০৯:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন অবরোধ মানার আহ্বান, জয়শঙ্করকে কড়া বার্তা রুবিওর ব্রিটেনে ছুরি হামলার পর উত্তেজনা, উসকে দিচ্ছে কট্টর ডানপন্থী রাজনীতি ভারতে পাচার হওয়া ১৪ বাংলাদেশির দেশে ফেরা, বেনাপোল দিয়ে হস্তান্তর পাকিস্তানের উত্তর ওয়াজিরিস্তানে ৭২ ঘণ্টায় নিহত ২১ জঙ্গি, মোট নিহত ৪৮ লস অ্যাঞ্জেলেসে বিশ্বকাপের মঞ্চ মাতালেন লিসা, কেপপ ইতিহাসে নতুন অধ্যায় ইউটিউব থেকে হলিউড: নতুন প্রজন্মের পরিচালকরা কি বদলে দিচ্ছেন সিনেমার ভবিষ্যৎ? গুগলের নতুন এআই চিপে স্যামসাং? ‘আইসফিশ’ প্রকল্পে বড় চুক্তির আলোচনায় দুই প্রযুক্তি জায়ান্ট ইরান যুদ্ধের পর বদলে যাওয়া বাস্তবতা: চুক্তির দ্বারপ্রান্তে থেকেও কেন কঠিন অবস্থানে তেহরান পশ্চিমবঙ্গে তল্লাশি বিতর্ক: অভিষেকের কালীঘাটের বাড়িতে পুলিশি অভিযানে মমতার অভিযোগ পশ্চিমবঙ্গের নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্রকে ঘিরে ইডির তল্লাশি

৫ পুলিশকে আহত করে হাতকড়া পরা অবস্থায় ছিনিয়ে নেওয়া আওয়ামী লীগ নেতা, চরাঞ্চলে দুঃসাহসিক হামলা

  • Sarakhon Report
  • ০৬:৫৫:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
  • 48

ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে পুলিশের হেফাজত থেকে হাতকড়া পরা অবস্থায় এক আওয়ামী লীগ নেতাকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা নতুন করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অভিযুক্ত মো. কবির খানকে গ্রেপ্তারের পরপরই তার অনুসারীদের হামলায় আহত হয়েছেন পাঁচ পুলিশ সদস্য।

ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার ভোরে চরভদ্রাসন উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চলের মুন্সিরচর বাজার এলাকায়। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে কবির খানকে আটক করেছিল পুলিশ। কিন্তু গ্রেপ্তারের মুহূর্তেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

গ্রেপ্তারের পরই হামলা

পুলিশ জানায়, সন্ত্রাস দমন আইনে অভিযুক্ত এই নেতাকে আটক করে হাতকড়া পরানো মাত্রই তিনি ধস্তাধস্তি শুরু করেন। তার চিৎকারে আশপাশ থেকে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি লাঠিয়াল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে জড়ো হয়।

এরপর তারা পুলিশের ওপর হামলা চালায়। কিল-ঘুষি ও লাঠিসোটার আঘাতে পুলিশ সদস্যদের আহত করে হাতকড়া পরা অবস্থাতেই কবির খানকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। ঘটনাটি এতটাই দ্রুত ঘটে যে পুলিশ প্রতিরোধ গড়ে তোলার সুযোগ পায়নি।

আহত পাঁচ পুলিশ সদস্য

এই হামলায় চরভদ্রাসন থানার পাঁচ সদস্য আহত হয়েছেন। তারা হলেন উপপরিদর্শক রফিকুল ইসলাম, উপপরিদর্শক কাজী রিপন, উপপরিদর্শক মোজাম্মেল হক বিশ্বাস, সহকারী উপপরিদর্শক সোহেল গাজী এবং কনস্টেবল উজ্জ্বল হোসেন।

আহতদের স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনের আঘাত গুরুতর বলে জানা গেছে।

অভিযুক্তের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, কবির খানের বিরুদ্ধে আগে থেকেই একাধিক মামলা ও অভিযোগ রয়েছে। তিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও পরিচিত।

স্থানীয় সূত্র বলছে, দীর্ঘদিন ধরে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ থাকলেও তিনি প্রভাবশালী হওয়ায় আইন প্রয়োগে নানা বাধা তৈরি হতো।

দুর্গম চরাঞ্চলে অভিযান

পুলিশ জানায়, অভিযুক্তকে ধরতে ভোরে পদ্মা নদী পাড়ি দিয়ে দুর্গম চরাঞ্চলে যেতে হয়। সেখানে ওঁত পেতে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

কিন্তু গ্রেপ্তারের পরপরই যে ধরনের সংগঠিত হামলা হয়েছে, তা পরিকল্পিত ছিল বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।

মামলা প্রক্রিয়াধীন

ঘটনার পর পুলিশ নতুন করে মামলা প্রস্তুত করছে। হামলাকারীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানা গেছে।

এই ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরাপত্তা ও অভিযানের কৌশল নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে স্থানীয় পর্যায়ে।

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন অবরোধ মানার আহ্বান, জয়শঙ্করকে কড়া বার্তা রুবিওর

৫ পুলিশকে আহত করে হাতকড়া পরা অবস্থায় ছিনিয়ে নেওয়া আওয়ামী লীগ নেতা, চরাঞ্চলে দুঃসাহসিক হামলা

০৬:৫৫:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে পুলিশের হেফাজত থেকে হাতকড়া পরা অবস্থায় এক আওয়ামী লীগ নেতাকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা নতুন করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অভিযুক্ত মো. কবির খানকে গ্রেপ্তারের পরপরই তার অনুসারীদের হামলায় আহত হয়েছেন পাঁচ পুলিশ সদস্য।

ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার ভোরে চরভদ্রাসন উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চলের মুন্সিরচর বাজার এলাকায়। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে কবির খানকে আটক করেছিল পুলিশ। কিন্তু গ্রেপ্তারের মুহূর্তেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

গ্রেপ্তারের পরই হামলা

পুলিশ জানায়, সন্ত্রাস দমন আইনে অভিযুক্ত এই নেতাকে আটক করে হাতকড়া পরানো মাত্রই তিনি ধস্তাধস্তি শুরু করেন। তার চিৎকারে আশপাশ থেকে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি লাঠিয়াল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে জড়ো হয়।

এরপর তারা পুলিশের ওপর হামলা চালায়। কিল-ঘুষি ও লাঠিসোটার আঘাতে পুলিশ সদস্যদের আহত করে হাতকড়া পরা অবস্থাতেই কবির খানকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। ঘটনাটি এতটাই দ্রুত ঘটে যে পুলিশ প্রতিরোধ গড়ে তোলার সুযোগ পায়নি।

আহত পাঁচ পুলিশ সদস্য

এই হামলায় চরভদ্রাসন থানার পাঁচ সদস্য আহত হয়েছেন। তারা হলেন উপপরিদর্শক রফিকুল ইসলাম, উপপরিদর্শক কাজী রিপন, উপপরিদর্শক মোজাম্মেল হক বিশ্বাস, সহকারী উপপরিদর্শক সোহেল গাজী এবং কনস্টেবল উজ্জ্বল হোসেন।

আহতদের স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনের আঘাত গুরুতর বলে জানা গেছে।

অভিযুক্তের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, কবির খানের বিরুদ্ধে আগে থেকেই একাধিক মামলা ও অভিযোগ রয়েছে। তিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও পরিচিত।

স্থানীয় সূত্র বলছে, দীর্ঘদিন ধরে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ থাকলেও তিনি প্রভাবশালী হওয়ায় আইন প্রয়োগে নানা বাধা তৈরি হতো।

দুর্গম চরাঞ্চলে অভিযান

পুলিশ জানায়, অভিযুক্তকে ধরতে ভোরে পদ্মা নদী পাড়ি দিয়ে দুর্গম চরাঞ্চলে যেতে হয়। সেখানে ওঁত পেতে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

কিন্তু গ্রেপ্তারের পরপরই যে ধরনের সংগঠিত হামলা হয়েছে, তা পরিকল্পিত ছিল বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।

মামলা প্রক্রিয়াধীন

ঘটনার পর পুলিশ নতুন করে মামলা প্রস্তুত করছে। হামলাকারীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানা গেছে।

এই ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরাপত্তা ও অভিযানের কৌশল নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে স্থানীয় পর্যায়ে।