পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে এসে অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেছেন, আগামী দুই দশক ধরে বঙ্গ, অসম ও বিহারের রাজনীতিতে জনসংখ্যাগত পরিবর্তনই হবে ভোটের মূল নির্ধারক। তিনি দাবি করেন, এই তিন রাজ্যের “স্থানীয় ও আদিবাসী মানুষ” প্রতিদিন চাপে পড়ছেন, যা রাজধানী থেকে বোঝা যায় না।
জনসংখ্যা ইস্যুতে জোর
শর্মার মতে, জনসংখ্যাগত পরিবর্তনই আগামী নির্বাচনে বড় ইস্যু হয়ে উঠবে। তিনি বলেন, এই পরিবর্তনের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর উপর, যারা নিজেদের অস্তিত্ব নিয়ে উদ্বিগ্ন।
‘বাংলাদেশি মুসলিম’ প্রসঙ্গ
ভোটে মেরুকরণের অভিযোগ নাকচ করে শর্মা জানান, তিনি “হিন্দু-মুসলিম” বিভাজনের কথা বলেন না, বরং “বাংলাদেশি মুসলিম” প্রসঙ্গ তোলেন। তার অভিযোগ, অনেক সময় এই শব্দটি বাদ দিয়ে তার বক্তব্যকে ভিন্নভাবে তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে তিনি বলেন, রাজ্যের “দেশজ মুসলিম ও হিন্দুদের” অনুভূতিও উপেক্ষিত হচ্ছে।
তৃণমূলের বিরুদ্ধে অভিযোগ
শাসক তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে শর্মার অভিযোগ, দলটি সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কের উপর নির্ভর করছে। তার দাবি, রাজ্যে মুসলিম জনসংখ্যার বড় অংশ তৃণমূলের পক্ষে থাকায় তারা শুরু থেকেই সুবিধাজনক অবস্থানে থাকে।
নারী সংরক্ষণ বিল ইস্যু
সম্প্রতি সংসদে আনা বিল নিয়ে বিরোধীদের অবস্থান নিয়েও কটাক্ষ করেন শর্মা। তার মতে, নারী সংরক্ষণ সংক্রান্ত বিলের বিরোধিতা করে বিরোধীরা বড় ভুল করেছে। তিনি বলেন, তরুণী, ছাত্রছাত্রী ও কর্মজীবী নারীদের কাছে তাদের জবাব দিতে হবে।
মুখ্যমন্ত্রী পদ নিয়ে অবস্থান
বিজেপি জিতলে মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন, সে প্রশ্নে শর্মা স্পষ্ট করে জানান, দলের ভিতরে ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষার জায়গা কম। নেতৃত্বের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। তিনি বলেন, দলের শীর্ষ নেতৃত্ব যখন সিদ্ধান্ত নেবে, তখনই মুখ্যমন্ত্রীর নাম ঘোষণা হবে।
অর্থনীতি ও উন্নয়ন নিয়ে দাবি
বঙ্গের অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিয়ে প্রশ্নের জবাবে শর্মা বলেন, অসম বর্তমানে দেশের দ্রুততম বর্ধনশীল অর্থনীতির মধ্যে রয়েছে। তার দাবি, অসমের বৃদ্ধির হার ১৫-১৬ শতাংশ, যেখানে পশ্চিমবঙ্গের বৃদ্ধি ৯-১০ শতাংশের মধ্যে। স্বাস্থ্য ব্যবস্থার তুলনায়ও তিনি অসমকে এগিয়ে রাখেন।
ভোটের সময়সূচি
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন দুই দফায় অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম দফা ২৩ এপ্রিল এবং দ্বিতীয় দফা ২৯ এপ্রিল। এর আগে ৯ এপ্রিল অসমে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















