০৬:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
লালমনিরহাটে ১০ বছরের বাক্‌প্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণ, আসামির যাবজ্জীবন বাসের পর এবার বাড়ল লঞ্চের ভাড়া ১১ শিশুর মৃত্যুতে হাম পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক, মৃতের সংখ্যা ছাড়াল ১ হাজার ট্রাম্প-জেলেনস্কি বৈঠকের পরই কিয়েভে রাশিয়ার ভয়াবহ ড্রোন হামলা, নিহত ২ ইমরান খানের দলের মিছিল ঘিরে পাকিস্তানে কঠোর নিরাপত্তা, বন্ধ মহাসড়ক থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ায় মিয়ানমার শরণার্থীদের আতঙ্ক, ফেরার ভয়ে দিন কাটছে মালয়েশিয়া থেকে ৫ হাজার রোহিঙ্গা ফেরত, ২৯ সেপ্টেম্বর প্রথম দল জাতীয় পতাকা: আবেগের প্রতীক থেকে আন্তর্জাতিক আইনের প্রশ্ন ডিজেলের দামে রেকর্ড, বিশ্বজুড়ে সরবরাহ সংকট আরও গভীর ইয়েমেনে পাহাড় দখলের লড়াই, লোহিত সাগরের নৌপথে নতুন শঙ্কা

চাপ নয়, শাসনেই ভরসা: মালির বিস্তীর্ণ অঞ্চলে কৌশল বদলেছে জঙ্গিগোষ্ঠী

পশ্চিম আফ্রিকার দেশ মালিতে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় আল-কায়েদা-ঘনিষ্ঠ জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোর আচরণে বড় ধরনের পরিবর্তনের কথা উঠে এসেছে। একসময় ভয়, হুমকি ও সহিংসতার মাধ্যমে নিজেদের প্রভাব বিস্তার করা এসব গোষ্ঠী এখন অনেক এলাকায় তুলনামূলক নমনীয় আচরণ করছে এবং স্থানীয় জনগণের কাছে নিজেদের গ্রহণযোগ্য করে তুলতে প্রশাসনিক ভূমিকাও পালন করছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের বর্ণনা অনুযায়ী, আগে যেখানে ধর্মীয় ব্যাখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তুললেই কঠোর শাস্তি বা প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হতো, এখন সেখানে একই গোষ্ঠী নিয়মিত সভা করে কৃষি ও পশুপালন থেকে কর সংগ্রহ করছে, আবার দরিদ্রদের মধ্যে খাদ্য, ওষুধ ও গবাদিপশুও বিতরণ করছে।

শক্তি বাড়ার সঙ্গে বদলেছে কৌশল

মালির বিভিন্ন অঞ্চলে সক্রিয় জামাআত নুসরাত আল-ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন নামের সংগঠনটি গত এক দশকে ভয়ভীতি ও সশস্ত্র শক্তির মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান গড়ে তোলে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে যেসব এলাকায় তাদের নিয়ন্ত্রণ সুসংহত হয়েছে, সেখানে তারা তুলনামূলক শান্তিপূর্ণ শাসনের চিত্র তুলে ধরতে চাইছে।

স্থানীয়দের মতে, সংগঠনটির সদস্যরা এখন ভূমি বিরোধ মীমাংসা করছে, সামাজিক সমস্যা সমাধানে ভূমিকা রাখছে এবং কিছু এলাকায় সাধারণ মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করছে। ফলে অনেক মানুষ তাদের উপস্থিতিকে নতুন বাস্তবতা হিসেবে মেনে নিতে শুরু করেছে।

রাজনৈতিক বৈধতার খোঁজ

বিশ্লেষকদের মতে, জঙ্গিগোষ্ঠীটি শুধু সামরিক শক্তি নয়, রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতাও অর্জন করতে চাইছে। তারা নিজেদের এমন একটি শক্তি হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে, যারা নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল পরিচালনা করতে সক্ষম।

সাম্প্রতিক সময়ে সংগঠনটির বার্তায়ও পরিবর্তন দেখা গেছে। তারা এখন শুধু ধর্মীয় বক্তব্য নয়, জাতীয় ঐক্য, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থা নিয়েও কথা বলছে। এ কারণে কিছু পর্যবেক্ষক মনে করছেন, ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সমীকরণে নিজেদের জন্য জায়গা তৈরি করাই তাদের অন্যতম লক্ষ্য।

সব জায়গায় একই চিত্র নয়

তবে এই পরিবর্তনকে সম্পূর্ণ ইতিবাচক হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বিভিন্ন এলাকায় এখনও সহিংস হামলা, হত্যাকাণ্ড এবং অবরোধের অভিযোগ রয়েছে। কোথাও কোথাও খাদ্য ও ওষুধের সংকট তৈরি হয়েছে, যার ফলে সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছে।

অনেক গ্রামবাসী জানিয়েছেন, জঙ্গিগোষ্ঠীর শাসন কঠোর হলেও তা কিছু ক্ষেত্রে পূর্বের সংঘাত ও অনিশ্চয়তার তুলনায় বেশি পূর্বানুমানযোগ্য। আবার অনেকে মনে করেন, ভয় এবং বেঁচে থাকার প্রয়োজনই মানুষকে এই পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে বাধ্য করেছে।

নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

স্থানীয়দের একটি অংশের অভিযোগ, সরকারি বাহিনী ও তাদের সহযোগী গোষ্ঠীগুলোর কিছু অভিযানে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে অনেক তরুণ হতাশ হয়ে জঙ্গিগোষ্ঠীর দিকে ঝুঁকেছে।

এ পরিস্থিতি মালির নিরাপত্তা সংকটকে আরও জটিল করে তুলেছে। একদিকে জঙ্গিগোষ্ঠীগুলো নিজেদের নতুন রূপে উপস্থাপন করার চেষ্টা করছে, অন্যদিকে দেশটির রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্ব তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের সংলাপে আগ্রহ দেখাচ্ছে না।

সামনে কী?

বিশেষজ্ঞদের মতে, মালির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে শুধু সামরিক সমাধান যথেষ্ট নাও হতে পারে। যেসব অঞ্চলে জঙ্গিগোষ্ঠীগুলো দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তার করেছে, সেখানে সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

বর্তমানে দেশটির বিস্তীর্ণ এলাকায় যে পরিবর্তিত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা পশ্চিম আফ্রিকার নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

লালমনিরহাটে ১০ বছরের বাক্‌প্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণ, আসামির যাবজ্জীবন

চাপ নয়, শাসনেই ভরসা: মালির বিস্তীর্ণ অঞ্চলে কৌশল বদলেছে জঙ্গিগোষ্ঠী

০৫:৩২:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

পশ্চিম আফ্রিকার দেশ মালিতে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় আল-কায়েদা-ঘনিষ্ঠ জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোর আচরণে বড় ধরনের পরিবর্তনের কথা উঠে এসেছে। একসময় ভয়, হুমকি ও সহিংসতার মাধ্যমে নিজেদের প্রভাব বিস্তার করা এসব গোষ্ঠী এখন অনেক এলাকায় তুলনামূলক নমনীয় আচরণ করছে এবং স্থানীয় জনগণের কাছে নিজেদের গ্রহণযোগ্য করে তুলতে প্রশাসনিক ভূমিকাও পালন করছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের বর্ণনা অনুযায়ী, আগে যেখানে ধর্মীয় ব্যাখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তুললেই কঠোর শাস্তি বা প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হতো, এখন সেখানে একই গোষ্ঠী নিয়মিত সভা করে কৃষি ও পশুপালন থেকে কর সংগ্রহ করছে, আবার দরিদ্রদের মধ্যে খাদ্য, ওষুধ ও গবাদিপশুও বিতরণ করছে।

শক্তি বাড়ার সঙ্গে বদলেছে কৌশল

মালির বিভিন্ন অঞ্চলে সক্রিয় জামাআত নুসরাত আল-ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন নামের সংগঠনটি গত এক দশকে ভয়ভীতি ও সশস্ত্র শক্তির মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান গড়ে তোলে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে যেসব এলাকায় তাদের নিয়ন্ত্রণ সুসংহত হয়েছে, সেখানে তারা তুলনামূলক শান্তিপূর্ণ শাসনের চিত্র তুলে ধরতে চাইছে।

স্থানীয়দের মতে, সংগঠনটির সদস্যরা এখন ভূমি বিরোধ মীমাংসা করছে, সামাজিক সমস্যা সমাধানে ভূমিকা রাখছে এবং কিছু এলাকায় সাধারণ মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করছে। ফলে অনেক মানুষ তাদের উপস্থিতিকে নতুন বাস্তবতা হিসেবে মেনে নিতে শুরু করেছে।

রাজনৈতিক বৈধতার খোঁজ

বিশ্লেষকদের মতে, জঙ্গিগোষ্ঠীটি শুধু সামরিক শক্তি নয়, রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতাও অর্জন করতে চাইছে। তারা নিজেদের এমন একটি শক্তি হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে, যারা নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল পরিচালনা করতে সক্ষম।

সাম্প্রতিক সময়ে সংগঠনটির বার্তায়ও পরিবর্তন দেখা গেছে। তারা এখন শুধু ধর্মীয় বক্তব্য নয়, জাতীয় ঐক্য, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থা নিয়েও কথা বলছে। এ কারণে কিছু পর্যবেক্ষক মনে করছেন, ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সমীকরণে নিজেদের জন্য জায়গা তৈরি করাই তাদের অন্যতম লক্ষ্য।

সব জায়গায় একই চিত্র নয়

তবে এই পরিবর্তনকে সম্পূর্ণ ইতিবাচক হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বিভিন্ন এলাকায় এখনও সহিংস হামলা, হত্যাকাণ্ড এবং অবরোধের অভিযোগ রয়েছে। কোথাও কোথাও খাদ্য ও ওষুধের সংকট তৈরি হয়েছে, যার ফলে সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছে।

অনেক গ্রামবাসী জানিয়েছেন, জঙ্গিগোষ্ঠীর শাসন কঠোর হলেও তা কিছু ক্ষেত্রে পূর্বের সংঘাত ও অনিশ্চয়তার তুলনায় বেশি পূর্বানুমানযোগ্য। আবার অনেকে মনে করেন, ভয় এবং বেঁচে থাকার প্রয়োজনই মানুষকে এই পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে বাধ্য করেছে।

নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

স্থানীয়দের একটি অংশের অভিযোগ, সরকারি বাহিনী ও তাদের সহযোগী গোষ্ঠীগুলোর কিছু অভিযানে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে অনেক তরুণ হতাশ হয়ে জঙ্গিগোষ্ঠীর দিকে ঝুঁকেছে।

এ পরিস্থিতি মালির নিরাপত্তা সংকটকে আরও জটিল করে তুলেছে। একদিকে জঙ্গিগোষ্ঠীগুলো নিজেদের নতুন রূপে উপস্থাপন করার চেষ্টা করছে, অন্যদিকে দেশটির রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্ব তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের সংলাপে আগ্রহ দেখাচ্ছে না।

সামনে কী?

বিশেষজ্ঞদের মতে, মালির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে শুধু সামরিক সমাধান যথেষ্ট নাও হতে পারে। যেসব অঞ্চলে জঙ্গিগোষ্ঠীগুলো দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তার করেছে, সেখানে সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

বর্তমানে দেশটির বিস্তীর্ণ এলাকায় যে পরিবর্তিত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা পশ্চিম আফ্রিকার নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।