জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পরও স্বস্তি পাচ্ছেন না সাধারণ মানুষ। রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় পেট্রোল পাম্পে এখনও দীর্ঘ লাইন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা—সব মিলিয়ে ভোগান্তি যেন কমছেই না। অন্যদিকে এলপিজি সিলিন্ডারও বাজারে বিক্রি হচ্ছে নির্ধারিত দামের চেয়ে অনেক বেশি দামে, যা ভোক্তাদের জন্য নতুন চাপ তৈরি করেছে।
জ্বালানির দাম বাড়লেও বাস্তবে সংকট কাটেনি
সরকার সম্প্রতি জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে। অকটেন, পেট্রোল, ডিজেল ও কেরোসিন—সব ধরনের জ্বালানির দাম লিটারপ্রতি বাড়ানো হয়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। বিশ্ববাজারে মূল্য বৃদ্ধির কারণ দেখিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাশাপাশি সরবরাহ বাড়ানোর ঘোষণাও দেওয়া হয়।
কিন্তু মাঠপর্যায়ে তার প্রতিফলন মিলছে না বলে অভিযোগ গ্রাহকদের। অনেক পাম্পে সীমিত সরবরাহ থাকায় লাইনে অপেক্ষার সময় বেড়েছে। অনেকেই অফিসের কাজ ফেলে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকছেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা।

পাম্পে দীর্ঘ লাইন, ক্ষোভ বাড়ছে চালকদের
রাজধানীর বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে এখনও দেখা যাচ্ছে দীর্ঘ যানবাহনের সারি। মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার ও অন্যান্য যানবাহনের চালকরা তেল পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করছেন। কেউ কেউ রাতভর পাম্পে অবস্থান করছেন তেল নেওয়ার আশায়।
চালকদের অভিযোগ, দাম বাড়লেও সরবরাহের বাস্তব চিত্র বদলায়নি। বরং আগের মতোই সীমিত পরিমাণে তেল দেওয়া হচ্ছে, যা চাহিদার তুলনায় যথেষ্ট নয়।
সরকারি উদ্যোগেও পরিস্থিতির উন্নতি নেই
সংকট মোকাবিলায় সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। পাম্পে তদারকি বাড়ানো, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, এমনকি বিশেষ অ্যাপ চালুর মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে এসব উদ্যোগ সত্ত্বেও পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি।
সরকারের দাবি, দেশে জ্বালানির পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। তবে অতিরিক্ত কেনাকাটার প্রবণতা এবং কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর মজুতদারির কারণে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে।

এলপিজির দাম নাগালের বাইরে
জ্বালানি তেলের পাশাপাশি এলপিজির বাজারেও অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে। সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে অনেক বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে ১২ কেজি সিলিন্ডার। কোথাও কোথাও অতিরিক্ত ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা বেশি দিতে হচ্ছে গ্রাহকদের।
বিক্রেতাদের দাবি, তারা নিজেরাও বেশি দামে কিনতে বাধ্য হচ্ছেন, তাই কম দামে বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না। অন্যদিকে ভোক্তারা বলছেন, নির্ধারিত দামে এলপিজি পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ
জ্বালানি খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘোষণার সঙ্গে বাস্তবতার মিল না থাকায় মানুষের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও আতঙ্ক বাড়ছে। তাদের মতে, চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ নিশ্চিত না হলে এই সংকট কাটানো কঠিন হবে।
তারা আরও বলেন, বাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনতে হলে বাস্তবভিত্তিক সরবরাহ বাড়ানো এবং তদারকি জোরদার করা জরুরি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 

















