০২:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
তাইওয়ান নিয়ে শি জিনপিংয়ের কড়া বার্তা: ভুল পদক্ষেপ মানেই যুদ্ধ ইরানকে চাপ দিতে পারমাণবিক সাবমেরিন USS Alaska জিব্রাল্টারে পাঠাল যুক্তরাষ্ট্র সুনামগঞ্জের হাওরে খড় সংকট, গবাদিপশু বিক্রিতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষকরা ইবোলার নতুন আতঙ্ক: কঙ্গোতে ফের প্রাদুর্ভাব, ইতিহাসের ভয়াবহ সংক্রমণগুলো আবার আলোচনায় কুষ্টিয়ায় নিখোঁজ তিন স্কুলছাত্র দুই দিন পর উদ্ধার ফরিদপুর এক্সপ্রেসওয়েতে বাসের ধাক্কায় বাবা-ছেলের মৃত্যু প্রাবোওর নীতি ঘিরে শঙ্কা, অর্থনীতি ও গণতন্ত্রের মোড়ে দাঁড়িয়ে ইন্দোনেশিয়া পশ্চিম তীরে বসতি সহিংসতা: নতুন সংকটে ইসরায়েলের নিরাপত্তা ব্রিটেনের রাজনীতিতে নতুন ঝড়, চাপের মুখে স্টারমার সরকার জ্বালানি বাজারে সাময়িক শান্তি, সামনে কি আরও বড় বৈশ্বিক তেলের সংকট?

রোডসের বিশাল মূর্তির পতন: প্রাচীন বিশ্বের বিস্ময় কীভাবে হারিয়ে গেল

The Colossus of Rhodes, 18th century. The Colossus of Rhodes, one of the Seven Wonders of the Ancient World, was a lighthouse in the form of a giant statue of the god Helios, marking the entrance to the harbour by holding a flaming torch in its hand. It was constructed in c292-280 BC. The statue broke off at the knees when a powerful earthquake struck Rhodes in 226 BC. Artist Georg Balthasar Probst. (Photo by Historica Graphica Collection/Heritage Images/Getty Images)

প্রায় ৩২ মিটার উঁচু এক বিশাল ব্রোঞ্জের মূর্তি, যা একসময় প্রাচীন বিশ্বের অন্যতম বিস্ময় হিসেবে দাঁড়িয়ে ছিল—সেই রোডসের কলোসাস আজ শুধুই ইতিহাসের গল্প। মাত্র কয়েক দশকের মধ্যেই এই মহাকায় স্থাপত্য ধ্বংস হয়ে যায়, আর তার ধ্বংসাবশেষ শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে পড়ে থাকে অবহেলায়।

বিজয়ের প্রতীক হিসেবে নির্মাণ

রোডস দ্বীপে এক বছরের দীর্ঘ অবরোধে জয়ের স্মৃতি ধরে রাখতে এই বিশাল মূর্তি নির্মাণ করা হয়। সূর্যদেব হেলিওসের এই মূর্তি শুধু ধর্মীয় প্রতীকই ছিল না, এটি ছিল শক্তি ও বিজয়ের প্রতীক। প্রায় ১২ বছর ধরে নির্মাণ কাজ চলে এবং খ্রিস্টপূর্ব ২৮২ সালের দিকে এটি সম্পূর্ণ হয়।

উচ্চতা ও বিস্ময়

৭০ কিউবিট বা প্রায় ৩২ মিটার উঁচু এই মূর্তিটি ছিল সেই সময়ের সবচেয়ে উঁচু ভাস্কর্য। প্রাচীন বিশ্বের সাতটি আশ্চর্যের মধ্যে এটি ছিল অন্যতম আকর্ষণ। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এই মূর্তি দেখতে আসত।

There's a Plan To Rebuild the Colossus of Rhodes

ভূমিকম্পে ধ্বংস

কিন্তু এই মহিমা বেশিদিন টিকেনি। নির্মাণের ৬০ বছরেরও কম সময়ের মধ্যে, খ্রিস্টপূর্ব ২২৬ সালের দিকে এক শক্তিশালী ভূমিকম্পে মূর্তিটি হাঁটুর কাছে ভেঙে পড়ে যায়। মুহূর্তেই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় সেই বিস্ময়কর স্থাপত্য।

পুনর্নির্মাণের সুযোগ হাতছাড়া

মূর্তিটি এতটাই গুরুত্বপূর্ণ ছিল যে, অনেক ধনী ব্যক্তি এর পুনর্নির্মাণে অর্থায়নের প্রস্তাব দেন। কিন্তু ডেলফির ওরাকলের পরামর্শ নেওয়ার পর রোডসের মানুষ বিশ্বাস করে যে তারা হেলিওসকে অসন্তুষ্ট করেছে। ফলে তারা মূর্তিটি আর পুনর্নির্মাণ করেনি, বরং ধ্বংসাবশেষ সেখানেই পড়ে থাকতে দেয়।

শতাব্দীজুড়ে বিস্ময়

ধ্বংস হওয়ার পরও কলোসাসের ভগ্নাংশ দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করত। এমনকি একজন ঐতিহাসিক লিখেছিলেন, ভেঙে পড়া অবস্থাতেও এটি মানুষের বিস্ময় জাগিয়ে তুলত।

The Colossus of Rhodes - Greece Is

শেষ পরিণতি

অবশেষে সপ্তম শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে আরব বাহিনী দ্বীপে হামলা চালিয়ে মূর্তির ব্রোঞ্জ অংশ বিক্রি করে দেয়। ধারণা করা হয়, সেগুলো গলিয়ে ফেলা হয়েছিল, এবং পুরো মূর্তিটি সরাতে প্রায় ৯০০ উটের প্রয়োজন হয়েছিল।

এইভাবেই ইতিহাসের এক বিস্ময় হারিয়ে যায় সময়ের গর্ভে, রেখে যায় শুধু গল্প আর বিস্ময়ের স্মৃতি।

জনপ্রিয় সংবাদ

তাইওয়ান নিয়ে শি জিনপিংয়ের কড়া বার্তা: ভুল পদক্ষেপ মানেই যুদ্ধ

রোডসের বিশাল মূর্তির পতন: প্রাচীন বিশ্বের বিস্ময় কীভাবে হারিয়ে গেল

১২:৩০:১৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

প্রায় ৩২ মিটার উঁচু এক বিশাল ব্রোঞ্জের মূর্তি, যা একসময় প্রাচীন বিশ্বের অন্যতম বিস্ময় হিসেবে দাঁড়িয়ে ছিল—সেই রোডসের কলোসাস আজ শুধুই ইতিহাসের গল্প। মাত্র কয়েক দশকের মধ্যেই এই মহাকায় স্থাপত্য ধ্বংস হয়ে যায়, আর তার ধ্বংসাবশেষ শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে পড়ে থাকে অবহেলায়।

বিজয়ের প্রতীক হিসেবে নির্মাণ

রোডস দ্বীপে এক বছরের দীর্ঘ অবরোধে জয়ের স্মৃতি ধরে রাখতে এই বিশাল মূর্তি নির্মাণ করা হয়। সূর্যদেব হেলিওসের এই মূর্তি শুধু ধর্মীয় প্রতীকই ছিল না, এটি ছিল শক্তি ও বিজয়ের প্রতীক। প্রায় ১২ বছর ধরে নির্মাণ কাজ চলে এবং খ্রিস্টপূর্ব ২৮২ সালের দিকে এটি সম্পূর্ণ হয়।

উচ্চতা ও বিস্ময়

৭০ কিউবিট বা প্রায় ৩২ মিটার উঁচু এই মূর্তিটি ছিল সেই সময়ের সবচেয়ে উঁচু ভাস্কর্য। প্রাচীন বিশ্বের সাতটি আশ্চর্যের মধ্যে এটি ছিল অন্যতম আকর্ষণ। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এই মূর্তি দেখতে আসত।

There's a Plan To Rebuild the Colossus of Rhodes

ভূমিকম্পে ধ্বংস

কিন্তু এই মহিমা বেশিদিন টিকেনি। নির্মাণের ৬০ বছরেরও কম সময়ের মধ্যে, খ্রিস্টপূর্ব ২২৬ সালের দিকে এক শক্তিশালী ভূমিকম্পে মূর্তিটি হাঁটুর কাছে ভেঙে পড়ে যায়। মুহূর্তেই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় সেই বিস্ময়কর স্থাপত্য।

পুনর্নির্মাণের সুযোগ হাতছাড়া

মূর্তিটি এতটাই গুরুত্বপূর্ণ ছিল যে, অনেক ধনী ব্যক্তি এর পুনর্নির্মাণে অর্থায়নের প্রস্তাব দেন। কিন্তু ডেলফির ওরাকলের পরামর্শ নেওয়ার পর রোডসের মানুষ বিশ্বাস করে যে তারা হেলিওসকে অসন্তুষ্ট করেছে। ফলে তারা মূর্তিটি আর পুনর্নির্মাণ করেনি, বরং ধ্বংসাবশেষ সেখানেই পড়ে থাকতে দেয়।

শতাব্দীজুড়ে বিস্ময়

ধ্বংস হওয়ার পরও কলোসাসের ভগ্নাংশ দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করত। এমনকি একজন ঐতিহাসিক লিখেছিলেন, ভেঙে পড়া অবস্থাতেও এটি মানুষের বিস্ময় জাগিয়ে তুলত।

The Colossus of Rhodes - Greece Is

শেষ পরিণতি

অবশেষে সপ্তম শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে আরব বাহিনী দ্বীপে হামলা চালিয়ে মূর্তির ব্রোঞ্জ অংশ বিক্রি করে দেয়। ধারণা করা হয়, সেগুলো গলিয়ে ফেলা হয়েছিল, এবং পুরো মূর্তিটি সরাতে প্রায় ৯০০ উটের প্রয়োজন হয়েছিল।

এইভাবেই ইতিহাসের এক বিস্ময় হারিয়ে যায় সময়ের গর্ভে, রেখে যায় শুধু গল্প আর বিস্ময়ের স্মৃতি।