০৪:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
দক্ষিণ চীন সাগরে মালয়েশিয়ার নতুন নজরদারি শক্তি, আকাশে যুক্ত হলো ‘অবিরাম চোখ’ আনকা-এস মালয়েশিয়ায় একক মায়ের সংখ্যা ৩ লাখ ৪০ হাজার ছাড়াল, দারিদ্র্য ও জীবনযুদ্ধের শঙ্কা বাড়ছে চীনের নতুন বার্তা: দেশের টাকা দেশে রাখুন, বিদেশে বিনিয়োগে বাড়ছে কড়াকড়ি মালয়েশিয়ায় ডিজেলে বাড়ছে পাম অয়েলের ব্যবহার, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় নতুন পদক্ষেপ ইরান চুক্তি নিয়ে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি, লেবাননে যুদ্ধবিরতির দাবিতে জি-৭ নেতারা সিঙ্গাপুরের নেতৃত্বে আসিয়ানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নতুন যুগ, ক্ষুদ্র ব্যবসা ও তথ্যপ্রবাহে জোর ভারতে  টমেটো-পেঁয়াজ-আলুর দামে আগুন, কৃষকের হাতে নেই ন্যায্য মূল্য পশ্চিমবঙ্গে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে রাজপথে মমতা, হকারদের পক্ষে তৃণমূলের শক্তি প্রদর্শন কোটা থেকে রাহুলের শিক্ষা বার্তা: ‘স্বপ্ন গড়ার বদলে শিক্ষাব্যবস্থা চাপ ও খরচ বাড়াচ্ছে’ টেলিগ্রামে প্রশ্নফাঁস আতঙ্ক, সতর্কবার্তার পরই ভারতে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা

মণিপুরে আগুন লাগিয়েছে বিজেপি, তামিলনাড়ুতেও ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা—রাহুল গান্ধীর অভিযোগ

মণিপুরের চলমান সহিংসতা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে তীব্র আক্রমণ করলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। তামিলনাড়ুর কন্যাকুমারীর কোলাচেলে এক নির্বাচনী জনসভায় তিনি দাবি করেন, একসময় শান্ত থাকা মণিপুরকে “আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে” এবং সেখানে কার্যত গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট

মণিপুরের সহিংসতা নিয়ে কড়া বক্তব্য

জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাহুল গান্ধী বলেন, মণিপুর আগে একটি শান্তিপূর্ণ রাজ্য ছিল। কিন্তু এখন সেখানে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটেছে এবং সংঘাত এখনও অব্যাহত। তাঁর অভিযোগ, এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী বিজেপি সরকার।

এই মন্তব্যের পেছনে রয়েছে সাম্প্রতিক একটি মর্মান্তিক ঘটনা, যেখানে একটি জঙ্গি হামলায় পাঁচ বছরের এক শিশু এবং তার পাঁচ মাস বয়সী বোন নিহত হয়। ঘটনাটি রাজ্যজুড়ে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে।

উত্তেজনা, বিক্ষোভ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা

ঘটনার পর বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অবরোধ করা হয় এবং কিছু জায়গায় সহিংসতার ঘটনাও ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নিরাপত্তা বাহিনী কাঁদানে গ্যাস ও ধোঁয়া বোমা ব্যবহার করে।

সংঘাতের পেছনের প্রেক্ষাপট

মণিপুরে সহিংসতা শুরু হয় ২০২৩ সালের ৩ মে থেকে। মেইতেই সম্প্রদায়ের তফসিলি উপজাতি মর্যাদার দাবিকে কেন্দ্র করে প্রতিবাদ শুরু হয়। এরপর মেইতেই ও কুকি-জো গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। এতে বহু মানুষের প্রাণহানি, বাস্তুচ্যুতি এবং সম্পদের ক্ষতি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিভিন্ন জেলায় নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন এবং নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

মালদহের সভা থেকে তৃণমূল-বিজেপি দুইকেই তোপ রাহুল গান্ধীর, “বাংলায় শিল্প শেষ  করে দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়”

‘দিল্লি থেকে রাজ্য চালানোর চেষ্টা’ অভিযোগ

রাহুল গান্ধী বলেন, বিজেপি দেশের বিভিন্ন রাজ্যে সরাসরি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চায় এবং দিল্লি থেকে রাজ্য পরিচালনার চেষ্টা করছে। তাঁর দাবি, তামিলনাড়ুতেও একই কৌশল প্রয়োগ করা হচ্ছে।

বিশেষ করে আঞ্চলিক দল এআইএডিএমকে-এর প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, একসময় রাজ্যের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এই দল এখন দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং বিজেপির প্রভাবাধীন হয়ে গেছে।

সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য বনাম একক আধিপত্য

রাহুল গান্ধীর মতে, ভারতের প্রতিটি রাজ্যের নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি ও ইতিহাস রয়েছে, যা সম্মান করা উচিত। তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপি একটি একক সংস্কৃতি, ভাষা ও ইতিহাস চাপিয়ে দিতে চায়, যা দেশের বৈচিত্র্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

তামিলনাড়ু নির্বাচনের প্রেক্ষাপট

তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচন ২৩ এপ্রিল এক দফায় অনুষ্ঠিত হবে এবং ভোট গণনা হবে ৪ মে। এই নির্বাচনে প্রধান লড়াই হতে পারে ডিএমকে নেতৃত্বাধীন জোট এবং এআইএডিএমকে-নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের মধ্যে, যেখানে বিজেপি ও অন্যান্য দল মিত্র হিসেবে রয়েছে।

মণিপুরের পরিস্থিতি এবং কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্কের প্রশ্ন এই নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা।

জনপ্রিয় সংবাদ

দক্ষিণ চীন সাগরে মালয়েশিয়ার নতুন নজরদারি শক্তি, আকাশে যুক্ত হলো ‘অবিরাম চোখ’ আনকা-এস

মণিপুরে আগুন লাগিয়েছে বিজেপি, তামিলনাড়ুতেও ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা—রাহুল গান্ধীর অভিযোগ

০৮:৩০:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

মণিপুরের চলমান সহিংসতা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে তীব্র আক্রমণ করলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। তামিলনাড়ুর কন্যাকুমারীর কোলাচেলে এক নির্বাচনী জনসভায় তিনি দাবি করেন, একসময় শান্ত থাকা মণিপুরকে “আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে” এবং সেখানে কার্যত গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট

মণিপুরের সহিংসতা নিয়ে কড়া বক্তব্য

জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাহুল গান্ধী বলেন, মণিপুর আগে একটি শান্তিপূর্ণ রাজ্য ছিল। কিন্তু এখন সেখানে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটেছে এবং সংঘাত এখনও অব্যাহত। তাঁর অভিযোগ, এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী বিজেপি সরকার।

এই মন্তব্যের পেছনে রয়েছে সাম্প্রতিক একটি মর্মান্তিক ঘটনা, যেখানে একটি জঙ্গি হামলায় পাঁচ বছরের এক শিশু এবং তার পাঁচ মাস বয়সী বোন নিহত হয়। ঘটনাটি রাজ্যজুড়ে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে।

উত্তেজনা, বিক্ষোভ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা

ঘটনার পর বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অবরোধ করা হয় এবং কিছু জায়গায় সহিংসতার ঘটনাও ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নিরাপত্তা বাহিনী কাঁদানে গ্যাস ও ধোঁয়া বোমা ব্যবহার করে।

সংঘাতের পেছনের প্রেক্ষাপট

মণিপুরে সহিংসতা শুরু হয় ২০২৩ সালের ৩ মে থেকে। মেইতেই সম্প্রদায়ের তফসিলি উপজাতি মর্যাদার দাবিকে কেন্দ্র করে প্রতিবাদ শুরু হয়। এরপর মেইতেই ও কুকি-জো গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। এতে বহু মানুষের প্রাণহানি, বাস্তুচ্যুতি এবং সম্পদের ক্ষতি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিভিন্ন জেলায় নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন এবং নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

মালদহের সভা থেকে তৃণমূল-বিজেপি দুইকেই তোপ রাহুল গান্ধীর, “বাংলায় শিল্প শেষ  করে দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়”

‘দিল্লি থেকে রাজ্য চালানোর চেষ্টা’ অভিযোগ

রাহুল গান্ধী বলেন, বিজেপি দেশের বিভিন্ন রাজ্যে সরাসরি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চায় এবং দিল্লি থেকে রাজ্য পরিচালনার চেষ্টা করছে। তাঁর দাবি, তামিলনাড়ুতেও একই কৌশল প্রয়োগ করা হচ্ছে।

বিশেষ করে আঞ্চলিক দল এআইএডিএমকে-এর প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, একসময় রাজ্যের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এই দল এখন দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং বিজেপির প্রভাবাধীন হয়ে গেছে।

সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য বনাম একক আধিপত্য

রাহুল গান্ধীর মতে, ভারতের প্রতিটি রাজ্যের নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি ও ইতিহাস রয়েছে, যা সম্মান করা উচিত। তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপি একটি একক সংস্কৃতি, ভাষা ও ইতিহাস চাপিয়ে দিতে চায়, যা দেশের বৈচিত্র্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

তামিলনাড়ু নির্বাচনের প্রেক্ষাপট

তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচন ২৩ এপ্রিল এক দফায় অনুষ্ঠিত হবে এবং ভোট গণনা হবে ৪ মে। এই নির্বাচনে প্রধান লড়াই হতে পারে ডিএমকে নেতৃত্বাধীন জোট এবং এআইএডিএমকে-নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের মধ্যে, যেখানে বিজেপি ও অন্যান্য দল মিত্র হিসেবে রয়েছে।

মণিপুরের পরিস্থিতি এবং কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্কের প্রশ্ন এই নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা।