০৭:৪০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
ইসরায়েলে নির্বাচন সামনে, অথচ অকার্যকর রাষ্ট্রীয় তদারকি: গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক সংকেত পাচার করা অর্থ ফেরত আনা কি সম্ভব? মধ্যম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের দৌড়েও অবিশ্বাস্য গতি, রেকর্ড ভাঙল একের পর এক স্বাধীন ভারতের প্রথম জাতিভিত্তিক জনগণনায় নেতৃত্ব দেবে লাদাখ বিহারের ধাক্কার পর উত্তরপ্রদেশে উচ্চবর্ণের ক্ষোভ কি চাপে ফেলবে বিজেপিকে? দিল্লির অভিজাতদের স্বপ্নের বাড়ি দেখিয়ে ২০০ কোটি টাকার প্রতারণা! সন্তানদের ভবিষ্যৎ বোঝার ক্ষমতা অভিভাবকদের চেয়েও এগিয়ে অর্থনৈতিক সংকটে বদলে যাচ্ছে প্রেমের হিসাব, ‘রেড ফ্ল্যাগ’ও কি শ্রেণির পরিচয়? কৃষ্ণসাগরের বন্দর ঘিরে রাশিয়ার নতুন চাপ, শস্য রপ্তানি থমকে গেলে বিশ্বজুড়ে বাড়বে খাদ্যঝুঁকি ‘দ্য অডিসি’তে ওডিসিউসের অপরাধবোধ, যুদ্ধের নৃশংসতা ও সভ্যতার পুনর্জন্ম: ক্রিস্টোফার নোলানের ব্যাখ্যা

মধ্যযুগে ‘রাগ’ ছিল নেশা! ক্ষোভকে নিয়ন্ত্রণের অদ্ভুত কৌশল জানুন

রাগ—আজকের মতোই শত শত বছর আগে মানুষের জীবনে স্পষ্টভাবে ধরা দিত। মুখ লাল হয়ে যাওয়া, কণ্ঠস্বর ভারী হয়ে ওঠা, মুঠো শক্ত করে ধরা—এই লক্ষণগুলো সময়ের সঙ্গে বদলায়নি। তবে মধ্যযুগে রাগকে দেখা হতো একেবারেই ভিন্ন দৃষ্টিতে। তখনকার ধর্মতাত্ত্বিকরা মনে করতেন, রাগ শুধু একটি আবেগ নয়, বরং এটি এক ধরনের নেশা—যা মানুষকে বারবার একই অনুভূতির দিকে টেনে নেয়।

রাগের নেশা: মধ্যযুগের দৃষ্টিভঙ্গি
মধ্যযুগীয় চিন্তাবিদদের মতে, কোনো অপমান বা আঘাতের পর মানুষ এক ধরনের তীব্র আত্মতৃপ্তি অনুভব করে। নিজেকে সঠিক মনে হওয়ার যে তীব্র বিশ্বাস, সেটিই রাগকে আরও শক্তিশালী করে তোলে। এই অনুভূতি এতটাই আকর্ষণীয় ছিল যে মানুষ নিজের অজান্তেই এমন পরিস্থিতি তৈরি করত, যাতে আবার সেই ক্ষোভের স্বাদ পাওয়া যায়। ফলে রাগ হয়ে উঠত এক ধরনের চক্র—যেখানে মানুষ বারবার জড়িয়ে পড়ত।

Amazon.com: Hieronymus Bosch"The Seven Deadly Sins And The Four Last Things  – Greed"Painting On Canvas Wall Art For Bedroom Office Kitchen Living Room  Wall Decor Home Decor Frameless(45X63cm18X25inch): Posters & Prints

রাগের চিকিৎসা: ওষুধ থেকে মানসিক নিয়ন্ত্রণ
মধ্যযুগে রাগ কমানোর জন্য নানা পদ্ধতি ব্যবহার করা হতো। কিছু চিকিৎসক দাবি করতেন, তারা এমন ওষুধ তৈরি করেছেন যা মানুষের উত্তেজনা ও অস্থিরতা কমিয়ে দিতে পারে। আবার কেউ কেউ মনে করতেন, সব অনুভূতি দমন করাই রাগের সমাধান। তবে অনেক ধর্মতাত্ত্বিক এই ধারণার বিরোধিতা করেন। তাদের মতে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হলে অনুভূতি থাকা জরুরি।

দৃষ্টিভঙ্গির শক্তি: নিয়ন্ত্রণের মূল চাবিকাঠি
১২শ শতাব্দীর সন্ন্যাসীরা রাগ নিয়ন্ত্রণের একটি ভিন্ন পথ দেখিয়েছিলেন। তাদের মতে, রাগের আগুন অনুভব করা খারাপ নয়, তবে সেটিকে নিয়ন্ত্রণ করাই আসল বিষয়। হঠাৎ বিস্ফোরণের বদলে শান্ত থাকা এবং পরিস্থিতিকে বৃহত্তর দৃষ্টিতে দেখা উচিত। এই অনুশীলনের মাধ্যমে মানুষ শিখতে পারে, কোন লড়াইটি সত্যিই প্রয়োজনীয় এবং কোনটি এড়িয়ে যাওয়া উচিত।

Gluttony Detail From The Table of The Seven Deadly Sins & The Four Last  Things C1480 Poster Print by Hieronymus Bosch - 36 x 24 in. - Large -  Walmart.com

আজকের প্রেক্ষাপটে প্রাসঙ্গিকতা
মধ্যযুগের এই চিন্তাধারা আজও প্রাসঙ্গিক। আধুনিক মনোবিজ্ঞান যেখানে রাগকে পরিস্থিতির প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখে, সেখানে মধ্যযুগের ধারণা আমাদের মনে করিয়ে দেয়—রাগের ভেতরেও এক ধরনের আকর্ষণ কাজ করে। তাই রাগকে দমন নয়, বরং বোঝা এবং নিয়ন্ত্রণ করাই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর পথ।

রাগকে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারলে এটি অন্যায়ের বিরুদ্ধে শক্তি জোগাতে পারে। কিন্তু নিয়ন্ত্রণ হারালে এটি ধ্বংস ডেকে আনে। তাই ইতিহাসের শিক্ষা একটাই—রাগকে নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখুন, রাগের নিয়ন্ত্রণে নিজেকে নয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইসরায়েলে নির্বাচন সামনে, অথচ অকার্যকর রাষ্ট্রীয় তদারকি: গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক সংকেত

মধ্যযুগে ‘রাগ’ ছিল নেশা! ক্ষোভকে নিয়ন্ত্রণের অদ্ভুত কৌশল জানুন

০২:০০:৩৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

রাগ—আজকের মতোই শত শত বছর আগে মানুষের জীবনে স্পষ্টভাবে ধরা দিত। মুখ লাল হয়ে যাওয়া, কণ্ঠস্বর ভারী হয়ে ওঠা, মুঠো শক্ত করে ধরা—এই লক্ষণগুলো সময়ের সঙ্গে বদলায়নি। তবে মধ্যযুগে রাগকে দেখা হতো একেবারেই ভিন্ন দৃষ্টিতে। তখনকার ধর্মতাত্ত্বিকরা মনে করতেন, রাগ শুধু একটি আবেগ নয়, বরং এটি এক ধরনের নেশা—যা মানুষকে বারবার একই অনুভূতির দিকে টেনে নেয়।

রাগের নেশা: মধ্যযুগের দৃষ্টিভঙ্গি
মধ্যযুগীয় চিন্তাবিদদের মতে, কোনো অপমান বা আঘাতের পর মানুষ এক ধরনের তীব্র আত্মতৃপ্তি অনুভব করে। নিজেকে সঠিক মনে হওয়ার যে তীব্র বিশ্বাস, সেটিই রাগকে আরও শক্তিশালী করে তোলে। এই অনুভূতি এতটাই আকর্ষণীয় ছিল যে মানুষ নিজের অজান্তেই এমন পরিস্থিতি তৈরি করত, যাতে আবার সেই ক্ষোভের স্বাদ পাওয়া যায়। ফলে রাগ হয়ে উঠত এক ধরনের চক্র—যেখানে মানুষ বারবার জড়িয়ে পড়ত।

Amazon.com: Hieronymus Bosch"The Seven Deadly Sins And The Four Last Things  – Greed"Painting On Canvas Wall Art For Bedroom Office Kitchen Living Room  Wall Decor Home Decor Frameless(45X63cm18X25inch): Posters & Prints

রাগের চিকিৎসা: ওষুধ থেকে মানসিক নিয়ন্ত্রণ
মধ্যযুগে রাগ কমানোর জন্য নানা পদ্ধতি ব্যবহার করা হতো। কিছু চিকিৎসক দাবি করতেন, তারা এমন ওষুধ তৈরি করেছেন যা মানুষের উত্তেজনা ও অস্থিরতা কমিয়ে দিতে পারে। আবার কেউ কেউ মনে করতেন, সব অনুভূতি দমন করাই রাগের সমাধান। তবে অনেক ধর্মতাত্ত্বিক এই ধারণার বিরোধিতা করেন। তাদের মতে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হলে অনুভূতি থাকা জরুরি।

দৃষ্টিভঙ্গির শক্তি: নিয়ন্ত্রণের মূল চাবিকাঠি
১২শ শতাব্দীর সন্ন্যাসীরা রাগ নিয়ন্ত্রণের একটি ভিন্ন পথ দেখিয়েছিলেন। তাদের মতে, রাগের আগুন অনুভব করা খারাপ নয়, তবে সেটিকে নিয়ন্ত্রণ করাই আসল বিষয়। হঠাৎ বিস্ফোরণের বদলে শান্ত থাকা এবং পরিস্থিতিকে বৃহত্তর দৃষ্টিতে দেখা উচিত। এই অনুশীলনের মাধ্যমে মানুষ শিখতে পারে, কোন লড়াইটি সত্যিই প্রয়োজনীয় এবং কোনটি এড়িয়ে যাওয়া উচিত।

Gluttony Detail From The Table of The Seven Deadly Sins & The Four Last  Things C1480 Poster Print by Hieronymus Bosch - 36 x 24 in. - Large -  Walmart.com

আজকের প্রেক্ষাপটে প্রাসঙ্গিকতা
মধ্যযুগের এই চিন্তাধারা আজও প্রাসঙ্গিক। আধুনিক মনোবিজ্ঞান যেখানে রাগকে পরিস্থিতির প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখে, সেখানে মধ্যযুগের ধারণা আমাদের মনে করিয়ে দেয়—রাগের ভেতরেও এক ধরনের আকর্ষণ কাজ করে। তাই রাগকে দমন নয়, বরং বোঝা এবং নিয়ন্ত্রণ করাই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর পথ।

রাগকে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারলে এটি অন্যায়ের বিরুদ্ধে শক্তি জোগাতে পারে। কিন্তু নিয়ন্ত্রণ হারালে এটি ধ্বংস ডেকে আনে। তাই ইতিহাসের শিক্ষা একটাই—রাগকে নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখুন, রাগের নিয়ন্ত্রণে নিজেকে নয়।