প্রায় ৩২ মিটার উঁচু এক বিশাল ব্রোঞ্জের মূর্তি, যা একসময় প্রাচীন বিশ্বের অন্যতম বিস্ময় হিসেবে দাঁড়িয়ে ছিল—সেই রোডসের কলোসাস আজ শুধুই ইতিহাসের গল্প। মাত্র কয়েক দশকের মধ্যেই এই মহাকায় স্থাপত্য ধ্বংস হয়ে যায়, আর তার ধ্বংসাবশেষ শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে পড়ে থাকে অবহেলায়।
বিজয়ের প্রতীক হিসেবে নির্মাণ
রোডস দ্বীপে এক বছরের দীর্ঘ অবরোধে জয়ের স্মৃতি ধরে রাখতে এই বিশাল মূর্তি নির্মাণ করা হয়। সূর্যদেব হেলিওসের এই মূর্তি শুধু ধর্মীয় প্রতীকই ছিল না, এটি ছিল শক্তি ও বিজয়ের প্রতীক। প্রায় ১২ বছর ধরে নির্মাণ কাজ চলে এবং খ্রিস্টপূর্ব ২৮২ সালের দিকে এটি সম্পূর্ণ হয়।
উচ্চতা ও বিস্ময়
৭০ কিউবিট বা প্রায় ৩২ মিটার উঁচু এই মূর্তিটি ছিল সেই সময়ের সবচেয়ে উঁচু ভাস্কর্য। প্রাচীন বিশ্বের সাতটি আশ্চর্যের মধ্যে এটি ছিল অন্যতম আকর্ষণ। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এই মূর্তি দেখতে আসত।

ভূমিকম্পে ধ্বংস
কিন্তু এই মহিমা বেশিদিন টিকেনি। নির্মাণের ৬০ বছরেরও কম সময়ের মধ্যে, খ্রিস্টপূর্ব ২২৬ সালের দিকে এক শক্তিশালী ভূমিকম্পে মূর্তিটি হাঁটুর কাছে ভেঙে পড়ে যায়। মুহূর্তেই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় সেই বিস্ময়কর স্থাপত্য।
পুনর্নির্মাণের সুযোগ হাতছাড়া
মূর্তিটি এতটাই গুরুত্বপূর্ণ ছিল যে, অনেক ধনী ব্যক্তি এর পুনর্নির্মাণে অর্থায়নের প্রস্তাব দেন। কিন্তু ডেলফির ওরাকলের পরামর্শ নেওয়ার পর রোডসের মানুষ বিশ্বাস করে যে তারা হেলিওসকে অসন্তুষ্ট করেছে। ফলে তারা মূর্তিটি আর পুনর্নির্মাণ করেনি, বরং ধ্বংসাবশেষ সেখানেই পড়ে থাকতে দেয়।
শতাব্দীজুড়ে বিস্ময়
ধ্বংস হওয়ার পরও কলোসাসের ভগ্নাংশ দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করত। এমনকি একজন ঐতিহাসিক লিখেছিলেন, ভেঙে পড়া অবস্থাতেও এটি মানুষের বিস্ময় জাগিয়ে তুলত।

শেষ পরিণতি
অবশেষে সপ্তম শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে আরব বাহিনী দ্বীপে হামলা চালিয়ে মূর্তির ব্রোঞ্জ অংশ বিক্রি করে দেয়। ধারণা করা হয়, সেগুলো গলিয়ে ফেলা হয়েছিল, এবং পুরো মূর্তিটি সরাতে প্রায় ৯০০ উটের প্রয়োজন হয়েছিল।
এইভাবেই ইতিহাসের এক বিস্ময় হারিয়ে যায় সময়ের গর্ভে, রেখে যায় শুধু গল্প আর বিস্ময়ের স্মৃতি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















