০৪:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
হামে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু, এখন পর্যন্ত মারা গেছে ২৩৩ জন ফ্লু ভ্যাকসিন থেকে ডায়াবেটিসের ওষুধ—ডিমেনশিয়া ঝুঁকি কমাতে নতুন আশার ইঙ্গিত বিদ্যুৎ সংকট ‘সহনীয় সীমা ছাড়িয়ে গেছে’, ঘাটতি তিন হাজার মেগাওয়াট: বিদ্যুৎ বিভাগ যুদ্ধের ধাক্কায় ডিজেলের দামে আগুন, পেট্রলকে ছাপিয়ে বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন সংকট রানা প্লাজা ধস: ১৩ বছরেও বিচার মেলেনি, মোমবাতি হাতে সাভারে কাঁদলেন বেঁচে থাকা শ্রমিকেরা ইন্দোনেশিয়ার তরুণদের পছন্দে বড় পরিবর্তন: মার্কিন ব্র্যান্ড ছেড়ে চীনা পণ্যের দিকে ঝুঁকছে নতুন প্রজন্ম ফ্লোরিডায় নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থীকে ‘বিপদগ্রস্ত’ ঘোষণা করল মার্কিন পুলিশ রেকর্ড ভোটে উত্তাল বাংলা, কিন্তু ভোটার কমেছে ১২%—এসআইআরের ছায়ায় নতুন সমীকরণ ভার্জিনিয়ায় নতুন নির্বাচনী মানচিত্রে জয়, কংগ্রেস দখলে ডেমোক্র্যাটদের ‘কঠোর কৌশল’ স্পষ্ট মুর্শিদাবাদে নাম কাটার আতঙ্কে রেকর্ড ভোট, দীর্ঘ লাইনে ভরসা খুঁজলেন মানুষ

এক্সন, শেভরন, বিপি ও টোটালএনার্জিসের নতুন দৌড়: মধ্যপ্রাচ্যের ঝুঁকি এড়িয়ে বিশ্বজুড়ে তেল অনুসন্ধান বাড়ছে

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও সরবরাহ অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে বিশ্বের বড় তেল কোম্পানিগুলো এখন দ্রুত নতুন তেল ও গ্যাসের উৎস খুঁজে বের করার দিকে ঝুঁকছে। যুদ্ধের ঝুঁকি এড়িয়ে আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকা ও ভূমধ্যসাগরের নতুন অঞ্চলে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে তারা, যাতে ভবিষ্যতের জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা যায় এবং লাভ ধরে রাখা সম্ভব হয়।

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও বৈশ্বিক তেলবাজারে চাপ
ইরানের হামলা, অবকাঠামো ক্ষতি এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে জাহাজ চলাচলে বাধার কারণে বিশ্বজুড়ে তেল সরবরাহে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীতে অস্থিরতা বিশ্বব্যাপী তেল ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ সরবরাহে প্রভাব ফেলেছে। এর ফলে তেলের দাম বেড়ে গেলেও অনেক কোম্পানি বিপুল ক্ষতির মুখে পড়েছে।

বড় তেল কোম্পানিগুলোর কৌশলগত পরিবর্তন
এক্সন, শেভরন, বিপি ও টোটালএনার্জিস এখন তাদের বিনিয়োগ কৌশল বদলাচ্ছে। তারা মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে নতুন তেলক্ষেত্র খুঁজছে। নাইজেরিয়ার গভীর সমুদ্র, ভেনেজুয়েলা, নামিবিয়া, তুরস্কসহ বিভিন্ন অঞ্চলে নতুন অনুসন্ধান কার্যক্রম চলছে। ধারণা করা হচ্ছে, এসব নতুন প্রকল্প থেকে ভবিষ্যতে শত শত বিলিয়ন ডলারের সম্পদ সৃষ্টি হতে পারে।

তেলের উচ্চ দাম নতুন বিনিয়োগে প্রণোদনা
যুদ্ধের কারণে তেলের দাম বাড়ায় কোম্পানিগুলোর হাতে এখন বেশি অর্থ এসেছে। আগে যেখানে শেয়ারহোল্ডারদের মুনাফা দিতে গিয়ে অনুসন্ধান ব্যয় কমানো হয়েছিল, এখন সেই অর্থ আবার নতুন প্রকল্পে বিনিয়োগ করা হচ্ছে। ফলে দীর্ঘদিন উপেক্ষিত বা ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলগুলোতেও নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

Shell, BP, TotalEnergies, Eni, Equinor, ExxonMobil, Chevron, and  ConocoPhillips get their hands on total profits of more than $29 billion -  Offshore Energy

উৎপাদন বাড়ানোর চাপ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের সরকারও তেলের উৎপাদন বাড়ানোর জন্য কোম্পানিগুলোকে চাপ দিচ্ছে, কারণ ভবিষ্যতে সরবরাহ ঘাটতির আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে কোম্পানিগুলো ২০৩০-এর দশক পর্যন্ত তাদের মুনাফা ধরে রাখতে পর্যাপ্ত মজুদ নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে।

মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষতি ও বিনিয়োগে সতর্কতা
মধ্যপ্রাচ্যে কার্যক্রম থাকা অনেক পশ্চিমা কোম্পানি ইতোমধ্যে বড় ক্ষতির মুখে পড়েছে। যুদ্ধের কারণে উৎপাদন কমে গেছে, অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং পুনর্গঠনে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে। ফলে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত বড় বিনিয়োগ থেকে বিরত থাকার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

বিশ্বজুড়ে নতুন অনুসন্ধান ও বৈচিত্র্য আনার চেষ্টা
ঝুঁকি কমাতে কোম্পানিগুলো এখন তাদের বিনিয়োগ বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে দিচ্ছে। গ্রিস, ত্রিনিদাদ ও টোবাগো, মিশর, লিবিয়া ও মেক্সিকো উপসাগরসহ নানা জায়গায় নতুন তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান চলছে। পাশাপাশি আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকাও বড় সম্ভাবনাময় অঞ্চল হিসেবে উঠে এসেছে।

ভবিষ্যতের জ্বালানি চাহিদা ও চ্যালেঞ্জ
বিশ্বের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে ২০৫০ সালের মধ্যে বিপুল পরিমাণ নতুন তেল মজুদ খুঁজে বের করা জরুরি। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকলে প্রতিটি ব্যারেল তেলের সঙ্গে অতিরিক্ত ঝুঁকি মূল্য যুক্ত হবে, যা নতুন অঞ্চলে অনুসন্ধান বাড়াতে আরও উৎসাহ দেবে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে তেল কোম্পানিগুলো শুধু তাৎক্ষণিক লাভের দিকে নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার দিকে নজর দিচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের ঝুঁকি এড়িয়ে বৈচিত্র্যময় বিনিয়োগই এখন তাদের প্রধান কৌশল হয়ে উঠেছে, যা ভবিষ্যতের জ্বালানি বাজারকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

হামে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু, এখন পর্যন্ত মারা গেছে ২৩৩ জন

এক্সন, শেভরন, বিপি ও টোটালএনার্জিসের নতুন দৌড়: মধ্যপ্রাচ্যের ঝুঁকি এড়িয়ে বিশ্বজুড়ে তেল অনুসন্ধান বাড়ছে

০৭:৫৮:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও সরবরাহ অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে বিশ্বের বড় তেল কোম্পানিগুলো এখন দ্রুত নতুন তেল ও গ্যাসের উৎস খুঁজে বের করার দিকে ঝুঁকছে। যুদ্ধের ঝুঁকি এড়িয়ে আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকা ও ভূমধ্যসাগরের নতুন অঞ্চলে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে তারা, যাতে ভবিষ্যতের জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা যায় এবং লাভ ধরে রাখা সম্ভব হয়।

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও বৈশ্বিক তেলবাজারে চাপ
ইরানের হামলা, অবকাঠামো ক্ষতি এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে জাহাজ চলাচলে বাধার কারণে বিশ্বজুড়ে তেল সরবরাহে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীতে অস্থিরতা বিশ্বব্যাপী তেল ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ সরবরাহে প্রভাব ফেলেছে। এর ফলে তেলের দাম বেড়ে গেলেও অনেক কোম্পানি বিপুল ক্ষতির মুখে পড়েছে।

বড় তেল কোম্পানিগুলোর কৌশলগত পরিবর্তন
এক্সন, শেভরন, বিপি ও টোটালএনার্জিস এখন তাদের বিনিয়োগ কৌশল বদলাচ্ছে। তারা মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে নতুন তেলক্ষেত্র খুঁজছে। নাইজেরিয়ার গভীর সমুদ্র, ভেনেজুয়েলা, নামিবিয়া, তুরস্কসহ বিভিন্ন অঞ্চলে নতুন অনুসন্ধান কার্যক্রম চলছে। ধারণা করা হচ্ছে, এসব নতুন প্রকল্প থেকে ভবিষ্যতে শত শত বিলিয়ন ডলারের সম্পদ সৃষ্টি হতে পারে।

তেলের উচ্চ দাম নতুন বিনিয়োগে প্রণোদনা
যুদ্ধের কারণে তেলের দাম বাড়ায় কোম্পানিগুলোর হাতে এখন বেশি অর্থ এসেছে। আগে যেখানে শেয়ারহোল্ডারদের মুনাফা দিতে গিয়ে অনুসন্ধান ব্যয় কমানো হয়েছিল, এখন সেই অর্থ আবার নতুন প্রকল্পে বিনিয়োগ করা হচ্ছে। ফলে দীর্ঘদিন উপেক্ষিত বা ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলগুলোতেও নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

Shell, BP, TotalEnergies, Eni, Equinor, ExxonMobil, Chevron, and  ConocoPhillips get their hands on total profits of more than $29 billion -  Offshore Energy

উৎপাদন বাড়ানোর চাপ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের সরকারও তেলের উৎপাদন বাড়ানোর জন্য কোম্পানিগুলোকে চাপ দিচ্ছে, কারণ ভবিষ্যতে সরবরাহ ঘাটতির আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে কোম্পানিগুলো ২০৩০-এর দশক পর্যন্ত তাদের মুনাফা ধরে রাখতে পর্যাপ্ত মজুদ নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে।

মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষতি ও বিনিয়োগে সতর্কতা
মধ্যপ্রাচ্যে কার্যক্রম থাকা অনেক পশ্চিমা কোম্পানি ইতোমধ্যে বড় ক্ষতির মুখে পড়েছে। যুদ্ধের কারণে উৎপাদন কমে গেছে, অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং পুনর্গঠনে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে। ফলে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত বড় বিনিয়োগ থেকে বিরত থাকার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

বিশ্বজুড়ে নতুন অনুসন্ধান ও বৈচিত্র্য আনার চেষ্টা
ঝুঁকি কমাতে কোম্পানিগুলো এখন তাদের বিনিয়োগ বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে দিচ্ছে। গ্রিস, ত্রিনিদাদ ও টোবাগো, মিশর, লিবিয়া ও মেক্সিকো উপসাগরসহ নানা জায়গায় নতুন তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান চলছে। পাশাপাশি আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকাও বড় সম্ভাবনাময় অঞ্চল হিসেবে উঠে এসেছে।

ভবিষ্যতের জ্বালানি চাহিদা ও চ্যালেঞ্জ
বিশ্বের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে ২০৫০ সালের মধ্যে বিপুল পরিমাণ নতুন তেল মজুদ খুঁজে বের করা জরুরি। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকলে প্রতিটি ব্যারেল তেলের সঙ্গে অতিরিক্ত ঝুঁকি মূল্য যুক্ত হবে, যা নতুন অঞ্চলে অনুসন্ধান বাড়াতে আরও উৎসাহ দেবে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে তেল কোম্পানিগুলো শুধু তাৎক্ষণিক লাভের দিকে নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার দিকে নজর দিচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের ঝুঁকি এড়িয়ে বৈচিত্র্যময় বিনিয়োগই এখন তাদের প্রধান কৌশল হয়ে উঠেছে, যা ভবিষ্যতের জ্বালানি বাজারকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে পারে।