গ্রিনল্যান্ডের বিশাল বরফস্তরের নিচে অদ্ভুত এক নড়াচড়ার সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। এতদিন যাকে শক্ত, স্থির এবং অচল বলে মনে করা হতো, সেই বরফই এখন ধীরে ধীরে লাভার মতো আচরণ করছে। এই নতুন আবিষ্কার জলবায়ু পরিবর্তন এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
বরফের ভেতরে ‘স্ফুটন’-এর মতো প্রবাহ
গবেষণায় দেখা গেছে, গ্রিনল্যান্ডের গভীর বরফস্তরের ভেতরে ধীরে ধীরে ঘূর্ণির মতো স্রোত তৈরি হচ্ছে। এই প্রবাহ অনেকটা আগ্নেয়গিরির ভেতরের গলিত শিলার চলাচলের মতো। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এটি আসলে তাপীয় সঞ্চালন বা তাপের কারণে উপরে-নিচে ওঠানামার প্রক্রিয়া।
পৃথিবীর গভীর থেকে উঠে আসা তাপ বরফের ভেতরে এমন এক পরিবেশ তৈরি করছে, যেখানে গরম অংশ উপরে উঠে আসে আর ঠান্ডা অংশ নিচে নেমে যায়। ফলে বরফের ভেতরেই ধীরে ধীরে তৈরি হচ্ছে স্তম্ভের মতো গঠন, যা দেখতে অনেকটা ঘূর্ণির মতো।
বরফ আগের ধারণার চেয়ে অনেক নরম

এই গবেষণায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে—বরফ আসলে যতটা শক্ত মনে করা হতো, বাস্তবে ততটা নয়। বরং এটি চাপের প্রতি অনেক বেশি সংবেদনশীল। এই কারণে তাপমাত্রা ও পরিবেশের সামান্য পরিবর্তনেও বরফের ভেতরে বড় ধরনের পরিবর্তন হতে পারে।
গবেষকরা কম্পিউটার মডেল ব্যবহার করে দেখিয়েছেন, নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে বরফ নিজেই ধীরে ধীরে সরে গিয়ে নতুন গঠন তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে উত্তর গ্রিনল্যান্ডের মতো স্থিতিশীল ও কম তুষারপাতের অঞ্চলে এই প্রক্রিয়া দীর্ঘ সময় ধরে চলতে পারে।
দ্রুত গলনের ঝুঁকি বাড়ছে
গ্রিনল্যান্ডের বরফস্তর পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মিঠা পানির ভাণ্ডারগুলোর একটি। পুরো বরফ গলে গেলে সমুদ্রপৃষ্ঠ প্রায় ৭ মিটার পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বরফ গলার হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, ২০০০ সালের পর থেকে সবচেয়ে বেশি তীব্র গলনের ঘটনাগুলো ঘটেছে। এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে বৈশ্বিক জলবায়ু সংকট আরও তীব্র হতে পারে।
ভবিষ্যৎ পূর্বাভাসে নতুন দিক
বিজ্ঞানীরা বলছেন, বরফের ভেতরের এই অদ্ভুত প্রবাহ সরাসরি গলন দ্রুত করবে—এমন প্রমাণ এখনো মেলেনি। তবে এটি বরফস্তরের ভৌত বৈশিষ্ট্য বোঝার ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে।
বরফ কীভাবে আচরণ করে, তা যত ভালোভাবে বোঝা যাবে, ততই সঠিকভাবে ভবিষ্যতের সমুদ্রপৃষ্ঠ বৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব অনুমান করা সম্ভব হবে।
এই আবিষ্কার তাই শুধু একটি বৈজ্ঞানিক কৌতূহল নয়, বরং পৃথিবীর ভবিষ্যৎ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ এক সতর্কবার্তা হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















