তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে মুখোমুখি হয়েছে ক্ষমতাসীন ডিএমকে জোট এবং বিরোধী এআইএডিএমকে নেতৃত্বাধীন জোট। দুই পক্ষই মূলত বর্তমান বিধায়কদের ওপর ভরসা রাখলেও, কৌশলে স্পষ্ট পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে, ২০২১ সালে হেরে যাওয়া প্রার্থীদের নিয়ে এআইএডিএমকে বেশি ঝুঁকি নিচ্ছে, যেখানে ডিএমকে নতুন মুখে জোর দিচ্ছে।
পটভূমি: ২০২১ সালের ফলাফল
২০২১ সালের নির্বাচনে ডিএমকে জোট ২৩৪ আসনের মধ্যে ১৫৯টি জিতে স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়। অন্যদিকে, এআইএডিএমকে জোট পায় ৭৫টি আসন। ডিএমকে নিজে ১৮৮টি আসনে লড়ে ১৩৩টি জিতেছিল, আর কংগ্রেস, ভিসিকে ও বাম দলগুলোও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে।
ডিএমকে জোট: নতুন মুখ ও বাছাই করা পুনরাবৃত্তি
এই নির্বাচনে ডিএমকে জোট তাদের প্রার্থী নির্বাচনে তুলনামূলক সতর্ক ও হিসেবি পথ নিয়েছে। প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ বর্তমান বিধায়ককে আবার মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, তবে যেসব আসনে আগেরবার হেরেছিল, সেখানে নতুন প্রার্থী আনা হয়েছে।
মোট ১০০ জন প্রার্থীকে পুনরায় সুযোগ দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ৯৮ জন বর্তমান বিধায়ক এবং ১২ জন আগেরবার হারা প্রার্থী। এদের মধ্যে কয়েকজনকে নতুন আসনে স্থানান্তরও করা হয়েছে। পুনর্নির্বাচিত বিধায়কদের বড় অংশই আগেরবার ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ বা তার বেশি ভোট পেয়েছিলেন এবং গড় জয়ের ব্যবধান ছিল প্রায় ২৮ হাজারের বেশি ভোট।
অন্যদিকে, ডিএমকে জোট ২০২১ সালের ১২৪ জন প্রার্থীকে বাদ দিয়েছে। এর মধ্যে ৬১ জন বর্তমান বিধায়কও রয়েছেন। বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, বাদ পড়া বিধায়কদের গড় জয়ের ব্যবধান তুলনামূলক কম ছিল, যা প্রার্থী বদলের পেছনে বড় কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে।
জোট সমীকরণেও পরিবর্তন এসেছে। নতুন শরিক হিসেবে ডিএমডিকে যুক্ত হওয়ায় আসন ভাগাভাগিতে পরিবর্তন হয়েছে এবং ডিএমকে নিজে কিছু আসন ছেড়েছে।
এআইএডিএমকে জোট: হারা প্রার্থীদের ওপর বড় ভরসা
এআইএডিএমকে জোট ২০২১ ও ২০২৪ সালের পরাজয়ের ধাক্কা কাটাতে প্রার্থী বাছাইয়ে বড় ধরনের রদবদল করেছে। তবুও তারা উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আগেরবার দ্বিতীয় হওয়া প্রার্থীদের আবার সুযোগ দিয়েছে।

মোট ৮৫ জন প্রার্থীকে পুনরায় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ৪৯ জন বর্তমান বিধায়ক এবং ৫৫ জন আগেরবার দ্বিতীয় স্থান পাওয়া প্রার্থী। অনেককেই নতুন আসনে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—পুনর্নির্বাচিত বিধায়কদের মধ্যে খুব কমই ৫০ শতাংশের বেশি ভোট পেয়েছিলেন। অধিকাংশই ৪০ থেকে ৫০ শতাংশের মধ্যে ছিলেন, যা জোটের দুর্বলতাকেই ইঙ্গিত করে। তাদের গড় জয়ের ব্যবধানও তুলনামূলক কম ছিল।
এই জোট ১৩০ জন প্রার্থীকে বাদ দিয়েছে, যার মধ্যে ২৬ জন বর্তমান বিধায়কও রয়েছেন। লক্ষণীয় বিষয়, বাদ পড়া কিছু বিধায়ক আগেরবার তুলনামূলক ভালো ব্যবধানে জিতেছিলেন, তবুও দল তাদের ওপর আস্থা রাখেনি।
জোট কাঠামো ও আসন বণ্টনে পরিবর্তন
এআইএডিএমকে জোটে নতুন শরিক হিসেবে এএমএমকে যুক্ত হয়েছে, যার জন্য আসন সমীকরণে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। বিজেপি ও অন্যান্য শরিকদের আসন সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে।
একই সঙ্গে, জোটের মধ্যে আসন পুনর্বণ্টনের হার ডিএমকের তুলনায় বেশি। মোট ৬৫টি আসনে পরিবর্তন আনা হয়েছে, যা ডিএমকে জোটের তুলনায় অনেক বেশি।
মূল বিশ্লেষণ: দুই জোটের কৌশলের পার্থক্য
ডিএমকে জোট যেখানে অতীত পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে শক্তিশালী প্রার্থী ধরে রাখার পাশাপাশি দুর্বল জায়গায় নতুন মুখ আনছে, সেখানে এআইএডিএমকে জোট তুলনামূলক বেশি ঝুঁকি নিয়ে আগেরবার হারা প্রার্থীদের ওপর নির্ভর করছে।
এই কৌশলগত পার্থক্যই নির্বাচনের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















