পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাতের সরাসরি প্রভাব পড়েছে ভারতের জ্বালানি খাতে। মার্চ মাসে দেশটির অপরিশোধিত তেল আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, পাশাপাশি এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রিতেও বড় ধাক্কা লেগেছে। সরকারি প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, জ্বালানি ব্যবহারের ধরনেও পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে।
অপরিশোধিত তেল আমদানিতে বড় পতন
পেট্রোলিয়াম পরিকল্পনা ও বিশ্লেষণ সেলের প্রাথমিক তথ্য বলছে, মার্চ মাসে ভারত প্রায় ১৮.৯ মিলিয়ন টন অপরিশোধিত তেল আমদানি করেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের ২২.৮ মিলিয়ন টনের তুলনায় প্রায় ১৭% কম।
এই হ্রাসের কারণে আমদানি ব্যয়ও কমেছে। মার্চে অপরিশোধিত তেলের জন্য ব্যয় হয়েছে প্রায় ১১.৭ বিলিয়ন ডলার, যেখানে আগের বছর একই সময়ে ব্যয় ছিল ১২.৩ বিলিয়ন ডলার।
তবে তেল ও গ্যাস মিলিয়ে মোট আমদানি ব্যয় প্রায় একই অবস্থায় রয়েছে। মার্চে এই ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ১১ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের ১১.৩ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় সামান্য কম।

তেলের দামে অস্বাভাবিক বৃদ্ধি
মার্চ মাসে ভারতের গড় অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৩.৪৯ ডলারে পৌঁছায়, যা ফেব্রুয়ারির গড় ৬৯.০১ ডলারের তুলনায় অনেক বেশি। এই মূল্যবৃদ্ধি আমদানি কমে যাওয়ার একটি বড় কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এলপিজি ব্যবহারে উল্লেখযোগ্য হ্রাস
মার্চ মাসে এলপিজি ব্যবহার দাঁড়িয়েছে ২.৩৭৯ মিলিয়ন টনে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১২.৮% কম।
এর মধ্যে গৃহস্থালি ব্যবহারের জন্য এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি কমেছে ৮.১% হয়ে ২.২১৯ মিলিয়ন টনে নেমে এসেছে।
অন্যদিকে বাণিজ্যিক বা অ-গৃহস্থালি ব্যবহারের জন্য এলপিজি বিক্রি প্রায় ৪৮% কমেছে, যা বড় ধরনের পতন নির্দেশ করে।
বাল্ক এলপিজি বিক্রি আরও বেশি কমে প্রায় ৭৫.৫% হ্রাস পেয়েছে।
পাইপলাইনের গ্যাসে ঝোঁক ও এলএনজি আমদানি বৃদ্ধি
এলপিজির উপর চাপ কমাতে ভারত সরকার পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহারে জোর দিচ্ছে। এর ফলে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি ২০% এরও বেশি বেড়েছে।

একই সময়ে, মোট প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহারও বেড়ে ৫,৭২৭ মিলিয়ন মেট্রিক স্ট্যান্ডার্ড কিউবিক মিটার হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৭.২% বেশি।
তবে সতর্কতা হিসেবে বলা হয়েছে, এই তথ্যগুলো প্রাথমিক। পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের কারণে এলএনজি আমদানির প্রকৃত পরিমাণ কম হতে পারে, ফলে চূড়ান্ত হিসেবে গ্যাস ব্যবহারের পরিমাণও কমে যেতে পারে।
মোট চিত্র
সব মিলিয়ে, পশ্চিম এশিয়ার অস্থির পরিস্থিতি ভারতের জ্বালানি আমদানি, ব্যয় এবং ব্যবহারের ধরণে বড় পরিবর্তন এনেছে। তেলের দাম বৃদ্ধির চাপ এবং বিকল্প জ্বালানির দিকে ঝোঁক—দুটিই এই পরিবর্তনের প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 

















