০২:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬
হাইলাইট: দুর্নীতির অভিযোগ জমা পড়ছে প্রতিদিন, তবে বন্ধ অনুসন্ধান–মামলা সপ্তাহের শুরুতেই সোনার গহনার দাম ভরিতে কমলো ২২১৬ টাকা   শিকারি-সংগ্রাহকদের মধ্যেও ছিল প্লেগ! ৫,৫০০ বছর আগের মহামারির চাঞ্চল্যকর প্রমাণ এল নিনোর নতুন হুমকি: ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী জলবায়ু ঘটনা কি সামনে? গাছেরও আছে ‘গোপন শ্রবণশক্তি’, প্রতিবেশীর খবর শুনেই বদলায় বেড়ে ওঠার কৌশল নেটফ্লিক্সে হারলান কোবেন ঝড়: রহস্য আর পারিবারিক নাটকের জাদুতে বিশ্বজয় বড়দের নতুন ছুটি: গ্রীষ্মকালীন ক্যাম্পে ফিরছে প্রাপ্তবয়স্করা অনলাইনের প্রেমে প্রতারণা: একাকীত্বকে পুঁজি করে বাড়ছে ‘লাভ স্ক্যাম’ চক্র অগ্ন্যাশয় ক্যান্সারে নতুন আশা, জীবন বাড়াতে পারে যুগান্তকারী ওষুধ চকলেটের মিষ্টি রহস্য: কোকো ফলনে ভরসা রক্তচোষা ক্ষুদে পোকা

মধ্যযুগে ‘রাগ’ ছিল নেশা! ক্ষোভকে নিয়ন্ত্রণের অদ্ভুত কৌশল জানুন

রাগ—আজকের মতোই শত শত বছর আগে মানুষের জীবনে স্পষ্টভাবে ধরা দিত। মুখ লাল হয়ে যাওয়া, কণ্ঠস্বর ভারী হয়ে ওঠা, মুঠো শক্ত করে ধরা—এই লক্ষণগুলো সময়ের সঙ্গে বদলায়নি। তবে মধ্যযুগে রাগকে দেখা হতো একেবারেই ভিন্ন দৃষ্টিতে। তখনকার ধর্মতাত্ত্বিকরা মনে করতেন, রাগ শুধু একটি আবেগ নয়, বরং এটি এক ধরনের নেশা—যা মানুষকে বারবার একই অনুভূতির দিকে টেনে নেয়।

রাগের নেশা: মধ্যযুগের দৃষ্টিভঙ্গি
মধ্যযুগীয় চিন্তাবিদদের মতে, কোনো অপমান বা আঘাতের পর মানুষ এক ধরনের তীব্র আত্মতৃপ্তি অনুভব করে। নিজেকে সঠিক মনে হওয়ার যে তীব্র বিশ্বাস, সেটিই রাগকে আরও শক্তিশালী করে তোলে। এই অনুভূতি এতটাই আকর্ষণীয় ছিল যে মানুষ নিজের অজান্তেই এমন পরিস্থিতি তৈরি করত, যাতে আবার সেই ক্ষোভের স্বাদ পাওয়া যায়। ফলে রাগ হয়ে উঠত এক ধরনের চক্র—যেখানে মানুষ বারবার জড়িয়ে পড়ত।

Amazon.com: Hieronymus Bosch"The Seven Deadly Sins And The Four Last Things  – Greed"Painting On Canvas Wall Art For Bedroom Office Kitchen Living Room  Wall Decor Home Decor Frameless(45X63cm18X25inch): Posters & Prints

রাগের চিকিৎসা: ওষুধ থেকে মানসিক নিয়ন্ত্রণ
মধ্যযুগে রাগ কমানোর জন্য নানা পদ্ধতি ব্যবহার করা হতো। কিছু চিকিৎসক দাবি করতেন, তারা এমন ওষুধ তৈরি করেছেন যা মানুষের উত্তেজনা ও অস্থিরতা কমিয়ে দিতে পারে। আবার কেউ কেউ মনে করতেন, সব অনুভূতি দমন করাই রাগের সমাধান। তবে অনেক ধর্মতাত্ত্বিক এই ধারণার বিরোধিতা করেন। তাদের মতে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হলে অনুভূতি থাকা জরুরি।

দৃষ্টিভঙ্গির শক্তি: নিয়ন্ত্রণের মূল চাবিকাঠি
১২শ শতাব্দীর সন্ন্যাসীরা রাগ নিয়ন্ত্রণের একটি ভিন্ন পথ দেখিয়েছিলেন। তাদের মতে, রাগের আগুন অনুভব করা খারাপ নয়, তবে সেটিকে নিয়ন্ত্রণ করাই আসল বিষয়। হঠাৎ বিস্ফোরণের বদলে শান্ত থাকা এবং পরিস্থিতিকে বৃহত্তর দৃষ্টিতে দেখা উচিত। এই অনুশীলনের মাধ্যমে মানুষ শিখতে পারে, কোন লড়াইটি সত্যিই প্রয়োজনীয় এবং কোনটি এড়িয়ে যাওয়া উচিত।

Gluttony Detail From The Table of The Seven Deadly Sins & The Four Last  Things C1480 Poster Print by Hieronymus Bosch - 36 x 24 in. - Large -  Walmart.com

আজকের প্রেক্ষাপটে প্রাসঙ্গিকতা
মধ্যযুগের এই চিন্তাধারা আজও প্রাসঙ্গিক। আধুনিক মনোবিজ্ঞান যেখানে রাগকে পরিস্থিতির প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখে, সেখানে মধ্যযুগের ধারণা আমাদের মনে করিয়ে দেয়—রাগের ভেতরেও এক ধরনের আকর্ষণ কাজ করে। তাই রাগকে দমন নয়, বরং বোঝা এবং নিয়ন্ত্রণ করাই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর পথ।

রাগকে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারলে এটি অন্যায়ের বিরুদ্ধে শক্তি জোগাতে পারে। কিন্তু নিয়ন্ত্রণ হারালে এটি ধ্বংস ডেকে আনে। তাই ইতিহাসের শিক্ষা একটাই—রাগকে নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখুন, রাগের নিয়ন্ত্রণে নিজেকে নয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

হাইলাইট: দুর্নীতির অভিযোগ জমা পড়ছে প্রতিদিন, তবে বন্ধ অনুসন্ধান–মামলা

মধ্যযুগে ‘রাগ’ ছিল নেশা! ক্ষোভকে নিয়ন্ত্রণের অদ্ভুত কৌশল জানুন

০২:০০:৩৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

রাগ—আজকের মতোই শত শত বছর আগে মানুষের জীবনে স্পষ্টভাবে ধরা দিত। মুখ লাল হয়ে যাওয়া, কণ্ঠস্বর ভারী হয়ে ওঠা, মুঠো শক্ত করে ধরা—এই লক্ষণগুলো সময়ের সঙ্গে বদলায়নি। তবে মধ্যযুগে রাগকে দেখা হতো একেবারেই ভিন্ন দৃষ্টিতে। তখনকার ধর্মতাত্ত্বিকরা মনে করতেন, রাগ শুধু একটি আবেগ নয়, বরং এটি এক ধরনের নেশা—যা মানুষকে বারবার একই অনুভূতির দিকে টেনে নেয়।

রাগের নেশা: মধ্যযুগের দৃষ্টিভঙ্গি
মধ্যযুগীয় চিন্তাবিদদের মতে, কোনো অপমান বা আঘাতের পর মানুষ এক ধরনের তীব্র আত্মতৃপ্তি অনুভব করে। নিজেকে সঠিক মনে হওয়ার যে তীব্র বিশ্বাস, সেটিই রাগকে আরও শক্তিশালী করে তোলে। এই অনুভূতি এতটাই আকর্ষণীয় ছিল যে মানুষ নিজের অজান্তেই এমন পরিস্থিতি তৈরি করত, যাতে আবার সেই ক্ষোভের স্বাদ পাওয়া যায়। ফলে রাগ হয়ে উঠত এক ধরনের চক্র—যেখানে মানুষ বারবার জড়িয়ে পড়ত।

Amazon.com: Hieronymus Bosch"The Seven Deadly Sins And The Four Last Things  – Greed"Painting On Canvas Wall Art For Bedroom Office Kitchen Living Room  Wall Decor Home Decor Frameless(45X63cm18X25inch): Posters & Prints

রাগের চিকিৎসা: ওষুধ থেকে মানসিক নিয়ন্ত্রণ
মধ্যযুগে রাগ কমানোর জন্য নানা পদ্ধতি ব্যবহার করা হতো। কিছু চিকিৎসক দাবি করতেন, তারা এমন ওষুধ তৈরি করেছেন যা মানুষের উত্তেজনা ও অস্থিরতা কমিয়ে দিতে পারে। আবার কেউ কেউ মনে করতেন, সব অনুভূতি দমন করাই রাগের সমাধান। তবে অনেক ধর্মতাত্ত্বিক এই ধারণার বিরোধিতা করেন। তাদের মতে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হলে অনুভূতি থাকা জরুরি।

দৃষ্টিভঙ্গির শক্তি: নিয়ন্ত্রণের মূল চাবিকাঠি
১২শ শতাব্দীর সন্ন্যাসীরা রাগ নিয়ন্ত্রণের একটি ভিন্ন পথ দেখিয়েছিলেন। তাদের মতে, রাগের আগুন অনুভব করা খারাপ নয়, তবে সেটিকে নিয়ন্ত্রণ করাই আসল বিষয়। হঠাৎ বিস্ফোরণের বদলে শান্ত থাকা এবং পরিস্থিতিকে বৃহত্তর দৃষ্টিতে দেখা উচিত। এই অনুশীলনের মাধ্যমে মানুষ শিখতে পারে, কোন লড়াইটি সত্যিই প্রয়োজনীয় এবং কোনটি এড়িয়ে যাওয়া উচিত।

Gluttony Detail From The Table of The Seven Deadly Sins & The Four Last  Things C1480 Poster Print by Hieronymus Bosch - 36 x 24 in. - Large -  Walmart.com

আজকের প্রেক্ষাপটে প্রাসঙ্গিকতা
মধ্যযুগের এই চিন্তাধারা আজও প্রাসঙ্গিক। আধুনিক মনোবিজ্ঞান যেখানে রাগকে পরিস্থিতির প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখে, সেখানে মধ্যযুগের ধারণা আমাদের মনে করিয়ে দেয়—রাগের ভেতরেও এক ধরনের আকর্ষণ কাজ করে। তাই রাগকে দমন নয়, বরং বোঝা এবং নিয়ন্ত্রণ করাই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর পথ।

রাগকে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারলে এটি অন্যায়ের বিরুদ্ধে শক্তি জোগাতে পারে। কিন্তু নিয়ন্ত্রণ হারালে এটি ধ্বংস ডেকে আনে। তাই ইতিহাসের শিক্ষা একটাই—রাগকে নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখুন, রাগের নিয়ন্ত্রণে নিজেকে নয়।