উত্তর প্রদেশে আলুর দাম ধসে পড়ায় কেন্দ্রীয় সরকারের নির্ধারিত ক্রয়মূল্য নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন কৃষকরা। তারা বলছেন, ঘোষিত দাম তাদের উৎপাদন খরচের অর্ধেকেরও কম, ফলে চরম লোকসানের মুখে পড়েছেন তারা।
কম দামে ক্রয়ের ঘোষণা, কিন্তু কৃষকদের হতাশা
কেন্দ্রীয় কৃষি মন্ত্রণালয় উত্তর প্রদেশ থেকে ২০ লাখ টন আলু প্রতি কেজি ৬.৫ টাকা দরে কেনার ঘোষণা দেয়। রাজ্যে অকাল বৃষ্টি-সহ নানা কারণে আলুর দাম পড়ে যাওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
রাজ্যের মোট উৎপাদনের প্রায় ১০ শতাংশ কেনার সিদ্ধান্তকে কৃষকরা স্বাগত জানালেও তারা বলছেন, এই দামে তাদের ক্ষতি পোষানো সম্ভব নয়। তাদের দাবি, প্রতি কেজি অন্তত ১২ টাকা দরে আলু কেনা উচিত।
কৃষকদের দাবি ও আগের আবেদন

ভারতীয় কিষান ইউনিয়নের নেতা রাকেশ টিকায়েত মার্চের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি দিয়ে আলুচাষিদের সংকট তুলে ধরেন। তিনি প্রতি কেজি অন্তত ১৫ টাকা সহায়ক মূল্য নির্ধারণের দাবি জানান। পাশাপাশি আলু উৎপাদন অঞ্চলে প্রক্রিয়াজাতকরণ ও মূল্য সংযোজন শিল্প গড়ে তোলারও আহ্বান জানান।
উৎপাদন খরচের নিচে বাজারদর
আগ্রা জেলার কৃষক রাজবীর লাওয়ানিয়া জানান, বর্তমানে বাজারে আলুর দাম নেমে এসেছে প্রতি কেজি ২ থেকে ৪ টাকায়। অথচ এক কেজি আলু উৎপাদনে তাদের খরচ পড়ে প্রায় ১২ টাকা।
তার ভাষায়, সামান্য লাভ করতে হলেও প্রতি কেজি ১৫ টাকা দর প্রয়োজন। বর্তমান ঘোষিত দাম তাদের চাহিদার তুলনায় অনেক কম।
ফসল মজুত, সংকট বাড়ছে
কৃষকরা ইতোমধ্যে আলু সংগ্রহ শেষ করে কোল্ড স্টোরেজে সংরক্ষণ করেছেন। এমন পরিস্থিতিতে কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হলে তাদের আর্থিক ক্ষতি আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

কৃষকদের মতে, অন্তত ১২ টাকা দরে যদি উৎপাদনের ১০ শতাংশও সরকার কিনে নেয়, তাহলে তা বড় সহায়তা হবে এবং কৃষকদের আত্মহত্যার মতো চরম পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হতে পারে।
অন্যান্য ফসলেও ক্রয় অনুমোদন
এদিকে, সরকার অন্ধ্র প্রদেশে ছোলা এবং কর্ণাটকে অড়হর ডাল ক্রয়েরও অনুমোদন দিয়েছে, যাতে ওই সব রাজ্যের কৃষকরাও কিছুটা স্বস্তি পান।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 

















