আফ্রিকার সাহারা মরুভূমির এক প্রত্যন্ত অঞ্চলে আবিষ্কৃত হয়েছে এক বিশালাকৃতির নতুন ডাইনোসর প্রজাতি, যা বিজ্ঞানীদের বিস্মিত করে দিয়েছে। গবেষকদের মতে, এই ডাইনোসরটির আকার ছিল প্রায় একটি ডাবল ডেকার বাসের সমান এবং ওজন ছিল কয়েক টন। এর নাম দেওয়া হয়েছে ‘স্পিনোসরাস মিরাবিলিস’, যার অর্থ ল্যাটিন ভাষায় ‘অবিশ্বাস্য স্পিনোসরাস’।
অচেনা গঠন, প্রথমে ধরা পড়েনি গুরুত্ব
গবেষকরা প্রথম ২০১৯ সালে এই ডাইনোসরের কিছু অংশ আবিষ্কার করেন। তবে এর মাথার বিশেষ ধরনের বাঁকা শিখা বা ক্রেস্ট এতটাই অস্বাভাবিক ছিল যে প্রথমে তারা এর গুরুত্ব বুঝতে পারেননি। পরে ২০২২ সালে আরও জীবাশ্ম পাওয়ার পর বিষয়টি পরিষ্কার হয় এবং তখনই এই নতুন প্রজাতির স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য সামনে আসে।
নদীময় বনাঞ্চলে বসবাসের ইঙ্গিত

এই ডাইনোসরটি বর্তমান নাইজার অঞ্চলে বাস করত, যা আজ মরুভূমি হলেও কোটি বছর আগে ছিল ঘন বন আর নদীজালের এলাকা। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এটি সমুদ্র উপকূল থেকে অনেক দূরে থাকলেও নদী ও জলাশয় নির্ভর পরিবেশে জীবনযাপন করত।
মাছ শিকারি, কিন্তু সম্পূর্ণ জলজ নয়
স্পিনোসরাস পরিবার সাধারণত মাছ শিকার করার জন্য পরিচিত। এদের লম্বা মুখ এবং শঙ্কু আকৃতির দাঁত আধুনিক কুমিরের মতো। তবে এই নতুন প্রজাতিটি কতটা পানিতে থাকত, তা নিয়ে এখনও বিতর্ক রয়েছে। কেউ কেউ মনে করেন এটি শক্তিশালী সাঁতারু ছিল, আবার অন্যদের মতে এটি অগভীর পানিতে হেঁটে শিকার ধরত।
‘হেল হেরন’ ধরনের আচরণ

গবেষকদের ধারণা, এই ডাইনোসরটি অনেকটা বড় বক পাখির মতো আচরণ করত। এটি শক্ত পায়ে ভর করে পানিতে দাঁড়িয়ে শিকার ধরত এবং অগভীর জলেই বেশি সময় কাটাত। বড় মাছ ধরার জন্য এটি ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করত।
রহস্য এখনও রয়ে গেছে
এই নতুন প্রজাতি নিয়ে এখনও অনেক প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। তবে প্রতিটি নতুন জীবাশ্ম আবিষ্কার বিজ্ঞানীদের কাছে স্পিনোসরাস সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা দিচ্ছে। ধীরে ধীরে এই রহস্যময় ডাইনোসরের জীবনযাপন, আচরণ এবং পরিবেশ সম্পর্কে নতুন তথ্য সামনে আসছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















