি নথি ও তথ্যভান্ডারে প্রবেশাধিকার পেতে প্রতিষ্ঠানটি স্থানীয় পর্যায়েও কাজ করেছে। এসব প্রচেষ্টার ফলে তারা আফ্রিকার বিভিন্ন খাত সম্পর্কে বিস্তৃত তথ্যভান্ডার গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে।

বড় গ্রাহক, বাড়ছে আয়
স্টিয়ার্স শুধু তথ্য বিক্রি করে না, বরং নির্দিষ্ট গ্রাহকদের জন্য বিশেষ গবেষণা ও বিশ্লেষণও প্রস্তুত করে। বেসরকারি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সংস্থা এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা তাদের গ্রাহক তালিকায় রয়েছে।
এই গবেষণা প্রকল্পগুলো থেকে উল্লেখযোগ্য আয় আসে। পাশাপাশি সংগৃহীত তথ্য তাদের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেও যুক্ত করা হয়, যা গ্রাহকেরা বার্ষিক সদস্যপদের মাধ্যমে ব্যবহার করেন।
গত কয়েক বছরে বিদেশি গ্রাহকদের সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে। বিশেষ করে ডলারভিত্তিক আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিষ্ঠানটির গ্রহণযোগ্যতার ইঙ্গিত দেয়।
আফ্রিকার জন্য নিজস্ব তথ্য প্ল্যাটফর্ম
বিশ্বের বড় আর্থিক তথ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর নজর এখনও আফ্রিকার ওপর তুলনামূলকভাবে কম। কারণ বৈশ্বিক আর্থিক প্রবাহে মহাদেশটির অংশ এখনও সীমিত।
তবে স্টিয়ার্স বিশ্বাস করে, আফ্রিকার অর্থনীতি যত বড় হবে, তত বাড়বে নির্ভরযোগ্য তথ্যের চাহিদা। সেই সুযোগকে সামনে রেখে প্রতিষ্ঠানটি এমন একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে চায়, যা আফ্রিকায় বিনিয়োগ করতে আগ্রহীদের জন্য অপরিহার্য হয়ে উঠবে।
আফ্রিকার আর্থিক তথ্য ও বাজার বিশ্লেষণে শূন্যতা পূরণের এই প্রচেষ্টা সফল হলে স্টিয়ার্স ভবিষ্যতে মহাদেশটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তথ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হতে পারে।
আফ্রিকার বাজার নিয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্যসেবা প্রতিষ্ঠান স্টিয়ার্স দ্রুত বিস্তার ঘটাচ্ছে। আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে বাড়ছে এর গুরুত্ব।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















