০৪:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
হামে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু, এখন পর্যন্ত মারা গেছে ২৩৩ জন ফ্লু ভ্যাকসিন থেকে ডায়াবেটিসের ওষুধ—ডিমেনশিয়া ঝুঁকি কমাতে নতুন আশার ইঙ্গিত বিদ্যুৎ সংকট ‘সহনীয় সীমা ছাড়িয়ে গেছে’, ঘাটতি তিন হাজার মেগাওয়াট: বিদ্যুৎ বিভাগ যুদ্ধের ধাক্কায় ডিজেলের দামে আগুন, পেট্রলকে ছাপিয়ে বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন সংকট রানা প্লাজা ধস: ১৩ বছরেও বিচার মেলেনি, মোমবাতি হাতে সাভারে কাঁদলেন বেঁচে থাকা শ্রমিকেরা ইন্দোনেশিয়ার তরুণদের পছন্দে বড় পরিবর্তন: মার্কিন ব্র্যান্ড ছেড়ে চীনা পণ্যের দিকে ঝুঁকছে নতুন প্রজন্ম ফ্লোরিডায় নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থীকে ‘বিপদগ্রস্ত’ ঘোষণা করল মার্কিন পুলিশ রেকর্ড ভোটে উত্তাল বাংলা, কিন্তু ভোটার কমেছে ১২%—এসআইআরের ছায়ায় নতুন সমীকরণ ভার্জিনিয়ায় নতুন নির্বাচনী মানচিত্রে জয়, কংগ্রেস দখলে ডেমোক্র্যাটদের ‘কঠোর কৌশল’ স্পষ্ট মুর্শিদাবাদে নাম কাটার আতঙ্কে রেকর্ড ভোট, দীর্ঘ লাইনে ভরসা খুঁজলেন মানুষ

পুঁজিবাদের সংকট থেকে উত্তরণ: কেইনসের ধারণায় বদলে যাওয়া অর্থনীতির পথ

দুই শতাব্দীর বেশি আগে আমেরিকার অর্থনীতি ছিল মূলত কৃষিনির্ভর, যেখানে প্রাকৃতিক প্রভাব থাকলেও বড় ধরনের অর্থনৈতিক ওঠানামা ছিল না। কিন্তু উনিশ শতকে পুঁজিবাদের বিস্তার ঘটার পরই শুরু হয় গভীর অর্থনৈতিক চক্র, যার সবচেয়ে ভয়াবহ উদাহরণ ১৯৩০-এর মহামন্দা ও ২০০৮ সালের বৈশ্বিক মন্দা। এই অস্থিরতার মধ্যেই অর্থনীতিবিদ জন মেনার্ড কেইনস এমন এক ধারণা তুলে ধরেন, যা পুঁজিবাদী ব্যবস্থাকেই নতুনভাবে বাঁচার পথ দেখায়।

কেন প্রয়োজন হয়েছিল নতুন ভাবনার

মহামন্দার সময় যুক্তরাষ্ট্রে বেকারত্ব প্রায় ২৫ শতাংশে পৌঁছেছিল। সেই সময় অনেক অর্থনীতিবিদ বিশ্বাস করতেন, বাজার নিজেই একসময় ভারসাম্যে ফিরে আসবে। কিন্তু কেইনস যুক্তি দেন, এই অপেক্ষা মানুষের জন্য ভয়াবহ কষ্ট ডেকে আনবে। তাঁর বিখ্যাত মন্তব্য—দীর্ঘমেয়াদে আমরা সবাই মৃত—এই বাস্তবতাকেই তুলে ধরে।

সরকারি হস্তক্ষেপের নতুন দর্শন

Liquidity Trap Defined: A Keynesian Economics Concept

১৯৩৬ সালে প্রকাশিত তাঁর গ্রন্থে কেইনস দেখান, বাজার সবসময় নিজে নিজে স্থিতিশীল হতে পারে না। বিশেষ করে বড় ধরনের মন্দায় শুধু মুদ্রানীতি যথেষ্ট নয়। তিনি বলেন, সরকার যদি সরাসরি ব্যয় বাড়িয়ে চাহিদা তৈরি করে, তাহলে অর্থনীতি দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে পারে। এই ধারণাই অর্থনীতিতে এক বড় বিপ্লব তৈরি করে।

রুজভেল্টের পদক্ষেপ ও বাস্তব প্রয়োগ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ফ্র্যাঙ্কলিন রুজভেল্ট কেইনসের তত্ত্ব পুরোপুরি প্রণীত হওয়ার আগেই নানা পদক্ষেপ নেন। তাঁর উদ্যোগে সরকারি ব্যয় বাড়ানো হয়, যা অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পরে এই নীতিই বিভিন্ন সময়ে অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় কার্যকর প্রমাণিত হয়।

বিরোধিতা ও রাজনৈতিক বিতর্ক

কেইনসের ধারণা অনেকের কাছে সন্দেহের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কারণ এটি সরকারের ভূমিকা বাড়ানোর পক্ষে যুক্তি দেয়। রক্ষণশীল মহলের আশঙ্কা ছিল, এর ফলে কর বৃদ্ধি ও সামাজিক সুবিধা সম্প্রসারণ ঘটতে পারে। তবুও সময়ের সঙ্গে দেখা গেছে, এই নীতিই অর্থনীতিকে দীর্ঘমেয়াদি বিপর্যয় থেকে রক্ষা করেছে।

Inflation in the United Kingdom: History, Theory, and Policy

পরবর্তী দশকগুলোর অভিজ্ঞতা

সত্তরের দশকে মূল্যস্ফীতি বাড়ার পর কেইনসীয় নীতির সমালোচনা বাড়ে এবং সরবরাহভিত্তিক নীতির দিকে ঝোঁক দেখা যায়। কর কমানো ও নিয়ন্ত্রণ শিথিল করলে প্রবৃদ্ধি বাড়বে—এমন ধারণা দেওয়া হলেও বাস্তবে তা প্রত্যাশিত ফল দেয়নি। বরং বাজেট ঘাটতি বেড়েছে এবং প্রবৃদ্ধি সীমিতই থেকেছে।

আধুনিক সময়ে প্রাসঙ্গিকতা

২০০৮ সালের মন্দা এবং সাম্প্রতিক মহামারির সময় আবারও প্রমাণ হয়েছে, সরকারি ব্যয় অর্থনীতিকে দ্রুত পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবুও এই নীতিকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক আজও শেষ হয়নি।

উপসংহার

কেইনস কোনো বিপ্লব চাননি, তিনি চেয়েছিলেন পুঁজিবাদকে টিকিয়ে রাখতে ছোট একটি সংশোধন। কিন্তু সেই সংশোধনই সময়ের সঙ্গে হয়ে উঠেছে অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি। তাঁর ধারণা না থাকলে পুঁজিবাদ হয়তো এতদিন টিকেই থাকত না।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

হামে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু, এখন পর্যন্ত মারা গেছে ২৩৩ জন

পুঁজিবাদের সংকট থেকে উত্তরণ: কেইনসের ধারণায় বদলে যাওয়া অর্থনীতির পথ

১২:২৯:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

দুই শতাব্দীর বেশি আগে আমেরিকার অর্থনীতি ছিল মূলত কৃষিনির্ভর, যেখানে প্রাকৃতিক প্রভাব থাকলেও বড় ধরনের অর্থনৈতিক ওঠানামা ছিল না। কিন্তু উনিশ শতকে পুঁজিবাদের বিস্তার ঘটার পরই শুরু হয় গভীর অর্থনৈতিক চক্র, যার সবচেয়ে ভয়াবহ উদাহরণ ১৯৩০-এর মহামন্দা ও ২০০৮ সালের বৈশ্বিক মন্দা। এই অস্থিরতার মধ্যেই অর্থনীতিবিদ জন মেনার্ড কেইনস এমন এক ধারণা তুলে ধরেন, যা পুঁজিবাদী ব্যবস্থাকেই নতুনভাবে বাঁচার পথ দেখায়।

কেন প্রয়োজন হয়েছিল নতুন ভাবনার

মহামন্দার সময় যুক্তরাষ্ট্রে বেকারত্ব প্রায় ২৫ শতাংশে পৌঁছেছিল। সেই সময় অনেক অর্থনীতিবিদ বিশ্বাস করতেন, বাজার নিজেই একসময় ভারসাম্যে ফিরে আসবে। কিন্তু কেইনস যুক্তি দেন, এই অপেক্ষা মানুষের জন্য ভয়াবহ কষ্ট ডেকে আনবে। তাঁর বিখ্যাত মন্তব্য—দীর্ঘমেয়াদে আমরা সবাই মৃত—এই বাস্তবতাকেই তুলে ধরে।

সরকারি হস্তক্ষেপের নতুন দর্শন

Liquidity Trap Defined: A Keynesian Economics Concept

১৯৩৬ সালে প্রকাশিত তাঁর গ্রন্থে কেইনস দেখান, বাজার সবসময় নিজে নিজে স্থিতিশীল হতে পারে না। বিশেষ করে বড় ধরনের মন্দায় শুধু মুদ্রানীতি যথেষ্ট নয়। তিনি বলেন, সরকার যদি সরাসরি ব্যয় বাড়িয়ে চাহিদা তৈরি করে, তাহলে অর্থনীতি দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে পারে। এই ধারণাই অর্থনীতিতে এক বড় বিপ্লব তৈরি করে।

রুজভেল্টের পদক্ষেপ ও বাস্তব প্রয়োগ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ফ্র্যাঙ্কলিন রুজভেল্ট কেইনসের তত্ত্ব পুরোপুরি প্রণীত হওয়ার আগেই নানা পদক্ষেপ নেন। তাঁর উদ্যোগে সরকারি ব্যয় বাড়ানো হয়, যা অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পরে এই নীতিই বিভিন্ন সময়ে অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় কার্যকর প্রমাণিত হয়।

বিরোধিতা ও রাজনৈতিক বিতর্ক

কেইনসের ধারণা অনেকের কাছে সন্দেহের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কারণ এটি সরকারের ভূমিকা বাড়ানোর পক্ষে যুক্তি দেয়। রক্ষণশীল মহলের আশঙ্কা ছিল, এর ফলে কর বৃদ্ধি ও সামাজিক সুবিধা সম্প্রসারণ ঘটতে পারে। তবুও সময়ের সঙ্গে দেখা গেছে, এই নীতিই অর্থনীতিকে দীর্ঘমেয়াদি বিপর্যয় থেকে রক্ষা করেছে।

Inflation in the United Kingdom: History, Theory, and Policy

পরবর্তী দশকগুলোর অভিজ্ঞতা

সত্তরের দশকে মূল্যস্ফীতি বাড়ার পর কেইনসীয় নীতির সমালোচনা বাড়ে এবং সরবরাহভিত্তিক নীতির দিকে ঝোঁক দেখা যায়। কর কমানো ও নিয়ন্ত্রণ শিথিল করলে প্রবৃদ্ধি বাড়বে—এমন ধারণা দেওয়া হলেও বাস্তবে তা প্রত্যাশিত ফল দেয়নি। বরং বাজেট ঘাটতি বেড়েছে এবং প্রবৃদ্ধি সীমিতই থেকেছে।

আধুনিক সময়ে প্রাসঙ্গিকতা

২০০৮ সালের মন্দা এবং সাম্প্রতিক মহামারির সময় আবারও প্রমাণ হয়েছে, সরকারি ব্যয় অর্থনীতিকে দ্রুত পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবুও এই নীতিকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক আজও শেষ হয়নি।

উপসংহার

কেইনস কোনো বিপ্লব চাননি, তিনি চেয়েছিলেন পুঁজিবাদকে টিকিয়ে রাখতে ছোট একটি সংশোধন। কিন্তু সেই সংশোধনই সময়ের সঙ্গে হয়ে উঠেছে অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি। তাঁর ধারণা না থাকলে পুঁজিবাদ হয়তো এতদিন টিকেই থাকত না।