০৮:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
আমরা চেষ্টা করছি, যেন বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ না হয় -অর্থমন্ত্রী রেড কার্পেটে নতুন ঢেউ: উদীয়মান ডিজাইনারদের দখলে ফ্যাশনের আলো একক জোটে ঝুঁকে না পড়ার পরামর্শ, কূটনীতিতে ভারসাম্যই বাংলাদেশের বড় চ্যালেঞ্জ চাঁপাইনবাবগঞ্জে টোল দ্বন্দ্বে সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ, ভোগান্তিতে যাত্রীরা আমেরিকার অস্ত্র ফুরিয়ে যাচ্ছে প্রেস ক্লাব কর্মচারী ইউনিয়নে নতুন নেতৃত্ব, সভাপতি জাহাঙ্গীর ও সাধারণ সম্পাদক রুহুল টাইম ১০০ গালায় হেইলি বিবারের ঝলক: নব্বইয়ের ক্যালভিন ক্লেইন স্টাইলের নতুন ব্যাখ্যা বিশ্ববাজারে চোখ চীনা ইভি নির্মাতাদের, জ্বালানি সংকটেই নতুন সুযোগ টাইম ১০০ তম গালায় কেপ ট্রেন্ডের ঝলক, ভ্যালেন্টিনো পোশাকে আলাদা করে নজর কাড়লেন ডাকোটা জনসন এআই ভবিষ্যৎ নিয়ে আদালতে মুখোমুখি মাস্ক-অল্টম্যান, ঝুঁকিতে ওপেনএআই ও স্পেসএক্সের বিশাল আইপিও

স্তালিন–রাহুল একমঞ্চে না ওঠায় জল্পনা, জোটে কি দূরত্ব?

  • Sarakhon Report
  • ০৭:৫৪:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
  • 34

তামিলনাড়ুর বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে প্রত্যাশা ছিল—দ্রাবিড় মুন্নেত্র কাঝাগম (ডিএমকে) নেতা এম কে স্তালিন এবং কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী একসঙ্গে মঞ্চ ভাগ করবেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। দুই শীর্ষ নেতার এই অনুপস্থিতি ঘিরে জোটের ভেতরে কোনও অস্বস্তি তৈরি হয়েছে কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে।

সম্পর্কের উষ্ণতা, কিন্তু মঞ্চে দূরত্ব

এর আগে রাহুল গান্ধী যখন তামিলনাড়ু সফরে এসেছিলেন, তখন তাঁর আচরণ ও বক্তব্যে স্তালিনের প্রতি গভীর আন্তরিকতা দেখা গিয়েছিল। তিনি স্তালিনকে ‘দাদা’ বলে সম্বোধন করেছিলেন এবং তাঁর জন্য মিষ্টি কিনে উপহারও দেন। পাল্টা স্তালিনও রাহুলকে ভবিষ্যতের ভারতের মুখ এবং আশার প্রতীক বলে প্রশংসা করেছিলেন। অতীতে বিরোধী জোটের নেতৃত্বে রাহুলের নামও প্রথম প্রস্তাব করেছিলেন স্তালিন।

তবুও এই নির্বাচনী প্রচারে দুই নেতা একসঙ্গে দেখা গেলেন না। কংগ্রেস ও ডিএমকের তরফে বলা হয়েছে, সময়সূচির জটিলতার কারণেই এটি সম্ভব হয়নি।

ব্যস্ততা না কি কৌশলগত দূরত্ব?

কংগ্রেস সূত্রে জানা গেছে, রাহুল গান্ধী দিল্লিতে সংসদের কাজ এবং দলীয় বৈঠকে ব্যস্ত থাকায় দীর্ঘ সময় তামিলনাড়ুতে প্রচার চালাতে পারেননি। তিনি মাত্র দুই দিনের সফরে ছয়টি সভা করেন। অন্যদিকে স্তালিন শেষ দিন পর্যন্ত চেন্নাইয়ে প্রচারে ব্যস্ত ছিলেন।

তবে দলের একাংশ মনে করছে, শুধু সময়ের সমস্যা নয়—কিছুটা কৌশলগত দূরত্বও থাকতে পারে। যদিও দুই দলই প্রকাশ্যে কোনও মতভেদের কথা অস্বীকার করেছে এবং কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে স্তালিনের সঙ্গে মঞ্চ ভাগ করেছেন বলে তারা তুলে ধরছে।

জোট রাজনীতিতে টানাপোড়েন

জোটের ভেতরে আসন বণ্টন এবং ক্ষমতা ভাগাভাগি নিয়েও কিছু অসন্তোষ রয়েছে। কংগ্রেসের প্রাথমিক দাবি ছিল ক্ষমতা ভাগাভাগির, যা ডিএমকে মানেনি। তবুও জোট টিকিয়ে রাখতে কংগ্রেস আপস করেছে বলে দলের নেতাদের বক্তব্য।

কংগ্রেসের একাংশ মনে করছে, নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে উঠে আসা বিজয়ের দলের সঙ্গে জোট করলে ভবিষ্যতে বেশি লাভ হতে পারত। তাদের মতে, এটি একটি হারানো সুযোগ।

অন্য নেতাদের সঙ্গে স্তালিনের সক্রিয়তা

যেখানে রাহুলের সঙ্গে মঞ্চ ভাগ হয়নি, সেখানে স্তালিন অন্য বিরোধী নেতাদের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে প্রচার করেছেন। তিনি অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও তেজস্বী যাদবের সঙ্গে সভা ও রোডশো করেছেন। তেজস্বী যাদবকে তিনি আদর্শগত সহযোদ্ধা বলে উল্লেখ করেছেন এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের লড়াইয়ে একসঙ্গে থাকার বার্তা দিয়েছেন।

রাজনৈতিক সমীকরণের নতুন ইঙ্গিত

এই নির্বাচনে আরও একটি দিক নজরে এসেছে—যেখানে আগে সম্পর্ক খারাপ ছিল, সেই এআইএডিএমকে নেতা এডাপাডি কে পলানিস্বামী এবং টিটিভি দিনাকরণ একসঙ্গে এসেছেন। টিকে থাকার লড়াই তাদের এক করেছে।

সব মিলিয়ে, স্তালিন ও রাহুলের মঞ্চ ভাগ না করা শুধু সময়সূচির সমস্যা, নাকি জোট রাজনীতির ভেতরে সূক্ষ্ম পরিবর্তনের ইঙ্গিত—তা নিয়ে আলোচনা জোরদার হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

আমরা চেষ্টা করছি, যেন বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ না হয় -অর্থমন্ত্রী

স্তালিন–রাহুল একমঞ্চে না ওঠায় জল্পনা, জোটে কি দূরত্ব?

০৭:৫৪:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

তামিলনাড়ুর বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে প্রত্যাশা ছিল—দ্রাবিড় মুন্নেত্র কাঝাগম (ডিএমকে) নেতা এম কে স্তালিন এবং কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী একসঙ্গে মঞ্চ ভাগ করবেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। দুই শীর্ষ নেতার এই অনুপস্থিতি ঘিরে জোটের ভেতরে কোনও অস্বস্তি তৈরি হয়েছে কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে।

সম্পর্কের উষ্ণতা, কিন্তু মঞ্চে দূরত্ব

এর আগে রাহুল গান্ধী যখন তামিলনাড়ু সফরে এসেছিলেন, তখন তাঁর আচরণ ও বক্তব্যে স্তালিনের প্রতি গভীর আন্তরিকতা দেখা গিয়েছিল। তিনি স্তালিনকে ‘দাদা’ বলে সম্বোধন করেছিলেন এবং তাঁর জন্য মিষ্টি কিনে উপহারও দেন। পাল্টা স্তালিনও রাহুলকে ভবিষ্যতের ভারতের মুখ এবং আশার প্রতীক বলে প্রশংসা করেছিলেন। অতীতে বিরোধী জোটের নেতৃত্বে রাহুলের নামও প্রথম প্রস্তাব করেছিলেন স্তালিন।

তবুও এই নির্বাচনী প্রচারে দুই নেতা একসঙ্গে দেখা গেলেন না। কংগ্রেস ও ডিএমকের তরফে বলা হয়েছে, সময়সূচির জটিলতার কারণেই এটি সম্ভব হয়নি।

ব্যস্ততা না কি কৌশলগত দূরত্ব?

কংগ্রেস সূত্রে জানা গেছে, রাহুল গান্ধী দিল্লিতে সংসদের কাজ এবং দলীয় বৈঠকে ব্যস্ত থাকায় দীর্ঘ সময় তামিলনাড়ুতে প্রচার চালাতে পারেননি। তিনি মাত্র দুই দিনের সফরে ছয়টি সভা করেন। অন্যদিকে স্তালিন শেষ দিন পর্যন্ত চেন্নাইয়ে প্রচারে ব্যস্ত ছিলেন।

তবে দলের একাংশ মনে করছে, শুধু সময়ের সমস্যা নয়—কিছুটা কৌশলগত দূরত্বও থাকতে পারে। যদিও দুই দলই প্রকাশ্যে কোনও মতভেদের কথা অস্বীকার করেছে এবং কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে স্তালিনের সঙ্গে মঞ্চ ভাগ করেছেন বলে তারা তুলে ধরছে।

জোট রাজনীতিতে টানাপোড়েন

জোটের ভেতরে আসন বণ্টন এবং ক্ষমতা ভাগাভাগি নিয়েও কিছু অসন্তোষ রয়েছে। কংগ্রেসের প্রাথমিক দাবি ছিল ক্ষমতা ভাগাভাগির, যা ডিএমকে মানেনি। তবুও জোট টিকিয়ে রাখতে কংগ্রেস আপস করেছে বলে দলের নেতাদের বক্তব্য।

কংগ্রেসের একাংশ মনে করছে, নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে উঠে আসা বিজয়ের দলের সঙ্গে জোট করলে ভবিষ্যতে বেশি লাভ হতে পারত। তাদের মতে, এটি একটি হারানো সুযোগ।

অন্য নেতাদের সঙ্গে স্তালিনের সক্রিয়তা

যেখানে রাহুলের সঙ্গে মঞ্চ ভাগ হয়নি, সেখানে স্তালিন অন্য বিরোধী নেতাদের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে প্রচার করেছেন। তিনি অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও তেজস্বী যাদবের সঙ্গে সভা ও রোডশো করেছেন। তেজস্বী যাদবকে তিনি আদর্শগত সহযোদ্ধা বলে উল্লেখ করেছেন এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের লড়াইয়ে একসঙ্গে থাকার বার্তা দিয়েছেন।

রাজনৈতিক সমীকরণের নতুন ইঙ্গিত

এই নির্বাচনে আরও একটি দিক নজরে এসেছে—যেখানে আগে সম্পর্ক খারাপ ছিল, সেই এআইএডিএমকে নেতা এডাপাডি কে পলানিস্বামী এবং টিটিভি দিনাকরণ একসঙ্গে এসেছেন। টিকে থাকার লড়াই তাদের এক করেছে।

সব মিলিয়ে, স্তালিন ও রাহুলের মঞ্চ ভাগ না করা শুধু সময়সূচির সমস্যা, নাকি জোট রাজনীতির ভেতরে সূক্ষ্ম পরিবর্তনের ইঙ্গিত—তা নিয়ে আলোচনা জোরদার হয়েছে।